আগামী ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে সামনে রেখে ভোটকেন্দ্র এবং ভোটকক্ষের সংখ্যা অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে প্রতিটি কেন্দ্রের প্রতিটি কক্ষে দুটি করে ভোট দেওয়ার জায়গা বা গোপন কক্ষের (স্টাম্পিং সেন্টার) ব্যবস্থা থাকবে বলে জানিয়েছেন ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ।
রবিবার (৩০ নভেম্বর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশনে আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে নিরাপদ ভোটগ্রহণ প্রক্রিয়ায় গতি ও গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে ৩৪টি বিভাগের সঙ্গে সমন্বয় সভা শেষে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
আখতার আহমেদ বলেন, গতকালকের মক যে ভোটিংটাতে আমাদের এক্সপেরিয়েন্স যেটা এখনও পর্যন্ত প্রাথমিকভাবে যে পর্যালোচনা করা হয়েছে, সেখানে আমরা দেখেছি দুটো সেন্টার যেটা গোপন কক্ষ আমরা বলি, সেরকম করলে আমাদের ভোটকেন্দ্র বাড়াতে হবে না। গোপন কক্ষ বা ভোটিং বুথের সংখ্যা বাড়ানোর ফলে সামান্য পরিমাণে বাজেটও বাড়তে পারে।
তিনি বলেন, আমরা বোঝার চেষ্টা করেছিলাম যে ভোট দিতে কতটা সময় লাগে এবং আমাদের ভোটকেন্দ্রের সংখ্যা বাড়ানো লাগবে কিনা। প্রাথমিক তথ্য আর পর্যালোচনায় বলছি যে আমাদের ভোটকেন্দ্র বাড়ানো হয়ত লাগবে না। কিন্তু প্রত্যেকটা কক্ষের ভিতরে গোপন কক্ষ, যেখানে আমরা ব্যালটে সিল লাগাই, সেখানে একটা চিন্তা করা হয়েছিল প্রথমে—এখন হয়ত দুটো। এবং সে কারণে কিছু বাজেট বাড়বে।
সচিব বলেন, ভোটারদের গোপনীয়তা রক্ষায় গোপন কক্ষের সংখ্যা বাড়ানো হলেও একই কক্ষে নিয়মের অধিক ভোটার প্রবেশ করে ভোট দেওয়ার সুযোগ থাকবে না। দুজন ঢুকবে শুধু বা তিনজন একসঙ্গে। আমরা অফিসার্স ক্লাবে ভোট দেয়। এক রুমে চারটা করে গোপন কক্ষ থাকে। কই, কেউ কারোটাতে উঁকি দেয় না এবং উঁকি দেওয়ার কথাও না।
সচিব আরও বলেন, সারা দেশে এই সিস্টেম উপযোগী একই অবকাঠামো বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। অনেক জায়গায় এটা নাই, অনেক জায়গায় হয়ত আরেকটা বুথ বাড়াতে হতে পারে। অনেক জায়গায় আছে—সেখানে দুইটার জায়গায় তিনটা গোপন কক্ষ করা যেতে পারে। এটার মানে, এই পর্যালোচনাটা পেতে গেলে আরও একটু সময়টা লাগবে।
আখতার আহমেদ বলেন, ভোটার উপস্থিতি ও ভোটের গোপনীয়তার ব্যাপারটা হচ্ছে ভোটার এডুকেশনের সঙ্গে সম্পর্কিত। এটা গ্র্যাজুয়ালি হবে। ভোটারদের একাধিক ব্যালট পড়তে সময় লাগছে কিনা, তা নিয়েও পর্যবেক্ষণ চলছে।
তিনি বলেন, একটা ভোটার ঘরে প্রবেশ করা থেকে শুরু করে বেরিয়ে যাওয়া পর্যন্ত কত সময় লাগে? আইডেন্টিফিকেশন থেকে স্ট্যাম্প করে বক্সে ফেলা পর্যন্ত কত সময়? এই বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
ইসি সচিব বলেন, চারটা বিষয়ে গণভোটের বিষয়ে যদি আগে থেকে প্রচারণাটা থাকে, তাহলে ভোটারদের পড়ার সময়টা মিনিমাইজ হবে। এজন্য গণমাধ্যমগুলোকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
উল্লেখ্য, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সারা দেশে ৪২ হাজার ৭৬১টি কেন্দ্র চূড়ান্ত করেছে ইসি। মোট ভোটকক্ষ নির্ধারিত হয়েছে ২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪৯টি, যার মধ্যে নারী ভোটকক্ষ ১ লাখ ২৯ হাজার ৬০২টি এবং পুরুষ ভোটকক্ষ ১ লাখ ১৫ হাজার ১৩৭টি।