মালয়েশিয়ায় মানহানি মামলায় আজম বাকির পাশে এমসিডব্লিউ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৬:৩৮ পিএম

Malaysia news
মালয়েশিয়ায় দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনে সক্রিয় সংগঠন (এমসিডব্লিউ) দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান কমিশনার আজম বাকি-এর করা মানহানি মামলার প্রতি পূর্ণ সমর্থন জানিয়েছে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান ব্লুমবার্গ এর বিরুদ্ধে দায়ের করা এই মামলাকে সংগঠনটি ব্যক্তিগত সুনাম রক্ষা ও আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার বৈধ অধিকার হিসেবে উল্লেখ করেছে।

রোববার কুয়ালালামপুরে এক বিবৃতিতে এমসিডব্লিউ সভাপতি জাইস আবদুল করিম বলেন, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত একটি দেশে কোনো প্রতিবেদনে যদি অসত্য, বিভ্রান্তিকর বা যাচাইবিহীন তথ্য প্রকাশিত হয়, তবে ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তির আইনি প্রতিকার চাওয়ার অধিকার রয়েছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, “শুধু অভিযোগই শাস্তি হতে পারে না; যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই সত্য নির্ধারিত হওয়া উচিত।”

এমসিডব্লিউ স্পষ্ট করেছে, এই মানহানি মামলা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার বিরুদ্ধে নয়; বরং তথ্য ও সুনামসংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তির একটি সভ্য ও আইনসম্মত উপায়। সংগঠনটির মতে, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতার সঙ্গে সাংবাদিকতার দায়বদ্ধতাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ।

তথ্য যাচাই, ভারসাম্যপূর্ণ প্রতিবেদন এবং দায়িত্বশীল উপস্থাপন—এসব নীতির ব্যত্যয় ঘটলে গণমাধ্যমের বিশ্বাসযোগ্যতা প্রশ্নের মুখে পড়ে। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমও এ দায়বদ্ধতার বাইরে নয় বলে মন্তব্য করেন জাইস।

তিনি আরও বলেন, “গণমাধ্যমের উচিত ন্যায়সংগত ও সতর্ক অবস্থান নেওয়া এবং অপ্রমাণিত বয়ান প্রচারে কোনো পক্ষের হাতিয়ার না হওয়া।” এমসিডব্লিউ সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, চটকদার ও ভিত্তিহীন অভিযোগ দেশের প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রতি জনআস্থা ও বিনিয়োগকারীদের আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

উল্লেখ্য, গত ১০ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ব্লুমবার্গ দাবি করে যে আজম বাকির শেয়ার মালিকানা সংক্রান্ত বিষয় রয়েছে। এ প্রেক্ষিতে তিনি মানহানির অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলায় তিনি সাধারণ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ১০০ মিলিয়ন রিঙ্গিত দাবি করেছেন, পাশাপাশি বর্ধিত ও দৃষ্টান্তমূলক ক্ষতিপূরণ, সুদ এবং আইনি ব্যয় চেয়েছেন।

এমসিডব্লিউ সব পক্ষকে আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান প্রদর্শন এবং অযথা জল্পনা-কল্পনা থেকে বিরত থাকার আহ্বান জানিয়েছে। সংগঠনটির মতে, শেষ পর্যন্ত সত্যই প্রতিষ্ঠিত হবে এবং সততার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আইনের পথেই সমাধান খুঁজতে হবে।

বিশ্লেষকদের মতে, এ ঘটনা একদিকে যেমন সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা ও দায়িত্বের ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা উসকে দিয়েছে, তেমনি ব্যক্তিগত সুনাম রক্ষায় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়টিও সামনে এনেছে। এখন সবার দৃষ্টি আদালতের রায়ের দিকে।



ভালো সংবাদের সর্বশেষ খবর পেতে গুগল নিউজ ফিডটি অনুসরণ করুন


Google News

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন