পশ্চিম এশিয়ার সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্ত উৎপাদন খাতের জন্য সরকারি সহায়তা চায় এফএমএম

Malaysia news
Malaysia news
পশ্চিম এশিয়ার চলমান সংঘাতের প্রভাবে বাড়তি ব্যয়, সরবরাহ জটিলতা ও পরিচালনাগত অনিশ্চয়তায় বিপর্যস্ত মালয়েশিয়ার উৎপাদন খাতকে রক্ষায় জরুরি সরকারি সহায়তা চেয়েছে ফেডারেশন অব মালয়েশিয়ান ম্যানুফ্যাকচারিং (এফএমএম)।

সংগঠনটির সভাপতি জ্যাকব লি চোর কক জানান, ক্রমবর্ধমান খরচ, সরবরাহ বিলম্ব এবং অনিশ্চয়তা ইতোমধ্যেই উৎপাদন ও রপ্তানি কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমন্বিত সরকারি উদ্যোগ প্রয়োজন বলে তিনি উল্লেখ করেন।

ব্যবসায়িক চাপ কমাতে এফএমএম কয়েকটি নির্দিষ্ট প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে পুনরায় আমদানি করা রপ্তানি পণ্যের ওপর বিক্রয় কর ও আমদানি শুল্ক থেকে অব্যাহতি দেওয়া, যদি সেগুলো দেশে পুনরায় বিক্রি না করা হয়।

এছাড়া, সংকটজনিত লজিস্টিক ব্যয়ের ওপর চলতি ও পরবর্তী মূল্যায়ন বছরে দ্বৈত কর ছাড় (ডাবল ট্যাক্স ডিডাকশন) দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি। বর্তমানে নির্মাতাদের যুদ্ধঝুঁকি সারচার্জ, অতিরিক্ত পরিবহন খরচ এবং উচ্চ সামুদ্রিক বীমা প্রিমিয়ামের মতো ব্যয় বহন করতে হচ্ছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দাবি হলো যেসব শিল্পখাতে বিকল্প জ্বালানির সুযোগ নেই, সেসব জ্বালানি-নির্ভর খাতে ডিজেল ভর্তুকি সম্প্রসারণ করা। বিশেষ করে সাবাহ ও সারাওয়াক অঞ্চলে সেবা দেওয়া সামুদ্রিক লজিস্টিক অপারেটরদের অগ্রাধিকার দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।

কাঁচামালের স্থিতিশীল সরবরাহ নিশ্চিত করতে, এফএমএম প্রস্তাব করেছে জাতীয় জ্বালানি উৎপাদক ও বড় পরিশোধনাগারগুলোকে অভ্যন্তরীণ বাজারে গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামাল বরাদ্দে অগ্রাধিকার দিতে। পাশাপাশি বিকল্প উৎস থেকে আমদানির ক্ষেত্রে অস্থায়ী কর ও শুল্ক ছাড় দেওয়ার সুপারিশ করা হয়েছে।

জ্যাকব লি বলেন, দেশের জিডিপির ২৩.৪ শতাংশ অবদান রাখা এই খাতকে উপেক্ষা করার সুযোগ নেই, বিশেষ করে যখন থাইল্যান্ড, ভারত ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলো ইতোমধ্যেই সরকার-শিল্প সমন্বয়ে পদক্ষেপ নিচ্ছে।

তিনি আরও জানান, এই সংকট একযোগে জ্বালানি ব্যয়, লজিস্টিক, কাঁচামাল সরবরাহ, কর ব্যবস্থা এবং বন্দর পরিচালনায় প্রভাব ফেলছে। এফএমএম সরকারকে সহযোগিতা করে কার্যকর সমাধান তৈরিতে অংশীদার হতে প্রস্তুত রয়েছে।



ভালো সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ ফিডটি অনুসরণ করুন


Google News