পে-স্কেল ইস্যুতে আজও অবস্থান-বিক্ষোভ সরকারি চাকরিজীবীদের

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৫৫ এএম

৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশসহ সাত দফা দাবি আদায়ে ঘোষিত কর্মসূচির আজ দ্বিতীয় দিন। কর্মসূচি অনুযায়ী, আজও সরকারি চাকরিজীবীরা নিজ নিজ দপ্তরের সামনে দুই ঘণ্টাব্যাপী অবস্থান, বিক্ষোভ ও কর্মবিরতি পালন করবেন। এই কর্মসূচি আগামী ৩ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত চলবে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি মানা না হলে আগামী ৬ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’ অভিমুখে ‘ভূখা মিছিল’ করার আল্টিমেটামও দেওয়া হয়েছে।

এর আগে, শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে প্রতিবাদ সমাবেশ থেকে এসব কর্মসূচি ঘোষণা করে বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী দাবি আদায় ঐক্য পরিষদ। সকাল ১০টায় শুরু হওয়া সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন সংগঠনের মুখ্য সমন্বয়ক মো. ওয়ারেছ আলী এবং স্বাগত বক্তব্য দেন সমন্বয়ক মো. মাহমুদুল হাসান।

সমাবেশে জোটভুক্ত বিভিন্ন সংগঠনের নেতারা দ্রুততম সময়ের মধ্যে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট প্রকাশ এবং তা ১ জানুয়ারি থেকে কার্যকর করার জোর দাবি জানান। একই সঙ্গে জ্বালানি উপদেষ্টার সাম্প্রতিক বক্তব্য প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়।

বক্তারা বলেন, ‘গত ৭ বছর ধরে শান্তিপূর্ণ আন্দোলনের পরেও সরকার কর্মচারীদের দাবি আমলে নিচ্ছে না। গত ৫ ডিসেম্বর তারিখে লক্ষাধিক কর্মচারীর উপস্থিতিতে মহাসমাবেশের পর আশা করা হয়েছিল ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে গেজেট প্রকাশ হবে, কিন্তু তা হয়নি। ২১ জানুয়ারি কমিশন রিপোর্ট প্রদানের পর অর্থ উপদেষ্টা গেজেট প্রকাশ না করে কমিটি গঠনের নামে কালক্ষেপণ করছেন। এছাড়া জ্বালানি উপদেষ্টা তার এক মন্তব্যে ‘বর্তমান সরকার পে-স্কেল বাস্তবায়ন করবে না এবং আন্দোলন স্তিমিত রাখতে কমিশন গঠন করা হয়েছিল’ বলে যে বক্তব্য দিয়েছেন তাতে প্রজাতন্ত্রের কর্মচারীদের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা ছড়িয়ে পড়েছে।’

প্রধান উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে বক্তারা আরও বলেন, ‘কর্মচারীরা বর্তমানে পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছেন। তাই অবিলম্বে বাজারমূল্যের সাথে সংগতি রেখে ১৪ এর ভিত্তিতে ১২টি গ্রেডে সর্বনিম্ন ৩৫,০০০ টাকা ও সর্বোচ্চ ১,৪০,০০০ টাকা বেতন নির্ধারণ করে ৯ম পে-স্কেলের গেজেট জারি করতে হবে।’

একই সঙ্গে ২০১৫ সালের পে-স্কেলের গেজেটে হরণকৃত তিনটি টাইম স্কেল ও সিলেকশন গ্রেড পুনর্বহাল, বেতন জ্যেষ্ঠতা রক্ষা, স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানে গ্রাচুইটির পাশাপাশি পেনশন প্রবর্তন এবং গ্রাচুইটির হার ৯০ শতাংশের পরিবর্তে ১০০ শতাংশ নির্ধারণের দাবি জানানো হয়।

অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে—ব্লক পোস্টে কর্মরতদের ৫ বছর পরপর উচ্চতর গ্রেড প্রদান, কারিগরি কাজে নিয়োজিতদের টেকনিক্যাল মর্যাদা দান, চাকরির শেষ ধাপে উন্নীতদের বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি অব্যাহত রাখা, উন্নয়ন প্রকল্পের চাকরিকাল গণনার বৈষম্যমূলক আদেশ বাতিল, রেশন পদ্ধতি চালু এবং সচিবালয়ের মতো সব দপ্তরে এক ও অভিন্ন নিয়োগবিধি প্রণয়ন।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি, বাংলাদেশ সরকারি কর্মচারী কল্যাণ ফেডারেশন, ১১–২০ গ্রেড সরকারি চাকুরিজীবী ফোরাম, বাংলাদেশ আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী ফেডারেশন, ঢাকা ও চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী সমিতি, বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্ট কর্মকর্তা-কর্মচারী কল্যাণ সমিতি এবং প্রাথমিক শিক্ষক ঐক্য পরিষদসহ জোটভুক্ত ৩৫টিরও বেশি সংগঠনের নেতারা।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর