ময়মনসিংহ হাসপাতালে আগুন, গণপূর্তকে দায়ী করলেন সিটি প্রশাসক

প্রকাশ : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:০৭ এএম

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নতুন ভবনের অষ্টম তলায় লিফটের কন্ট্রোল রুমে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় হাসপাতালের অবকাঠামোগত বিষয় দেখভালের দায়িত্বে থাকা গণপূর্ত বিভাগের গাফিলতি ও অনিয়মকে দায়ী করেছেন ময়মনসিংহ সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকনুজ্জামান রোকন। এ সময় অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় সরকারের উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠনের দাবি জানিয়েছেন তিনি ।  

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে এ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে প্রায় ৬টা ২০ মিনিটের দিকে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

অগ্নিকাণ্ডের পর সন্ধ্যায় ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন সিটি করপোরেশনের প্রশাসক মো. রুকনুজ্জামান রোকন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘আজ এখানে আসার পর ফায়ার সার্ভিসের দায়িত্বে থাকা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা হয়েছে। তিনি জানিয়েছেন, লিফটের আটতলায় আগুন ধরেছিল। এর আগেও এই লিফটে বহুবার আগুন লাগার ঘটনা ঘটেছে। প্রশ্ন হলো, এসব ঘটনার দায়ভার কার, সেটি কি পরিষ্কার করা প্রয়োজন নেই?’

সিটি প্রশাসক বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দুটি কর্তৃপক্ষের কার্যক্রম রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ চিকিৎসাসেবা পরিচালনা করে এবং অবকাঠামোগত বিষয় দেখভালের দায়িত্ব গণপূর্ত বিভাগের। অতীতেও লিফটে আগুন লাগা ও লিফট বিকল হয়ে যাওয়ার ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ‘এর আগেও লিফটে আগুন লাগার ঘটনায় রোগী ও স্বজনদের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকে দিকবিদিক ছোটাছুটি করতে গিয়ে আহত হয়েছেন, হাত-পা ভেঙেছে, এমন ঘটনাও রয়েছে। এরপরও এসব ঘটনায় কোনো তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়নি।’

রুকনুজ্জামান রোকন বলেন, ‘আজকের এই ঘটনার জন্য সরকারের উচ্চপর্যায়ের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করতে হবে। এই লিফটের ক্ষেত্রে কোনো অনিয়ম, দুর্নীতি কিংবা সংশ্লিষ্ট সংস্থার গাফিলতি রয়েছে কি না, তা তদন্ত করে বের করতে হবে। তদন্তে যার দায় পাওয়া যাবে, তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।’

লিফটটি দ্রুত চালুর দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই লিফটটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। হাসপাতালের আইসিইউ, লাইফ সাপোর্ট ও হৃদরোগীসহ গুরুতর অসুস্থ রোগীরা এটি ব্যবহার করেন। হাত-পা ভাঙা রোগী, শারীরিকভাবে অক্ষম ও হাঁটাচলায় অক্ষম রোগীদের জন্য লিফট ছাড়া চলাচলের কোনো উপায় নেই। তাই নিরাপত্তা নিশ্চিত করে দ্রুত লিফটটি চালুর ব্যবস্থা করতে হবে।’

তিনি বলেন, ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বৃহত্তর ময়মনসিংহের আট জেলার মানুষের অন্যতম প্রধান চিকিৎসাকেন্দ্র। প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ এখানে চিকিৎসা নিতে আসেন। হাসপাতালের অবকাঠামো ও বিভিন্ন অনিয়ম নিয়ে গণমাধ্যমে বারবার সংবাদ প্রকাশ হলেও কার্যকর তদন্ত না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে।

সিটি প্রশাসক বলেন, ‘হাসপাতালের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে গণমাধ্যমে বারবার সংবাদ প্রকাশ হয়েছে। তারপরও কেন তদন্ত কমিটি হয়নি, তা আমি জানি না। সরকারের সর্বোচ্চ মহলের কাছে আমার দাবি, এ ঘটনায় তদন্ত কমিটি গঠন করে প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের চিহ্নিত করতে হবে।’

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে নিরাপদ চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে গড়ে তুলতে যেসব জায়গায় গাফিলতি রয়েছে, সেসব বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানান তিনি।

এদিকে রোগীর স্বজন আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘আমার ছেলে কয়েকদিন আগে আগুনে পুড়ে যায়। পরে তাকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করি। আজকের আগুনের পর তাকে নিয়ে হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে তার অবস্থা আরও খারাপ হয়ে যায়।’

হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে আহত শহিদুল ইসলাম বলেন, ‘তাড়াহুড়ো করে নামতে গিয়ে ডান হাতের আঙুল অনেকটা কেটে গেছে। এ সময় সবার মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।’

ময়মনসিংহ ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক পূর্ণ চন্দ্র মুৎসুদ্দী জানান, নতুন ভবনের অষ্টম তলায় লিফটের কন্ট্রোল রুমে বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। ফায়ার সার্ভিসের ১০টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে।

ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপপরিচালক ডা. জাকিউল ইসলাম বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় কেউ মারা যাননি। তবে কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত শেষে বলা যাবে। হুড়োহুড়ি করে নামতে গিয়ে কয়েকজন আহত হয়েছেন বলে শুনেছি। তবে আহতের সংখ্যা এখনো নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন