দেশের প্রায় ১৫ লাখ সরকারি কর্মচারীর দীর্ঘ ১১ বছরের প্রতীক্ষার অবসান হতে যাচ্ছে। সরকার আগামী ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে নতুন তথা ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়নের লক্ষ্যে বিশেষ বরাদ্দ রাখার নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। সচিব পর্যায়ের একটি উচ্চপদস্থ কমিটির সুপারিশের ভিত্তিতে এই উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে জানা গেছে।
জানা যায়, জীবনযাত্রার ব্যয় ও মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সরকারি কর্মচারীদের বেতন কাঠামো পুনর্বিন্যাসের জন্য গঠিত সচিব পর্যায়ের কমিটি তাদের প্রাথমিক পর্যবেক্ষণ জমা দিয়েছে।
কমিটির সুপারিশে বলা হয়েছে, এককালীন বড় আর্থিক চাপ সামাল দিতে নতুন পে-স্কেলটি ‘ধাপে ধাপে’ বাস্তবায়ন করা হতে পারে।
আসন্ন বাজেটে এই লক্ষ্যে একটি বিশেষ বরাদ্দ রাখার প্রস্তাব করা হয়েছে, যা কার্যকর হলে সরকারি কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের আর্থিক অনিশ্চয়তা দূর হবে।
২০১৫ সালে সর্বশেষ ৮ম পে-স্কেল ঘোষণার পর দীর্ঘ ১১ বছর অতিক্রান্ত হয়েছে। সাধারণত প্রতি পাঁচ বছর অন্তর নতুন বেতন কাঠামো ঘোষণা করার রেওয়াজ থাকলেও বিভিন্ন বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক পরিস্থিতির কারণে তা সম্ভব হয়নি।
দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি ও মুদ্রাস্ফীতির কারণে বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যম গ্রেডের কর্মচারীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে রয়েছেন। পাশাপাশি সরকারি কর্মচারী সমন্বয় পরিষদসহ বিভিন্ন সংগঠন দীর্ঘদিন ধরে বেতন বৈষম্য দূরীকরণ ও নতুন স্কেলের দাবি জানিয়ে আসছে।
অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ৯ম পে-স্কেল বাস্তবায়িত হলে সরকারি খাতে ক্রয়ক্ষমতা বাড়বে, যা অভ্যন্তরীণ অর্থনীতিকে গতিশীল করতে পারে। তবে এর ফলে সরকারের ওপর বড় ধরনের রাজস্ব চাপ সৃষ্টি হবে। সচিব কমিটির ‘ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন’ প্রস্তাবটি মূলত বাজেট ঘাটতি নিয়ন্ত্রণ এবং কর্মচারীদের সন্তুষ্টির মধ্যে ভারসাম্য রাখার একটি কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে।
