কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে বিশ্বজুড়ে প্রতিষ্ঠানগুলোর আগ্রহ ও বিনিয়োগ দ্রুত বাড়লেও, প্রয়োজনীয় ডেটা অবকাঠামো এখনো যথেষ্ট শক্তিশালী হয়নি এমনটাই উঠে এসেছে ক্লাউ-ডে-রা-এর সাম্প্রতিক এক বৈশ্বিক জরিপে। জরিপ অনুযায়ী, ৯৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যে তাদের মূল ব্যবসায়িক কার্যক্রমে এআই যুক্ত করেছে এবং ৮৫ শতাংশের একটি স্পষ্ট ডেটা কৌশল রয়েছে। তবে প্রায় ৮০ শতাংশ প্রতিষ্ঠানই স্বীকার করেছে যে, বিভিন্ন প্ল্যাটফর্মে ডেটা অ্যাক্সেস সীমিত হওয়ায় তাদের এআই ও ডেটা উদ্যোগ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি নতুন ধরনের “এআই প্রস্তুতির বিভ্রম” তৈরি করছে—যেখানে প্রতিষ্ঠানগুলো নিজেদের এআই ব্যবহারে প্রস্তুত মনে করলেও, বাস্তবে গুরুত্বপূর্ণ ডেটা সমস্যাগুলো এখনো সমাধান হয়নি।
এআই এখন ব্যবসার বিভিন্ন স্তরে সংযুক্ত হলেও বিনিয়োগের প্রত্যাশিত ফল পাওয়া কঠিন হয়ে উঠছে। জরিপে অংশগ্রহণকারীরা প্রধান চ্যালেঞ্জ হিসেবে উল্লেখ করেছেন ডেটার মানের ঘাটতি (২২%), ব্যয় বৃদ্ধি (১৬%) এবং বিদ্যমান কার্যপ্রবাহের সঙ্গে দুর্বল সমন্বয় (১৫%)। এসব বিষয় দেখায়, এআই বিনিয়োগকে বাস্তব ব্যবসায়িক ফলাফলে রূপান্তর করা এখনো জটিল একটি প্রক্রিয়া।
এছাড়া অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতাও বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। প্রায় ৭৩ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, পারফরম্যান্সজনিত সীমাবদ্ধতা তাদের কার্যক্রমে প্রভাব ফেলছে, যা বিচ্ছিন্ন পরিবেশে এআই বিস্তারের জটিলতাকে আরও স্পষ্ট করে।
জরিপে ৮৪ শতাংশ উত্তরদাতা তাদের প্রতিষ্ঠানের ডেটার নির্ভুলতা ও সামঞ্জস্য নিয়ে আত্মবিশ্বাস প্রকাশ করলেও, বাস্তবে অনেক ক্ষেত্রে ডেটা সাইলো, অসামঞ্জস্যপূর্ণ মান এবং সীমিত প্রবেশাধিকার সমস্যাগুলো থেকেই যাচ্ছে।
খাতভেদে ডেটা প্রস্তুতির চিত্রও ভিন্ন। উদাহরণস্বরূপ, টেলিযোগাযোগ খাতের ৫৪ শতাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন তারা তাদের ডেটার অবস্থান সম্পর্কে সম্পূর্ণ ধারণা রাখেন। বিপরীতে, আর্থিক খাতে এই হার ৩০ শতাংশ এবং সরকারি খাতে ৩১ শতাংশ।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পরীক্ষামূলক পর্যায় থেকে বাস্তব প্রয়োগে এআইয়ের অগ্রগতির এই সময়ে ডেটা প্রস্তুতিই হবে সফলতা নির্ধারণের মূল সূচক। যেসব প্রতিষ্ঠান তাদের ডেটা সম্পূর্ণভাবে ব্যবহার ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারবে, তারাই টেকসই ও নির্ভরযোগ্য এআই বাস্তবায়নে এগিয়ে থাকবে।
জরিপে আরও বলা হয়েছে, এআইয়ের পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাতে শুধু উচ্চাকাঙ্ক্ষা নয়, প্রয়োজন বাস্তবসম্মত ডেটা প্রস্তুতি। যারা এই ঘাটতি পূরণ করতে পারবে, তারাই আগামী দিনের স্মার্ট ব্যবসা নেতৃত্ব দেবে।
উল্লেখ্য, ক্লাউ-ডে-রা -এর কমিশনে এবং রি-সার্চ-স্কেপ পরিচালিত এই জরিপে ১,০০০-এর বেশি কর্মীসংবলিত প্রতিষ্ঠানের ১,২৭০ জন তথ্যপ্রযুক্তি নেতার মতামত নেওয়া হয়। জরিপটি ২২ জানুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্যন্ত আমেরিকা, ইউরোপ, মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা ও এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চলে পরিচালিত হয়।
