ভুয়া জরিপে ইতিহাস বদলানো যাবে না, জনগণই দেবে চূড়ান্ত রায়: দুদু

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৪ পিএম

ভুয়া জরিপ আর উদ্দেশ্যপ্রণোদিত মিথ্যা প্রচারণা দিয়ে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাস পাল্টে দেওয়া সম্ভব নয়—এ কথা বলেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু। তিনি বলেন, জনগণ সব সময় সত্যকে চিহ্নিত করেছে, এবারও তার ব্যতিক্রম হবে না।

রবিবার (১৮ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবের তোফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া হলে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’ আয়োজিত আগামী জাতীয় নির্বাচন—প্রবাসী ও ভাবনা শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।

শামসুজ্জামান দুদু বলেন, বাংলাদেশ একটি গুরুত্বপূর্ণ ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে। আগামী এক-দুই দিনের মধ্যেই আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রচারণা শুরু হতে যাচ্ছে। হাতে সময় খুবই সীমিত—মাত্র তিন সপ্তাহের প্রচারণাতেই নির্ধারিত হবে দেশ কোন পথে এগোবে। তার ভাষায়, ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করেই বাংলাদেশ সামনের দিকে এগোবে, আর সেই পথ হবে গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার পথ। কোনো অবস্থাতেই সাম্প্রদায়িকতা, সন্ত্রাস বা ষড়যন্ত্রের রাজনীতির জায়গা হবে না।

তিনি বলেন, গত দেড় বছরের বেশি সময় ধরে সারাদেশে একটি পরিকল্পিত বক্তব্য ছড়ানো হচ্ছে—একটি দল এবার রাষ্ট্রক্ষমতায় যাবে, যা তারা প্রায় শত বছরেও অর্জন করতে পারেনি। এই ধারণা প্রতিষ্ঠা করতেই এখন ভুয়া জরিপ প্রকাশ করা হচ্ছে। এসব জরিপে বিএনপির সঙ্গে ওই দলকে প্রায় সমান অবস্থানে দেখানোর চেষ্টা করা হচ্ছে, যা বাস্তবতার সঙ্গে কোনোভাবেই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

চারটি প্রতিষ্ঠানের জরিপের প্রসঙ্গ তুলে বিএনপির এই নেতা বলেন, ওই জরিপে দাবি করা হয়েছে বিএনপি ও একটি দলের মধ্যে তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে, কারণ তারা আন্দোলন করেছে ও রাজপথে ছিল। সেই যুক্তিতে বলা হচ্ছে, তাদের ভোট তিন শতাংশ থেকে ৪০ শতাংশে পৌঁছেছে—অর্থাৎ আগে তিনটি আসন পেলে এবার ৪০টি আসন পাবে। তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন, তাহলে কি বিএনপি ঘরে বসে ছিল? বিএনপির নেতৃত্ব ১৭ বছর নির্যাতন সহ্য করেছে, তারেক রহমানকে ১৭ বছর প্রবাসে থাকতে হয়েছে, অসংখ্য নেতাকর্মী গুম ও কারাবরণের শিকার হয়েছেন।

দুদুর ভাষায়, যদি বিএনপির ভোট সত্যিই ৪০–৫০ শতাংশ বেড়ে থাকে, তাহলে আসন সংখ্যা তো দ্বিগুণ হয়ে ৪০০ ছাড়িয়ে যাওয়ার কথা। এই হিসাবই প্রমাণ করে এসব হিসাবই প্রমাণ করে জরিপগুলো উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।

মির্জা আব্বাসকে নিয়ে কটুক্তির প্রতিবাদ জানিয়ে একটি দলের নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনারা ভবিষ্যতে নেতা হবেন। মির্জা আব্বাস হঠাৎ করে এখানে এসে বসেন নাই। তার একটা সুদীর্ঘ রাজনৈতিক লড়াই আছে। তিনি মুক্তিযুদ্ধ করেছেন, জেল খেটেছেন। এমন কোন গণতান্ত্রিক আন্দোলন ছিল না, সেখানে তিনি ছিল না। তার সম্বন্ধে অথবা বিএনপি সম্বন্ধে আপনার রাজনীতি দল হিসেবে নানান ক্ষেত্রে সমালোচনা করতে পারেন পারেন তবে একটু মুখে লাগাম রেখে এটা করেন।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ কখনো ভুল সিদ্ধান্ত নেয়নি। মুক্তিযুদ্ধের বিরোধিতাকারী শক্তি কিংবা সাম্প্রদায়িক রাজনীতিকে জনগণ কখনো গ্রহণ করেনি, ভবিষ্যতেও করবে না। নির্বাচন ছাড়া দেশের বর্তমান সংকট উত্তরণের কোনো পথ নেই। নির্বাচন বানচালের চেষ্টা হলে তাতে লাভবান হবে অগণতান্ত্রিক শক্তি, আর ক্ষতিগ্রস্ত হবে সাধারণ মানুষ।

সবশেষে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, সামনে যে নির্বাচন আসছে তা হবে উৎসবমুখর। ভুয়া জরিপ, ভয় দেখানো বা ষড়যন্ত্র করে জনগণের রায় ঠেকানো যাবে না। সময়ই প্রমাণ করবে—এই দেশের ইতিহাস জনগণই লেখে, কোনো সাজানো পরিসংখ্যান নয়।

গোলটেবিল বৈঠকে ‘দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও আন্দোলন’-এর সভাপতি কে এম রকিবুল ইসলাম রিপনের সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন বীর মুক্তিযোদ্ধা ফরিদ উদ্দিন আহমেদ, সংগঠনের সহ-সভাপতি আবুল কালাম, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী চালক দলের সভাপতি জসিম উদ্দিন কবির, জিয়াউর রহমান সমাজ কল্যাণ পরিষদের সভাপতি গিয়াস উদ্দিন খোকনসহ অন্যান্যরা।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন