
চলতি মৌসুমে পটুয়াখালী জেলায় আমন ধানের বাম্পার ফলন হয়েছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগের অনুপস্থিতি, সময়মতো বৃষ্টি ও অনুকূল আবহাওয়ায় জেলার ধান উৎপাদন ছাড়িয়ে গেছে জেলা কৃষি অফিসের নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকেও। সব মিলিয়ে সোনালী ধানে ভরে উঠেছে মাঠ, আর তাতে স্বস্তি ও আনন্দ ফুটে উঠেছে কৃষকদের মুখে।
জেলার বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে দেখা গেছে-দূরদূরান্ত পর্যন্ত বিস্তীর্ণ ফসলি জমিতে থোকা থোকা পাকা ধান দোল খাচ্ছে বাতাসে। আগের বছরগুলোর তুলনায় এবছর ধানে চিটা কম, ফলন বেশি এবং গাছও হয়েছে স্বাস্থ্যবান। এতে উৎপাদন খরচের তুলনায় লাভের আশা করছেন কৃষকরা। পটুয়াখালী সদর উপজেলার মাদারবুনিয়া ইউনিয়নের কৃষক আলমগীর বিশ্বাস বলেন, ‘এ বছর আমাগো গেছে বছরগুলার তুলনায় অনেক ভালো ধান হইছে। কোনো বইন্না-বাদল অইছিল না, তাই ফলনও ভালো পাইছি।’
একই এলাকার আরেক কৃষক রুবেল বিশ্বাস বলেন, ‘৮ কাঠা জমিতে ধান দিছিলাম। আলহামদুলিল্লাহ, যা ফলন পাইছি তা আগের সব বছরের চাইতে বেশি। এর আগে আমন ধান এত্ত ভালো কখনো হয় নাই।’বিজ্ঞাপন হাসিমাখা মুখে ধান কাটতে কাটতে কৃষক ইলিয়াস বিশ্বাস বলেন, ‘এবার ধানে চিটা খুবই কম। সার-ওষুধে যে টাকা খরচ হইছে, তার চাইতে কয়েক গুণ বেশি লাভ হইবে। পুরো কোলায় (ফসলের মাঠ) তাকাইলে খালি ধান আর ধানই দ্যাহা যায়। সবাই আমরা অনেক খুশি।’
জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে পটুয়াখালী জেলায় আমন ধান আবাদে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ১ লাখ ৯০ হাজার হেক্টর জমিতে। এর বিপরীতে আবাদ হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৮৯ হাজার ৮৩৫ হেক্টর জমিতে। প্রতি হেক্টরে ধান উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৩.৫৬ মেট্রিক টন। তবে বাম্পার ফলনের কারণে কৃষি বিভাগ ধারণা করছে, হেক্টরপ্রতি উৎপাদন লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৫ থেকে ৬ শতাংশ বেশি হতে পারে। সে হিসেবে চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ধান উৎপাদন দাঁড়াতে পারে প্রায় ৬ লাখ ৬২ হাজার মেট্রিক টন, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রাকে উল্লেখযোগ্যভাবে ছাড়িয়ে যাবে।
