মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ নগরবাসী। ঘরে-বাইরে কোথাও মিলছে না স্বস্তি। বাড়ছে ডেঙ্গুর ঝুঁকি, হাসপাতালে বাড়ছে রোগীর চাপ। এমন পরিস্থিতিতে মশক নিধনে সিটি করপোরেশনের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তুলে চট্টগ্রামে মশারি টাঙিয়ে প্রতিবাদ জানিয়েছেন কয়েকজন নারী। তাদের স্লোগান, ‘মশা বড় নাকি মেয়র বড়?’
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেলে চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের সামনে গণশুনানি ও জনসচেতনতামূলক এ কর্মসূচির আয়োজন করেন হাশমিরা হায়দার চৌধুরী। এতে জুলাইযোদ্ধা সাদিয়া আফরিন, তানিয়া আমিন ও আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ কয়েকজন অংশ নেন।
চট্টগ্রামে চলতি বছরে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন ৫ হাজার ৯৫ জন, মারা গেছেন অন্তত ২১ জন। ৯ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া এ পরিসংখ্যানের মধ্যে অনেক রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলেও অনেকে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। ডেঙ্গুর এমন পরিস্থিতিতে মশার উপদ্রব নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ কতটা নেওয়া হচ্ছে, সেই প্রশ্ন তোলেন কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা। এ সময় মেয়র শাহাদাত হোসেনকে উদ্দেশ করে ‘শাহাদাত নিজেই বড় মশা’ স্লোগানও দেন কেউ কেউ।
জুলাইযোদ্ধা সাদিয়া আফরিন বলেন, ‘মশার উপদ্রব এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে ঘরের ভেতরেও মশারি টাঙিয়ে থাকতে হচ্ছে। মানুষ নিজের ঘরেও স্বস্তিতে থাকতে পারছে না। বছরের পর বছর মশার উপদ্রব চললেও তা নিয়ন্ত্রণে কার্যকর উদ্যোগ কোথায়, সেই প্রশ্নের জবাব প্রয়োজন।’
ডেঙ্গু আক্রান্তদের চিকিৎসা ও হাসপাতালের দুর্ভোগের বিষয়টিও তুলে ধরেন সাদিয়া। তিনি বলেন, ‘চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে রোগীদের মেঝে ও বারান্দায় থাকতে হচ্ছে। ডেঙ্গুতে মৃত্যু ও মানুষের দুর্ভোগ কমাতে সংকট দেখা দেওয়ার আগেই পরিকল্পনা নিতে হবে।’
নগর পরিচালনায় মানুষের দৈনন্দিন সমস্যা ও জনস্বাস্থ্যকে অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া ব্যক্তিরা বলেন, মশক নিধন কার্যক্রম নিয়মিত ও কার্যকর না হলে শুধু প্রচার-প্রচারণায় পরিস্থিতির পরিবর্তন হবে না। নগরের সব এলাকায় মশার ওষুধ ছিটানো হচ্ছে কি না, ব্যবহৃত ওষুধ কতটা কার্যকর এবং মশার প্রজননস্থল ধ্বংসে কী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, তা নিশ্চিত করা জরুরি। মশা নিয়ন্ত্রণে দৃশ্যমান উদ্যোগের ঘাটতি নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
আয়োজক হাশমিরা হায়দার চৌধুরী বলেন, ‘ডেঙ্গুর বিস্তার ঠেকাতে মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, নিয়মিত মশক নিধন অভিযান এবং নগর পরিচ্ছন্ন রাখা জরুরি। মানসম্মত ওষুধ ব্যবহার ও কার্যক্রমের নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করতে হবে। শুধু আনুষ্ঠানিক কর্মসূচি দিয়ে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; প্রয়োজন কার্যকর উদ্যোগ।’
কর্মসূচি থেকে নগরের প্রতিটি এলাকায় নিয়মিত মশার ওষুধ ছিটানো, মশার প্রজননস্থল ধ্বংস, কীটনাশকের মান ও কার্যকারিতা যাচাই এবং মশক নিধন কার্যক্রমে জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
