বিএনপির দাবির পর দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটের ডিজাইনে পরিবর্তন আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) আব্দুর রহমানেল মাছউদ। নতুন ডিজাইনের পোস্টাল ব্যালটে কেবল চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ও নির্বাচনি প্রতীক থাকবে।
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে এক অনানুষ্ঠানিক বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেয় নির্বাচন কমিশন। বৈঠকে বাংলাদেশ সরকারি মুদ্রণালয় (বিজি প্রেস), সিকিউরিটি প্রিন্টিং প্রেস, মুদ্রণ ও প্রকাশনা অধিদপ্তরসহ সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোর কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বিদেশে পাঠানো পোস্টাল ব্যালটে সব রাজনৈতিক দলের প্রতীক থাকলেও, দেশের অভ্যন্তরে পাঠানো ব্যালটে শুধুমাত্র প্রার্থীর নাম ও প্রতীক থাকবে।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ যুগান্তরকে বলেন, ‘চূড়ান্ত প্রার্থী ও তাদের প্রতীক সংবলিত পোস্টাল ব্যালট ছাপার বিষয়ে আমরা সক্রিয়ভাবে ভাবছি। দেশের ভেতরে যারা নিবন্ধন করেছেন, তাদের জন্য এই ব্যালট প্রযোজ্য। এজন্য আইন বা বিধিমালায় কোনো সংশোধনের প্রয়োজন নেই, পরিপত্র দিয়েই সমাধান করা যাবে।’
বিএনপি দীর্ঘদিন ধরেই পোস্টাল ব্যালটে দলের প্রতীক ধানের শীষ প্রিন্ট হওয়ায় আপত্তি জানিয়েছে। সর্বশেষ বৃহস্পতিবার বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমদের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে এই সমস্যা তুলে ধরেন। দলের পক্ষ থেকে দেশের অভ্যন্তরের পোস্টাল ব্যালটে কেবল প্রার্থীর নাম ও প্রতীক রাখার অনুরোধ করা হয়।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে দেশে-বিদেশে মোট ১৫ লাখ ৩৩ হাজার ৬৮৩ জন ভোটার পোস্টাল ব্যালটের মাধ্যমে ভোট দেবেন। এর মধ্যে দেশের ভেতরে ৭ লাখ ৬১ হাজার ১৩৬ জন নিবন্ধন করেছেন। তাদের মধ্যে সরকারি চাকরিজীবী ৫ লাখ ৭৫ হাজার ২০০, নির্বাচনি দায়িত্বপ্রাপ্ত ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৪২, আনসার-ভিডিপি ১০ হাজার ১০ এবং কারাবন্দি ৬ হাজার ২৮৪ জন।
নতুন পোস্টাল ব্যালট ছাপতে বিজি প্রেস জানিয়েছে, চূড়ান্ত প্রার্থীর নাম ও প্রতীক পাওয়ার পর ৩ থেকে ৫ দিনের মধ্যে ব্যালট প্রস্তুত করা সম্ভব।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী, ২০ জানুয়ারি প্রার্থী চূড়ান্ত হবে এবং ২১ জানুয়ারি তাদের নির্বাচনি প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে। এরপরই পোস্টাল ব্যালট প্রিন্ট করা শুরু হবে এবং ডাক বিভাগের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে বিতরণ ও রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ফেরত পাঠানো হবে।
