পুলিশের তদন্ত নিয়ে অনেক প্রশ্ন: আইজিপি

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৩০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৩৮ পিএম

পুলিশ মহাপরিদর্শক (আইজিপি) আলী হোসেন ফকির বলেছেন, পুলিশের তদন্ত নিয়ে অনেক প্রশ্ন। পুলিশ মানুষের স্বাধীনতা খর্ব করে, পুলিশ অপরাধীদের বিরুদ্ধে অ্যাকশনে যায়। তদন্তের দীর্ঘ প্রক্রিয়ার মাধ্যমে পুলিশ যতই ভালো কাজ করুক না কেন, কেউ ভালো বলবে না। যার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত সে বলবে পুলিশ খারাপ। কিন্তু ভালো মানুষ বলবে হয়তো, পুলিশ কী করেছে জানি না। সত্য-মিথ্যা বুঝি না, এগুলা বোঝা দরকার। পুলিশের কিছু বিষয় আছে, যার কারণে সমাজে পুলিশের বিপক্ষেও জনমত গড়ে উঠেছে।

আজ সোমবার সন্ধ্যায় বাংলা একাডেমির কবি শামসুর রহমান হলে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) উপ-পুলিশ কমিশনার ‌মো. শাহজাহান হোসেনের ‘বাদীই যখন আসামি’ বইয়ের মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

তিনি বলেন, ‘বাদী যখন আসামি’—আমরা বুঝতেই পারছি আসলে সব জায়গায় কিন্তু নৈতিকতার প্রশ্নটাই এসে যায়। যখন একটা মিথ্যা মামলা করা হয়, তখন বাদীই কিন্তু আসামি হয়ে যায়।

তিনি বলেন, যে যেখানে আছেন পুলিশকে সহযোগিতা করেন। নৈতিকতার সঙ্গে পুলিশ কাজ করুক। তা না হলে কিন্তু ২ লাখ ১৫ হাজার পুলিশ দিয়ে ১৮ কোটি মানুষের নিরাপত্তা দেওয়া সম্ভব হবে না। সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কার্যক্রমে তাদের সহযোগিতা করতে হবে। তারা কোনও অন্যায় করলে সেইটা দেখার দায়িত্ব সরকারের। সেগুলা নিশ্চিত হবে। এ ব্যাপারে নিশ্চিত থাকতে পারেন।

আইজিপি বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর পর বিশ্বাসযোগ্য, গ্রহণযোগ্য একটা নির্বাচনের মাধ্যমে গণতান্ত্রিক সরকার পেয়েছি। তাদের (সরকার) এক নম্বর এজেন্ডা হচ্ছে আইন-শৃঙ্খলা। কারণ আইন-শৃঙ্খলা যদি ঠিক না থাকে, বিদেশি বিনিয়োগ আসবে না, অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে না। আমাদের ব্যাংক শূন্য, শেয়ার মার্কেট শূন্য, সর্বক্ষেত্রে আমাদের অর্থনৈতিক বিপর্যয়। এই বিপর্যয় থেকে যদি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, জীবনযাত্রার মান উন্নয়ন করতে হয়, তাহলে আইন-শৃঙ্খলাই সঠিকভাবে পালন করতে হবে। না  হলে কোনো উন্নয়ন হবে না।

এ সময় তিনি বলেন, আইন নিজের হাতে তুলে নেওয়া যাবে না। যে মব কালচার—কোথাও কিছু ঘটার আগেই রাস্তা বন্ধ করে দেওয়া। ক্ষতিটা কার হচ্ছে? পুলিশেরও হচ্ছে না। সমাজের প্রত্যেকটি লোকেরই সময় নষ্ট হচ্ছে। এই ঢাকা শহরে ট্রাফিক কনজেশনের কারণে প্রতি বছর ৫০০ কোটি টাকা লোকসান হচ্ছে সরকারের। প্রতিদিন কি পুলিশ ম্যানেজ করবে? সাংবাদিক সমাজ বলেন, স্টুডেন্ট বলেন, শিক্ষক বলেন, সমাজের সর্বস্তরের মানুষকে নৈতিকতার সঙ্গে কাজ করতে হবে। তাহলেই না উন্নয়ন হবে এবং সুখে শান্তিতে বসবাস করতে পারব। দেশকে সহযোগিতা করেন। আপনারা মানবিক পুলিশ চান, পুলিশ যে জনগণের বন্ধু—সেই পুলিশ দিতে সক্ষম হব।

আইজিপি বলেন, অনেক সময় একটা ঘটনা ঘটেছে, এটার শাস্তি সাথে সাথে দিয়ে দিতে হবে, বিচার করতে হবে। বিচার একটা দীর্ঘ প্রক্রিয়া, সবাই জানে। তারপরেও কিন্তু পুলিশকে পিড়াপিড়ি করেন, যে এখনই জরুরি ভিত্তিতে করতে হবে। কিন্তু সবকিছুরই একটা নির্ধারিত সময় লাগে।

এ সময় নিজের সঙ্গে ঘটে যাওয়া একটা ঘটনার বর্ণনা দিতে গিয়ে আইজিপি বলেন, শেরাটন হোটেলের সামনে একটি বাস পোড়ানো মামলায় পুরস্কার ঘোষণা করা হয়। মামলার যে তদন্তকারী কর্মকর্তা, একজন আসামি ধরে নিয়ে আসলে সে বাস পুড়িয়েছি বলে স্বীকার করে। আদালতে ১৬৪ ধারায় বাস পুড়ানোর বিষয়টি স্বীকার করেন। মামলার উকিল বললেন এই আসামি রমনা থানার কাস্টডিতে ছিল। তাহলে বুঝেন, চাকরি কমিশনারেরও থাকে না, আমারও থাকে না, ডিসি ডিবিরও থাকে না।

মোড়ক উম্মোচন অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার অতিরিক্ত আইজিপি মো. সারওয়ার, অতিরিক্ত আইজিপি (ক্রাইম এন্ড অপস) খোন্দকার রফিকুল ইসলাম, পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মোস্তফা কামালসহ ঊধ্বর্তন পুলিশ কর্মকর্তারা। এ ছাড়া আরও উপস্থিত ছিলেন নর্দন ইউনিভার্সিটির উপাচার্য ড. মিজানুর রহমান, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্রিমিনোলজি বিভাগের চেয়ারম্যান রেজাউল ইসলাম সোহাগ প্রমুখ।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর