ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে বিদ্রোহী প্রার্থী হিসাবে মনোনয়নপত্র জমা দিলেন কাজী তাপস

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৯ ডিসেম্বর ২০২৫, ০৬:৫৭ পিএম

দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ (নবীনগর) আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে মনোনয়নপত্র  জমা দিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা বিএনপির অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক কাজী নাজমুল হোসেন তাপস।

সোমবার (২৯ ডিসেম্বর) দুপুরে উৎসবমুখর পরিবেশে তিনি তাঁর কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসানের কাছে মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন

এর আগে রোববার রাতে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে এই সিদ্ধান্তের কথা নিশ্চিত করেন কাজী নাজমুল হোসেন তাপস, বর্তমানে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা বিএনপি–এর অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে বিএনপির আদর্শ ও নীতির প্রতি অবিচল আস্থা রেখে রাজনীতি করে আসছেন। তাঁর রাজনৈতিক অনুপ্রেরণার মূল উৎস হিসেবে তিনি বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ জিয়াউর রহমান, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া এবং দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান–এর প্রতি তাঁর আনুগত্যের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন।

তাপস বলেন, “আমি বিএনপির একজন কর্মী ছিলাম, আছি এবং থাকব। দলের প্রতি আমার আস্থা কখনো কমেনি। তবে নবীনগরের তৃণমূল নেতাকর্মীদের মতামতকে উপেক্ষা করে যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা মেনে নেওয়া আমার পক্ষে সম্ভব হয়নি।” তিনি দাবি করেন, এবারের প্রার্থী মনোনয়নে ত্যাগী ও আন্দোলন-সংগ্রামে নির্যাতিত নেতাকর্মীদের মতামতের প্রতিফলন ঘটেনি।

উল্লেখ্য, একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন পেয়েছিলেন কাজী নাজমুল হোসেন তাপস নিজেই। তবে আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এই আসনে বিএনপির দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে নবীনগর উপজেলা বিএনপির সভাপতি এডভোকেট

এম এ আব্দুল  মান্নান–কে। দলীয় এই সিদ্ধান্ত ঘোষণার পর থেকেই নবীনগর বিএনপির রাজনীতিতে আলোচনার ঝড় ওঠে।

স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার কারণ ব্যাখ্যা করে তাপস বলেন, নবীনগর উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও এলাকার নেতাকর্মীদের জীবনসংগ্রামের গল্প তিনি কাছ থেকে দেখেছেন। গত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্র ও মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা জেল-জুলুম, নির্যাতন, নিপীড়ন এমনকি গুম-খুনের শিকার হয়েছেন, তাঁদের মতামতকে গুরুত্ব না দেওয়া অত্যন্ত হতাশাজনক। তিনি অভিযোগ করেন, দলের সিদ্ধান্তে তৃণমূলের আবেগ, ত্যাগ ও প্রত্যাশার প্রতিফলন ঘটেনি।

তিনি আরও জানান, মনোনয়নপত্র সংগ্রহের আগেই তিনি নবীনগর উপজেলার ২১টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার নেতাকর্মী এবং সাধারণ ভোটারদের সঙ্গে একাধিক দফা মতবিনিময় করেছেন। এসব বৈঠকে অংশ নেওয়া নেতাকর্মী ও ভোটারদের কাছ থেকে একটি অভিন্ন মতামতই তিনি পেয়েছেন—দলের পক্ষ থেকে যে প্রার্থীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে, তিনি তৃণমূলের পছন্দের প্রতিফলন নন।

তাপস বলেন, “নেতাকর্মীরা আমাকে স্পষ্ট করে বলেছেন—নবীনগরে দলের প্রার্থী নির্ধারণে ত্যাগী নেতাকর্মীদের মতামত উপেক্ষা করা হয়েছে। সেই ভুল সিদ্ধান্তের মাশুল তারা আর দিতে চান না।” এসব মতামতের ভিত্তিতেই তিনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে জানান।

এদিকে তাঁর এই ঘোষণার পর নবীনগরের রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ের অনেক নেতাকর্মী প্রকাশ্যে তাঁর প্রতি সমর্থন জানালেও কেউ কেউ দলীয় শৃঙ্খলার বিষয়টি সামনে এনে সতর্ক অবস্থান নিচ্ছেন। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, তাপসের স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া এই আসনে নির্বাচনী সমীকরণে নতুন মাত্রা যোগ করতে পারে।

সব মিলিয়ে, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কাজী নাজমুল হোসেন তাপসের স্বতন্ত্র নির্বাচনের ঘোষণা শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনেই নয়, বিএনপির অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও নতুন বার্তা দিচ্ছে। এখন দেখার বিষয়, তৃণমূলের দাবি ও জনসমর্থনের কথা বলা এই সিদ্ধান্ত শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে কী প্রভাব ফেলে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন