ওয়াশিংটন থেকে প্রকাশিত এক সাক্ষাৎকারে যুক্তরাজ্যের অর্থমন্ত্রী র্যাচেল রিভস বলেছেন, ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা বন্ধ করে সামরিক সংঘাতে জড়ানো যুক্তরাষ্ট্রের একটি “ভুল সিদ্ধান্ত” ছিল। তিনি মনে করেন, এই সংঘাত বিশ্বকে আরও নিরাপদ করেনি, বরং অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বাড়িয়েছে।
সিএনবিসির এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রিভস বলেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে শুধু যুক্তরাজ্য নয়, পুরো বিশ্বের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো উত্তেজনা কমানো। তিনি জোর দিয়ে বলেন, যুদ্ধের পরিবর্তে কূটনৈতিক পথই দীর্ঘমেয়াদে বেশি কার্যকর হতে পারত।
এদিকে, যুক্তরাজ্য সরকার স্পষ্ট করেছে যে তারা যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে ইরানের ওপর চাপ বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীতে সামরিক অবরোধে অংশ নেবে না। এই প্রণালী দিয়ে বিশ্বের একটি বড় অংশের তেল ও গ্যাস পরিবহন হয়, যা বর্তমানে যুদ্ধের কারণে ব্যাহত হচ্ছে।
রিভস জানান, গত ছয় সপ্তাহে জ্বালানি স্থাপনায় হামলার কারণে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে এবং তেলের দাম বেড়েছে। এর ফলে বিশ্ব অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, যুদ্ধ শুরুর আগে ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক আলোচনা চলছিল এবং সেটি বন্ধ করা ঠিক হয়নি। তার মতে, ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য সংলাপই ছিল সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক সংস্থা আই এম এফ সতর্ক করে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের সংঘাত বিশ্ব অর্থনীতিকে মন্দার দিকে ঠেলে দিতে পারে। বিশেষ করে উন্নত অর্থনীতিগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্য সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে।
রিভস বলেন, যুদ্ধের কারণে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি কমতে পারে এবং মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে। তবে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, সংঘাত শেষ হলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব।
এদিকে, যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কেয়ার স্টারমার এবং ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রন একটি সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির পর হরমুজ প্রণালীতে নিরাপদ নৌ চলাচল নিশ্চিত করতে বৈঠক করার পরিকল্পনা করছেন।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাজ্যের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তিনি বলেন, প্রয়োজনের সময় যুক্তরাজ্য পাশে ছিল না, যদিও তিনি একটি ভালো বাণিজ্য চুক্তির কথা উল্লেখ করেন। সব মিলিয়ে, এই যুদ্ধ শুধু রাজনৈতিক নয়, অর্থনৈতিক ক্ষেত্রেও বড় ধরনের প্রভাব ফেলছে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
