মালয়েশিয়ার সাবাহর ১৭তম রাজ্য নির্বাচনে স্থানীয় দলগুলোর প্রতি তীব্র সমর্থনের ঢেউয়ে ভর করে সবচেয়ে বড় বিজয়ী হিসেবে উঠে এসেছেন গাবুংগান রাকইয়াত সাবাহ (জিআরএস)-এর চেয়ারম্যান দাতুক সেরি হাজিজি নূর। পুরো রাজ্যজুড়ে ভোটাররা সাবাহভিত্তিক দলগুলোকে বেশি সমর্থন করেছে, আর উপদ্বীপের দলগুলো পেয়েছে কঠিন পরাজয়। নির্বাচনী ফলাফল অনুযায়ী, জিআরএস ২৯টিরও বেশি আসনে এগিয়ে বা বিজয়ী হয়েছে, যা তাদেরকে স্পষ্টভাবে প্রধান শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠা করেছে। তাদের জোটসঙ্গী পাকাতান হারাপান (পিএইচ) প্রত্যাশার তুলনায় কম আসন পেয়ে জোটের সামগ্রিক অবস্থান কিছুটা দুর্বল করেছে।
অন্যদিকে, পার্টি ওয়ারিসান শহুরে কেন্দ্রগুলোতে উল্লেখযোগ্য উত্থান দেখিয়েছে। বিশেষ করে কোটা কিনাবালু ও আশপাশের নগর এলাকায় ওয়ারিসান ভোট বৃদ্ধির মাধ্যমে শক্ত উপস্থিতির বার্তা দিয়েছে। এর বিপরীতে, উপদ্বীপভিত্তিক রাজনৈতিক জোটগুলো—যারা আগে কিছু এলাকায় ভোটভিত্তি তৈরি করেছিল—এই নির্বাচনে প্রায় সম্পূর্ণ বিপর্যয়ের মুখে পড়েছে। পর্যবেক্ষকদের মতে, সাবাহর বিশেষ রাজনৈতিক সংস্কৃতি এবং স্থানীয় ইস্যুগুলোকে কেন্দ্র করে প্রচারণা চালাতে না পারাই এদের এই দুরবস্থার প্রধান কারণ।
সার্বিকভাবে স্পষ্ট যে, সাবাহর রাজনীতিতে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা উঠে এসেছে: ভোটাররা এবার বেশি আস্থা রাখছেন স্থানীয় নেতৃত্বে, এবং সাবাহর পরিচয় ও স্বতন্ত্র রাজ্য স্বার্থ রক্ষায় সক্ষম দলগুলোকেই তারা ভবিষ্যতের দিশারী হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। এই নির্বাচন সাবাহর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল। যেখানে স্থানীয় দলগুলোর প্রভাব ও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকবে সাবাহর জনগণের প্রত্যাশা, উন্নয়ন ও স্বায়ত্তশাসনের দাবি।
এদিকে ১৭তম সাবাহ রাজ্য নির্বাচনে গাবুঙান রাক্যাত সাবাহ (জিআরএস)-এর ব্যাপক জয়ের পর নির্বাচিত মুখ্যমন্ত্রী হাজিজি নূর বলেছেন, এই বিজয় মূলত সাবাহর জনগণেরই জয়। তিনি বলেন, জনগণের নতুন ম্যান্ডেট তাকে রাজ্যকে আরও এগিয়ে নিতে দৃঢ়ভাবে অনুপ্রাণিত করেছে। হাজিজি তাঁর বিবৃতিতে বলেন, এই জয় তাদের, যারা আমাদের স্বপ্নে বিশ্বাস করেন, আমাদের প্রচেষ্টাকে সমর্থন করেন এবং সাবাহর উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন ভাগ করে নেন। আপনাদের দেওয়া আস্থাকে কৃতজ্ঞতার সঙ্গে গ্রহণ করছি। আজ রোববার সকালে ইস্তানা সেরি কিনাবালুতে মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার পর তিনি এই বক্তব্য দেন।
হাজিজি সকল সাবাহবাসীকে জিআরএস-এর সঙ্গে মিলে নতুন অধ্যায় রচনায় এগিয়ে আসার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, শুরু থেকেই জিআরএস পরিবর্তন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে হালা তুজু সাবাহ মাজু জয়া (এসএমজে) নামে একটি সার্বিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে। তিনি আরও জানান, জিআরএস দৃঢ়ভাবে এসএমজে ২.০ ব্লুপ্রিন্ট চালিয়ে যাবে, যার মূল চারটি স্তম্ভকে কেন্দ্র করে সাবাহর টেকসই উন্নয়নকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে।
ইউআরএল কপি করা হয়েছে