‘যৌক্তিক মূল্যে নিত্য পণ্য সরবরাহ নিশ্চিত করতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সক্রিয়’

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৫ এপ্রিল ২০২৬, ০৫:০০ পিএম

যৌক্তিক মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সক্রিয় রয়েছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর৷

রবিবার (২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের এক প্রশ্নের লিখিত উত্তরে মন্ত্রী এ সব কথা জানান ৷ এ সময় স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন। রবিবারের প্রশ্ন উত্তরে টেবিলে উপস্থাপিত হয় ৷

বাণিজ্য মন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদীর বলেন, দেশে নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্য সামগ্রীর বাজার নিয়ন্ত্রণ করার লক্ষ্যে নানাবিধ পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। যৌক্তিক মূল্যে নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহ নিশ্চিত করার জন্য বাণিজ্য মন্ত্রণালয় সক্রিয় রয়েছে। এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য কার্যক্রমগুলো হলো- নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার নিয়ন্ত্রণ ও সার্বিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখার লক্ষ্যে The Control of Essential Commodities Act, 1956 যুগোপযোগী করার জন্য আইনটির প্রয়োজনীয় সংশোধন করার উদ্যোগ নেয়া হয়েছে।

এই আইনের অধীন বর্তমানে ভোজ্য তেলের মূল্য মন্ত্রণালয় হতে নির্ধারণ করে দেওয়া হয় এবং তার কাঁচামালের আন্তর্জাতিক বাজারের সাথে সমন্বয় রেখে মূল্যেও সমন্বয় করা হয়। চলতি পঞ্জিকা বছরে তিন বার মূল্যের সমন্বয় করা হয়েছে। এ ছাড়া বিগত পঞ্জিকা বছরব্যাপী অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য মোটামুটি স্থিতিশীল ছিল। (গ) বিগত বছরে পেঁয়াজের বাজার মূল্য বছরব্যাপী উৎপাদন মূল্যের কাছাকাছি ছিল। গত বছরের মাঝামাঝি এবং ডিসেম্বর-জানুয়ারি মাসে পেঁয়াজের মূল্যে উস্কলন হয়েছিল। কৃষি ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের যৌথ সিদ্ধান্তে দুই বার আমদানি উন্মুক্ত করার পর মূল্য স্বাভাবিক হয়, জানান তিনি।

মন্ত্রী বলেন, দেশে নিত্যপণ্যের বাজার ও দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে ভারত ও ইন্দোনেশিয়াসহ অপরাপর দেশের প্রচলিত মডেল পর্যালোচনা করে বাংলাদেশের জন্য একটি আদর্শ মডেল নিরূপণ করার লক্ষ্যে গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করার নিমিত্ত সম্প্রতি Bangladesh Institute of Development Studies (BIDS) কে দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছে ৷

‘এ বছরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগের পর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড কর্তৃক চিনি, ভোজ্যতেল ও খেজুর আমদানিতে শুল্ক হাস করা হয়েছে। ফলে উক্ত পণ্যসমূহের মূল্য স্বাভাবিক ছিল। এ ধরনের উদ্যোগ অব্যাহত থাকবে।’

জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের মাধ্যমে ঢাকায় প্রতিদিন ৪টি করে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে ২টি করে বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। এছাড়াও, সকল জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে বাজার অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে এবং অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে সতর্ক করাসহ জরিমানা করা হচ্ছে। তবে পবিত্র রমজান মাস বা অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সময়ে এ অভিযানের সংখ্যা বৃদ্ধি করা হয়ে থাকে। এসব অভিযানের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের আইন ও বিধি-বিধান অনুসরণপূর্বক ব্যবসা পরিচালনা করার জন্য সতর্ক করা হচ্ছে এবং আইন লঙ্ঘনকারী প্রতিষ্ঠানসমূহের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

বিশেষ বিশেষ উৎসব ও পার্বনাদির পূর্বে দেশের বাজারে ভোগ্য পণ্যের মূল্যের উঠানামা দেখা যায়। রমজানের পূর্বে ও রমজানে বেশ কয়েকবার ভোগ্য পণ্যের উৎপাদক, আমদানিকারক ও পাইকারী ও খুচরা বিক্রেতাদের সাথে সভা করে সরবরাহ মূল্য মনিটর করা হয়েছে।

মন্ত্রী ও সচিব কর্তৃক একাধিক আকস্মিক বাজার পরিদর্শন করা হয়েছে। দেশের প্রধান পাইকারী বাজার চট্টগ্রামের খাতুনগঞ্জের বাজার পরিদর্শন ও ব্যবসায়ীদের সাথে মতবিনিময় করে বাজার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করা হয়েছে। এলপিজি আমদানি ও বিপণনকারীদের সাথে সভা করে সরবরাহ ও মূল্য স্বাভাবিক রাখতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, জ্বালানিসহ ভোগ্য পণ্যের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার জন্য উক্ত পণ্যের আমদানি ও উৎপাদনকারীদের ব্যাংকিং সমস্যা সমাধান করে সরবরাহ স্বাভাবিক রাখার উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বৃহৎ আড়ৎসমূহ, গোডাউন, কোল্ড স্টোরেজ ও সাপ্লাই চেইনসহ অন্যান্য স্থানসমূহ সরেজমিনে পরিদর্শনের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যসামগ্রীর বাজার পরিস্থিতি ও সরবরাহ চেইন তদারকি ও পর্যালোচনার জন্য জেলা পর্যায়ে গঠিত বিশেষ টাস্কফোর্স কর্তৃক নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। দ্রব্যমূল্য যৌক্তিক পর্যায়ে রাখার লক্ষ্যে এবং উৎপাদক, পাইকারি, ও ভোক্তা পর্যায়ের মধ্যে যাতে দামের পার্থক্য ন্যূনতম থাকে সে লক্ষ্যে এই বিশেষ টাস্কফোর্স নিয়মিত বাজার মনিটরিং এবং অভিযান পরিচালনা করছে।

এ ছাড়া বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক দেশের সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যবসায়ী এবং চেম্বারসমূহের প্রতিনিধিদলসহ সর্বস্তরের ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দের সাথে নিয়মিত বৈঠক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য পর্যালোচনা ও নিয়ন্ত্রণ করা হচ্ছে।

টিসিবি কার্ড এর মাধ্যমে নিম্ন আয়ের প্রায় এক কোটি জনসাধারণের মধ্যে ভর্তুকি মূল্যে ট্রেডিং কর্পোরেশন অফ বাংলাদেশ (টিসিবি) চাল, সয়াবিন তেল, চিনি ও মশুর ডাল বিতরণ করছে। এর মাধ্যমে এসব পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখার ব্যবস্থা এবং দরিদ্র জনগণের নিকট সহজে ও ভর্তুকি মূল্যে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য প্রাপ্তি নিশ্চিত করা হচ্ছে।

সিলেট জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে কৃষকদের কাছ থেকে পণ্য সংগ্রহ করে পাইলটিং ভিত্তিতে কৃষি মার্কেট চালু করা হয়েছে। উক্ত পাইলটিং সফল হলে সারা বাংলাদেশে চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হবে বলেও জানান তিনি। 

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন