ব্রাহ্মণপাড়ায় বেড়েছে জ্বরের প্রকোপ, ডেঙ্গু নিয়ে উদ্বেগ

প্রকাশ : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৪ এএম

ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়ায় বেড়েছে জ্বর, সর্দি-কাশিসহ বিভিন্ন মৌসুমি রোগের প্রকোপ। এর মধ্যে দেশজুড়ে ডেঙ্গুর প্রকোপ থাকায় জ্বরের রোগীদের মধ্যে বাড়ছে উদ্বেগ। শিশু থেকে বয়স্ক, বিভিন্ন বয়সী মানুষ জ্বর নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসছেন।

জ্বরের সঙ্গে মাথাব্যথা, শরীরব্যথা, ডায়রিয়া, দুর্বলতা ও বমি বমি ভাব থাকায় অনেকে ডেঙ্গু পরীক্ষা করাচ্ছেন। তবে জ্বর হলেই ডেঙ্গু নয় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাদের মতে, এ সময়ে ভাইরাসজনিত মৌসুমি জ্বরের প্রকোপ বাড়ে। তবে ডেঙ্গুর আশঙ্কা থাকায় জ্বরকে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীদের ভিড়। শিশু থেকে বৃদ্ধ, সব বয়সী মানুষই চিকিৎসা নিতে এসেছেন। তাদের বড় একটি অংশ জ্বরে আক্রান্ত। অন্তঃবিভাগেও জ্বরসহ বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত রোগীরা ভর্তি রয়েছেন।

উপজেলার শিদলাই ইউনিয়নের পোমকারা গ্রামের বাসিন্দা ফেরদৌসী বেগম ১১ বছর বয়সী মেয়ে নুসাইবাকে নিয়ে হাসপাতালে এসেছেন। পাঁচ দিন ধরে জ্বরে ভুগছে নুসাইবা। ফেরদৌসী বেগম বলেন, বাড়ির পাশের ফার্মেসি থেকে ওষুধ খাওয়ানো হয়েছে। কিন্তু জ্বর ভালো হচ্ছে না। গতকাল থেকে বমিও শুরু হয়েছে। দিন দিন শরীর দুর্বল হয়ে পড়ছে। তাই হাসপাতালে নিয়ে এসেছি।

দুলালপুর ইউনিয়নের বালিনা এলাকা থেকে চিকিৎসা নিতে আসা কবির হোসেন বলেন, কয়েক দিন ধরে জ্বরে ভুগছি। জ্বরের সঙ্গে শরীর ও মাথাব্যথা রয়েছে। চিকিৎসকের পরামর্শে ডেঙ্গু পরীক্ষা করিয়েছি। পরীক্ষায় ডেঙ্গু ধরা পড়েনি। ডাক্তার ওষুধ দিয়েছেন।

রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) মাধবপুর ইউনিয়নের ষাইটশালা থেকে আসা ফিরোজ মিয়া বলেন, কিছুদিন ধরে ছেড়ে ছেড়ে জ্বর আসছে। জ্বর এলে তীব্র শরীরব্যথা হয়। ডেঙ্গু নিয়ে ভয় লাগছে। তাই হাসপাতালে এসেছি।

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. অরূপ সিংহ বলেন, ‘বর্ষা শেষে ঋতু পরিবর্তনের এ সময়ে বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসজনিত জ্বরের প্রকোপ দেখা দিতে পারে। একই সময়ে ডেঙ্গুর বাহক এডিস মশার উপস্থিতিও থাকায় জ্বরকে অবহেলা না করে হাসপাতালে এসে অথবা নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।’

ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোহাম্মদ শেখ হাসিবুর রেজা বলেন, ‘এ সময়ে মৌসুমি রোগের প্রকোপের পাশাপাশি ডেঙ্গুও ছড়াচ্ছে। জ্বরে আক্রান্ত হলে পর্যাপ্ত পানি ও তরল খাবার গ্রহণ, বিশ্রাম এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা উচিত। একই সঙ্গে এডিস মশার বংশবিস্তার ঠেকাতে বাড়ির আশপাশে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে।’

তিনি বলেন, ‘ডেঙ্গু প্রতিরোধে শুধু মশারি ব্যবহার বা মশা নিধন যথেষ্ট নয়। বাড়ির আশপাশে পানি জমতে না দেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ডাবের খোসা, প্লাস্টিকের পাত্রসহ যেসব জায়গায় পানি জমতে পারে, সেগুলো নিয়মিত পরিষ্কার রাখতে হবে। সচেতনতা ও কার্যকর প্রতিরোধব্যবস্থার মাধ্যমে ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব।’

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন