ফেনীর ছাগলনাইয়া মডেল মসজিদে খাদেম পদে নিয়োগ পাওয়া আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে বয়স জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। চাকরির যোগ্যতা অর্জনের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রে প্রকৃত বয়সের চেয়ে ১০ বছর কম দেখানোয় তার বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করেছেন স্থানীয় প্রবাসী নুর আলম।
এ বিষয়ে তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চেয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালকসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়। অভিযোগকারীর দাবি, আব্দুল হান্নানের প্রকৃত জন্মতারিখ ১৯৮৪ সালের ১৬ মে। ২০০৭ সালে করা তার জন্মনিবন্ধনেও একই জন্মতারিখ উল্লেখ রয়েছে। তবে পরবর্তীতে জাতীয় পরিচয়পত্রে জন্মসন ১৯৮৪-এর পরিবর্তে ১৯৯৪ করা হয়েছে। এতে তার বয়স ১০ বছর কম দেখানো হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
নথিপত্রের তথ্য অনুযায়ী, ফুলগাজী উপজেলার আমজাদহাট ইউনিয়নের বসন্তপুর গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হান্নানের নিবন্ধনে জন্ম তারিখ ১৬ মে ১৯৮৪। অন্যদিকে জাতীয় পরিচয়পত্রে একই জন্মতারিখের সঙ্গে জন্মসাল উল্লেখ করা হয়েছে ১৯৯৪।
অভিযোগকারীর দাবি, পারিবারিক বয়সের হিসাবের সঙ্গেও জাতীয় পরিচয়পত্রের তথ্যের অসঙ্গতি রয়েছে। আট ভাই-বোনের মধ্যে আব্দুল হান্নান পঞ্চম হলেও জাতীয় পরিচয়পত্রের বর্তমান তথ্য অনুযায়ী তার বয়স ছোট ভাইদের তুলনায়ও কম দেখানো হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্ত ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা চেয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশনের মহাপরিচালক, জেলা নির্বাচন অফিস ও উপজেলা প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কাছে লিখিতভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে বলে জানান অভিযোগকারী নুর আলম।
তিনি বলেন, গত ৯ সেপ্টেম্বর দেওয়া অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে তদন্তের আশ্বাস দেওয়া হলেও কোথাও থেকে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি হয়নি। নুর আলম অভিযোগ করেন, বিষয়টি নিয়ে অভিযোগ করার পর আব্দুল হান্নান তার মৃত মাকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আব্দুল হান্নানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি ভাই-বোনদের মধ্যে নিজের অবস্থান পঞ্চম বলে স্বীকার করেন। তবে জন্মনিবন্ধনে ১৯৮৪ এবং জাতীয় পরিচয়পত্রে ১৯৯৪- দুই নথিতে জন্মসনের পার্থক্যের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি স্পষ্ট কোনো ব্যাখ্যা দেননি। চাকরি পাওয়ার জন্য বয়স কম দেখানো হয়েছে কি না- এমন প্রশ্নের পর তিনি ফোনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করে দেন।
এ বিষয়ে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ফেনীর উপপরিচালক নাজমুস দৈনিক কালবেলাকে বলেন, আব্দুল হান্নানের বিরুদ্ধে একটি অভিযোগ আমরা হাতে পেয়েছি এবং তদন্ত রিপোর্ট হাতে আসলে আমরা ব্যবস্থা নেব।
ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার সৈয়দ ফারহানা পৃথা জানান, আব্দুল হান্নানের অভিযোগের বিষয় নিয়ে তদন্ত হচ্ছে, চাকরির ক্ষেত্রে তথ্য লুকোচুরির প্রমাণ পেলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
