গাইবান্ধা সদরে ১০ হাজার টাকার জন্য নিজ সন্তানকে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক বাবার বিরুদ্ধে।
নিখোঁজ শিশুটির নাম ফাতেমা আক্তার জান্নাত। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের দক্ষিণ ধানঘড়া এলাকায় গিয়ে এসব তথ্য পাওয়া যায়।
শিশুটির মা রুমানা আক্তারের অভিযোগ, গত ১৭ জুলাই বিকেলে তার স্বামী হামিদুল মিয়া বাবার বাড়িতে আসেন। এ সময় ১১ মাস বয়সী মেয়ে ফাতেমাকে জুস কিনে দেওয়ার কথা বলে কোলে নিয়ে বাইরে বের হন। এরপর শিশুটিকে নিয়ে তিনি আর বাড়িতে ফেরেননি।
পরে স্বামীকে একাধিকবার মুঠোফোনে কল করলেও তিনি ফোন ধরেননি। ঘটনার দুই দিন পর হামিদুল ফোন করে মেয়েকে ফেরত দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে শিশুটিকে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয় বলেও দাবি তার।
রুমানা বলেন, ‘আমি কোনো কিছু চাই না, শুধু আমার সন্তানকে ফিরে চাই। আমার স্বামী আমাকে সন্তান বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দিয়েছে। আমার সন্তান কোথায় আছে, কী অবস্থায় আছে- কিছুই জানি না। এ নিয়ে আমি খুব দুশ্চিন্তায় আছি।’
স্বজন ও স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে হামিদুল মিয়া ও রুমানা আক্তারের বিয়ে হয়। বিয়ের প্রথম কয়েক মাস সংসার ভালোভাবে চললেও পরে হামিদুল মাদক সেবন করে রুমানাকে মারধর করতেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সন্তান জন্মের পর নির্যাতনের মাত্রা বেড়ে গেলে মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে আসেন রুমানা।
রুমানার অভিযোগ, তার স্বামী মাদকাসক্ত। মাদকের টাকা জোগাড় করতেই মেয়েকে নিয়ে আত্মগোপনে গেছেন তিনি। তবে শিশুটিকে কোথায় রাখা হয়েছে কিংবা তাকে কোথাও বিক্রি করা হয়েছে কি না, সে বিষয়ে এখনো নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
রুমানার মা রোশনা বেগম বলেন, ‘এই ছেলের সঙ্গে মেয়ের বিয়ে দিয়ে পাপ করেছি। ১১ মাসের ছোট্ট মেয়েকে বিক্রি করার হুমকি দেয়। ১০ হাজার টাকা চেয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, এত টাকা কোথা থেকে দেব? আমি আমার নাতনিকে উদ্ধার চাই।’
স্থানীয় বাসিন্দা আলম বলেন, হামিদুল বিভিন্ন ধরনের মাদক সেবন করেন বলে এলাকায় অভিযোগ রয়েছে। তিনি দ্রুত শিশুটিকে উদ্ধার করে মায়ের কোলে ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি জানান।
এদিকে মেয়েকে উদ্ধারের জন্য আদালতের আশ্রয় নেওয়ার পাশাপাশি থানায় অভিযোগ করেছেন রুমানা। কিন্তু এখনো শিশুটিকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়নি। এতে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা বেড়েছে।
এ বিষয়ে গাইবান্ধা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল হুদা বলেন, ‘অভিযোগ পেলে বিষয়টি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিশুটিকে উদ্ধারেরও চেষ্টা করা হবে।’
