বিজিবির ধা য়ায় পালাতে গিয়ে ‘ডাকাতের কবলে চোরাকারবারি’, তীব্র গোলাগুলি

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১১:৪২ পিএম

কক্সবাজারের উখিয়া-টেকনাফ সীমান্তে পৃথক দুই অভিযানে ৯ লাখ ৮০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় চোরাকারবারিদের সঙ্গে বিজিবির গুলি বিনিময়ের ঘটনাও ঘটে। বিজিবির ধাওয়া খেয়ে পালানোর পথে ডাকাতের কবলে পড়ে চোরাকারবারিরা। পরে সেখানেও ডাকাত ও চোরাকারবারি দলের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) উখিয়া ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম এ তথ্যের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। এর আগে মঙ্গলবার দিবাগত রাতে উখিয়ার হ্নীলা বিওপি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে চৌধুরীপাড়া স্লুইচ গেইট সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। এদিকে পৃথক দুই অভিযানে উদ্ধার হওয়া ইয়াবা সাম্প্রতিক সময়ের সবচেয়ে বড় চালান বলে জানিয়েছে বিজিবি।

বিজিবি সূত্র জানায়, মঙ্গলবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রামু সেক্টরের সেক্টর কমান্ডারের নির্দেশনায় অতিরিক্ত পরিচালক (অপারেশন)-এর নেতৃত্বে রামু সেক্টর, উখিয়া ও টেকনাফ ব্যাটালিয়নের সমন্বয়ে একটি যৌথ টহল দল উখিয়ার হ্নীলা বিওপি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্বে চৌধুরীপাড়া স্লুইচ গেইট সংলগ্ন এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। রাত আনুমানিক ১টার দিকে ৮ থেকে ১০ জন সন্দেহভাজন ব্যক্তি মিয়ানমার সীমান্ত অতিক্রম করে বাংলাদেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করলে বিজিবি সদস্যরা তাদের চ্যালেঞ্জ করেন। এ সময় আগ্নেয়াস্ত্রে সজ্জিত চোরাকারবারিরা বিজিবির ওপর এলোপাতাড়ি গুলি ছোঁড়ে। আত্মরক্ষার্থে বিজিবিও ফাঁকা গুলি করে। প্রায় এক ঘণ্টাব্যাপী নাফ নদী ও পার্শ্ববর্তী কেওড়া জঙ্গল এলাকায় উভয়পক্ষের মধ্যে গুলিবিনিময় হয়। বিজিবির অবস্থানের মুখে চোরাকারবারিরা পিছু হটতে বাধ্য হয়। কয়েকজন নাফ নদী হয়ে পালিয়ে যায় এবং ৪ খেকে ৫ জন পাশের গ্রামে ঢুকে পড়ে। এসময় স্থানীয়দের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে বিজিবি তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়নি।

টেকনাফ সীমান্তে ৫২ অনুপ্রবেশকারী কারাগারে, একজন হাসপাতালে টেকনাফ সীমান্তে ৫২ অনুপ্রবেশকারী কারাগারে, একজন হাসপাতালে
তবে চৌধুরীপাড়া গ্রামে অবস্থানরত একটি ডাকাত দল চোরাকারবারিদের কাছ থেকে ইয়াবা ছিনিয়ে নেওয়ার উদ্দেশ্যে দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করে গুলি চালালে উভয়পক্ষের মধ্যে গোলাগুলি শুরু হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে বিজিবি তাৎক্ষণিকভাবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর সহায়তা চায়। পরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব) ও বাংলাদেশ পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে যৌথভাবে অভিযান পরিচালনা করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরবর্তীতে নাফ নদী ও সংলগ্ন বেড়িবাঁধ এলাকায় তল্লাশি চালিয়ে বিজিবি ৭ লাখ ১০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে একক অভিযানে এটি সর্বোচ্চ ইয়াবা উদ্ধারের ঘটনা।

এর আগে, সোমবার রাত আনুমানিক ১১টায় উখিয়া ব্যাটালিয়নের অপর একটি বিশেষ টহল দল হোয়াইক্যং বিওপি থেকে প্রায় দেড় কিলোমিটার উত্তরে মনিরঘোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও ২ লাখ ৭০ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধার করেন।

মিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফে শিশু গুলিবিদ্ধ, সড়ক অবরোধমিয়ানমার থেকে ছোড়া গুলিতে টেকনাফে শিশু গুলিবিদ্ধ, সড়ক অবরোধ
উখিয়া ব্যাটালিয়ন অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. জহিরুল ইসলাম বলেন, উদ্ধার হওয়া ইয়াবা পরবর্তী আইনি ব্যবস্থার জন্য টেকনাফ মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে। সীমান্ত এলাকায় মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবির অভিযান অব্যাহত থাকবে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে এবং জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি জোরদার করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন