পে কমিশনের সভা বৃহস্পতিবার, গ্রেড কমানোসহ যেসব সিদ্ধান্ত আসতে পারে

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ১০:০৬ পিএম

নবম পে-স্কেল নিয়ে স্থগিত থাকা জাতীয় বেতন কমিশনের পূর্ণ কমিশন সভা বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) সচিবালয়ে কমিশনের সভাকক্ষে অনুষ্ঠিত হবে। সভা শুরু হবে দুপুর ১২টায়। মঙ্গলবার (৬ জানুয়ারি) পে-কমিশনের এক সদস্য গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান। তিনি জানান, সভায় গ্রেড সংখ্যা ও বেতন কাঠামোসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, চলতি মাসের মাঝামাঝি কমিশনের চূড়ান্ত সুপারিশ সরকারের কাছে জমা দেয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে গ্রেড সংখ্যা এবং বেতনবৈষম্য কমানোর মতো কিছু স্পর্শকাতর বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাকি থাকায় কাজ চলছে পুরোদমে।

পে-কমিশন সূত্রে জানা যায়, নবম পে-স্কেলের গ্রেড সংখ্যা কত হবে এবং সর্বনিম্ন ও সর্বোচ্চ বেতন কত নির্ধারণ করা হবে–এসব বিষয়ে এখনও সদস্যদের মধ্যে আলোচনা চলছে। এসব অমীমাংসিত বিষয় নিরসনে আরও অন্তত দুটি পূর্ণাঙ্গ কমিশন সভার প্রয়োজন হবে। কমিশনের সব সদস্য ঐকমত্যে পৌঁছানোর পরই চূড়ান্ত রিপোর্ট পেশ করা হবে।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিশনের এক গুরুত্বপূর্ণ সদস্য গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মধ্য-জানুয়ারির মধ্যে সুপারিশ জমা দেওয়ার একটি প্রচ্ছন্ন বাধ্যবাধকতা রয়েছে। সব ঠিক থাকলে এর আগেও রিপোর্ট জমা দেয়া হতে পারে। তবে পরবর্তী পূর্ণাঙ্গ কমিশন সভার পর সুপারিশ জমা দেয়ার নির্দিষ্ট তারিখটি আরও স্পষ্ট করে বলা সম্ভব হবে।

জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বর্তমান ২০টি গ্রেড নিয়ে কমিশন তিনটি ভিন্ন চিন্তা করছে। একদল সদস্য চাচ্ছেন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড বহাল রেখে কেবল বেতন-ভাতা বৃদ্ধি করতে। তবে বড় একটি অংশ এই ২০ গ্রেডের ঘোর বিরোধী। তাদের মতে, গ্রেড কমিয়ে ১৬টিতে আনা যৌক্তিক। আবার আরেকটি পক্ষ মনে করছে, বেতনবৈষম্য পুরোপুরি নির্মূল করতে হলে গ্রেড সংখ্যা নামিয়ে আনতে হবে ১৪টিতে। এই গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে আনা বা বাড়ানোর বিতর্কেই মূলত এখন গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন।

বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সংস্থা, দফতর ও সংগঠন থেকে প্রাপ্ত শত শত প্রস্তাব ও মতামত চুলচেরা বিশ্লেষণ করছে পে-কমিশন। প্রতিবেদন লেখার প্রাথমিক কাজ চললেও একটি বাস্তবসম্মত ও টেকসই সুপারিশ তৈরির স্বার্থে প্রতিটি প্রস্তাব গভীরভাবে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। এই প্রক্রিয়াটি শেষ করতে আরও কয়েক দিন সময়ের প্রয়োজন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, নতুন বছরের শুরুতেই পে-কমিশনের এই সুপারিশ জমা হলে সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য তা হবে এক বড় নতুন বছরের উপহার। এখন সবার নজর কমিশনের পরবর্তী সভার দিকে, যেখানে নির্ধারিত হবে গ্রেড ও বেতনের নতুন কাঠামো।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন