দেশের বেকারত্ব নিরসন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংক কর্তৃক সম্প্রতি চালু হওয়া ‘উদ্যোগ (UDYOG)’ ঋণ ও অনুদান কর্মসূচিতে উদ্যোক্তার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২৮ থেকে বাড়িয়ে ৩৫ বছর করার আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংক। বৃহস্পতিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতি (ডুজা) কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের পক্ষ থেকে সরকারের নীতিনির্ধারকদের প্রতি এই আহ্বান জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংকের সভাপতি ইমতিয়াজ আহমেদ, সহ-সভাপতি ডা. উম্মে হানি পৃথ্বী, চিফ কোঅর্ডিনেটর ডা. এ কে এম আহসান হাবিব নাফি, ডিরেক্টর কাজী সাদ্দাম হোসেন, ডিরেক্টর মাহবুব, ডিরেক্টর নাসরিন আক্তার সহ সংগঠনের অন্যান্য সদস্যবৃন্দ।
এ সময় সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা জানান, প্রান্তিক পর্যায়ের তরুণদের চাকরিপ্রার্থী থেকে চাকরিদাতায় রূপান্তর করার এই রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নিঃসন্দেহে যুগান্তকারী। তবে উদ্যোক্তার সর্বোচ্চ বয়সসীমা ২৮ বছর নির্ধারণ করার ফলে বেকার যুবকরা সুযোগ পাবেনা। এই বয়সসীমা পুনর্বিবেচনা করে ১৮ থেকে ৩৫ বছর করা না হলে এর প্রকৃত সুফল থেকে দেশের বিশাল একটি সম্ভাবনাময় যুবশক্তি বঞ্চিত হবে।
দেশের আর্থসামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে বক্তারা বলেন, তরুণরা সাধারণত ২৮ থেকে ৩০ বছর পর্যন্ত সরকারি ও বেসরকারি চাকরির পেছনে মেধা ও সময় ব্যয় করে। নির্দিষ্ট বয়স পার হওয়ার পর চাকরিতে প্রবেশ করতে ব্যর্থ হলে তারা পুঁজির অভাবে নতুন ব্যবসাও শুরু করতে পারে না। এই অধিক বয়সী বেকারদের ঋণ ও অনুদান সুবিধা দেওয়া হলে দেশে বেকারত্বের হার জ্যামিতিক হারে কমে আসবে। এ সময় বৈশ্বিক উদাহরণ ও গবেষণার তথ্য তুলে ধরে জানানো হয়, হার্ভার্ড বিজনেস রিভিউ এবং এমআইটি-এর যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে, ২০-এর কোঠায় থাকা তরুণদের চেয়ে ৩০-এর কোঠায় থাকা উদ্যোক্তাদের ব্যবসার সফলতার হার ও স্থায়িত্ব বহুগুণ বেশি। কেনিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকার মতো দেশে যুব উদ্যোক্তা তহবিলের বয়সসীমা ৩৫ বছর পর্যন্ত উন্মুক্ত রাখা এবং ভারতের স্টার্টআপ প্রকল্পগুলোতে বয়সের ঊর্ধ্বসীমা না রেখে নতুন আইডিয়াকে প্রাধান্য দেওয়ার ফলে সেসব দেশে কর্মসংস্থানে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে। জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রাতেও তরুণদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে বাস্তব অভিজ্ঞতার ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ ইয়ুথ থিংক ট্যাংকের সাধারণ সম্পাদক শেখ রিফাদ মাহমুদ বিবৃতিতে জানান, বাংলাদেশের ‘জাতীয় যুব নীতি ২০১৭’ অনুযায়ী ১৮ থেকে ৩৫ বছর বয়সীদের তরুণ হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হলেও, যুবকদের জন্য প্রণীত এই অর্থনৈতিক কর্মসূচিতে বয়সসীমা ২৮ বছরে আটকে রাখা যৌক্তিক নয়। তিনি বিগত সময়ে রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটের কারণে সরকারি চাকরির বাজারে সুযোগ হারানো যুবকদের অর্থনীতির মূল স্রোতে সম্পৃক্ত করার জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানান।
সংবাদ সম্মেলন থেকে বেশ কয়েকটি সুনির্দিষ্ট প্রস্তাবনা তুলে ধরা হয়। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রকল্পের প্রারম্ভিক যোগ্যতার বয়সসীমা অবিলম্বে ৩৫ বছর করা, যারা ২৯ থেকে ৩৫ বছর বয়সে ছোট পরিসরে ব্যবসা চালু রেখেছেন তাদের উদ্যোগ সম্প্রসারণের জন্য তহবিলের নির্দিষ্ট অংশ বরাদ্দ রাখা, প্রযুক্তিভিত্তিক উদ্যোগের ক্ষেত্রে অর্থায়নের পাশাপাশি প্রাতিষ্ঠানিক আইটি সাপোর্ট নিশ্চিত করা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অনাকাঙ্ক্ষিত ব্যবসায়িক মন্দায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত উদ্যোক্তাদের ঋণ পরিশোধের কিস্তির সময়সীমা শিথিল করার মানবিক সুযোগ রাখা।
