মধ্যপ্রাচ্যের সংকট ও তেলের দাম বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে মালয়েশিয়াকে জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্য করার আহ্বান

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৮ এপ্রিল ২০২৬, ০২:০২ পিএম

Malaysia news
Malaysia news
মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতের কারণে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বিঘ্ন এবং আমদানিকৃত পেট্রোলিয়ামের দাম বৃদ্ধির ফলে মালয়েশিয়ার মুদ্রাস্ফীতি ও দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়েছে। এই পরিস্থিতি দেশটিকে জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার করতে এবং স্থানীয় জ্বালানি উৎস বৈচিত্র্য করার প্রয়োজনীয়তার দিকে ইঙ্গিত করছে।

ইউনিভার্সিটি মালয়েশিয়া তেরেঙ্গানুর (UMT) উপাচার্য প্রফেসর ড. মোহদ জামরি ইব্রাহিম বলেন, স্থানীয় জ্বালানি উৎসের বৈচিত্র্য বাড়ালে অস্থির জীবাশ্ম জ্বালানি বাজারের ওপর নির্ভরতা কমানো সম্ভব। তিনি জানান, সবুজ হাইড্রোজেন, অফশোর বায়ু শক্তি এবং বৈদ্যুতিক যানবাহন (EV) অবকাঠামো একত্রিত করে আমরা একটি ‘ব্লু ইকোনমি’ গড়ে তুলছি, যা জাতীয় জ্বালানি স্বয়ংসম্পূর্ণতার সুরক্ষা হিসেবে কাজ করবে। মোহদ জামরি বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান সংকট কেবল রাজনৈতিক নয়, বরং এটি মালয়েশিয়ার জন্য একটি প্রযুক্তিগত সতর্কবার্তাও।

তার ভাষায়, সবুজ হাইড্রোজেন আর ভবিষ্যতের প্রযুক্তি নয়; এটি এখন জাতীয় নিরাপত্তার অপরিহার্য অংশ। আমাদের সামুদ্রিক দক্ষতা এবং উপকূলীয় বায়ু শক্তির সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে আমরা ভূরাজনৈতিক ঝুঁকিকে আঞ্চলিক ব্লু ইকোনমির নেতৃত্বের সুযোগে পরিণত করতে পারি। তিনি ব্যাখ্যা করেন, প্রায় ১২০ মেগাজুল/কেজি শক্তিঘনত্ব (ডিজেলের তুলনায় প্রায় তিনগুণ বেশি) থাকার কারণে সবুজ হাইড্রোজেন ভারী খাতে যেমন নৌপরিবহন ও গণপরিবহনে শূন্য নির্গমন জ্বালানি হিসেবে কার্যকর বিকল্প হতে পারে।

চীনের উদাহরণ তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশটি গ্রিন হাইড্রোজেন ভ্যালি” নামে একটি শিল্পাঞ্চল গড়ে তুলেছে, যেখানে নবায়নযোগ্য শক্তি ব্যবহার করে স্থানীয়ভাবে হাইড্রোজেন উৎপাদন করা হয়। এর ফলে জীবাশ্ম জ্বালানির পরিবর্তে স্থানীয় উৎপাদনের মাধ্যমে তেল আমদানির ওপর নির্ভরতা ৭০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব হয়েছে। এছাড়া, সবুজ হাইড্রোজেন সমুদ্রে উৎপাদন করা যেতে পারে যেখানে অফশোর বায়ু বিদ্যুৎ কেন্দ্রের সঙ্গে প্রোটন এক্সচেঞ্জ মেমব্রেন (PEM) ইলেক্ট্রোলাইজার স্থাপন করা হয়, বিশেষ করে সাবাহর কুদাত উপকূল এবং উপদ্বীপ মালয়েশিয়ার পূর্ব উপকূলে।

তিনি বলেন, এতে ব্যয়বহুল স্থলভিত্তিক বিদ্যুৎ সংযোগের প্রয়োজন হয় না এবং বিশেষায়িত ট্যাঙ্কার জাহাজ বা সাবসি পাইপলাইনের মাধ্যমে হাইড্রোজেন পরিবহন করা সম্ভব। বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রসঙ্গে তিনি বলেন, মালয়েশিয়া তেল রপ্তানিকারক হওয়ায় ব্যারেলপ্রতি দাম ১৩০ মার্কিন ডলারের বেশি হলে স্বল্পমেয়াদে লাভবান হতে পারে, তবে এটি একটি ‘দ্বিমুখী তলোয়ার’। তিনি বলেন, পরিশোধিত জ্বালানি আমদানির খরচ বৃদ্ধি এবং বৈশ্বিক সরবরাহে বিঘ্ন এখন দেশের মুদ্রাস্ফীতি এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক স্থিতিশীলতাকে হুমকির মুখে ফেলছে।

২০২৬ সালের মার্চ পর্যন্ত পরিস্থিতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সংঘাত বৃদ্ধির ফলে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় প্রভাব পড়েছে। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালীর অস্থিতিশীলতা যা বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও এলএনজি সরবরাহের প্রধান পথ মালয়েশিয়ার জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সতর্কসংকেত।



বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন