রেকর্ড রুমের সিল স্বাক্ষর জালিয়াতি করে ৭ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি আত্মসাতের চেষ্টা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৩ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৮:৪৮ এএম

সাতক্ষীরা জেলা রেকর্ড রুমের দায়িত্ব পালনরত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল ও স্বাক্ষর জালিয়াতির করে প্রায় ৭ কোটি টাকার সরকারি সম্পত্তি আত্মাসাত চেষ্টার অভিযোগ উঠেছে। শ্যামনগর উপজেলার গোপালপুর গ্রামের মৃত মেঘনাথ গাইনের ছেলে মলয় কুমার ও কুমারেন্দ্র নাথ এবং ভোলানাথ গাইনের ছেলে অরবিন্দু নাথ এমন ঘটনা ঘটিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

ইতিমধ্যে রেকর্ডরুম শাখা কতৃক তদন্তে জালিয়াতির ঘটনায় প্রমানিত হওয়ায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে মামলাও হয়েছে। শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা এসএম ফজলুল রহমান বাদি হয়ে গত ১১ ফেব্রুয়ারী শ্যামনগর থানায় মামলাটি দায়ের করেন। তবে মামলা দায়ের পর প্রায় ১২ দিন অতিবাহিত হলেও অদ্যাবধি আসামীরা গ্রেপ্তার হয়নি। বরং অর্থ সম্পদের পাশাপাশি রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে তারা গ্রেপ্তার এড়ানোসহ বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার চেষ্টা করছে।

অভিযোগ সুত্রে জানা যায়, গোপালপুর মৌজার এসএ ২১, ২৪, ২৫ ও ২৬ খতিয়ানের চার একর ৩২ শতক জায়গা ১৯৮১ সালে জাল দলিল তৈরী করে মলয় কুমার ও তার দুই ভাই দখল করে নেয়। এসময় তারা প্রায় তিন দশক আগে ভারতে চলে যাওয়া জনৈক ক্ষেত্র দাস দিং দের দাতা সাঁজিয়ে প্রায় ৭ কোটি টাকা মুল্যের উক্ত সম্পত্তি জবর দখলও করেন। পরবর্তীতে উক্ত জমির অনুকুলে জাল খতিয়ান তৈরীসহ সৃজনকৃত সেসব কাগজমুলে নামপত্তনসহ যাবতীয় কার্যক্রম সম্পন্ন করেন।

আরও অভিযোগ রয়েছে পরবর্তীতে অর্পিত ঐ সম্পত্তির মালিকানার দাবিতে মলয় ও তার দুই ভাই বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা জজ আদালতে (সাতক্ষীরা) ১৮/২০০৫ নং মামলা করেন। এসময় তারা তারা দাবীর সমর্থনে জেলা রেকর্ডরুমের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সিল স্বাক্ষর সম্বলিত এসএ ২১, ২৪, ২৫, ২৬ নং খতিয়ানের কপি দাখিল করেন।

জানা যায় সম্প্রতি তাদের জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশ্যে আসে। যার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১ ডিসেম্বর ব্রম্মশাসন গ্রামের মোঃ মুজিবুল হক বিষয়টি তদন্তে জেলা প্রশাসকের নিকট লিখিত আবেদন জানান। একপর্যায়ে রেকর্ড রুমের তদন্তে প্রমানিত হয় যে মলয় কুমার দিং দের সরবরাহকৃত যাবতীয় কাগজ সৃজীত করা। যার প্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসকের নির্দেশে শ্যামনগর সদর ইউনিয়ন ভুমি সহকারী কর্মকর্তা এসএম ফজলুর রহমান বাদি হয়ে মলয়সহ তিন জনের বিরুদ্ধে পেনাল কোড ১৮৬০ অনুযায়ী ৪১৯, ৪২০, ৪৬৮, ও ৪৭১ ধারায় উক্ত মামলা করেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে মলয় কুমার জানান, তিনি উচ্চ আদালত থেকে জামিন নেয়ার চেষ্টা করছেন।

শ্যামনগর থানার অফিসার ইনচার্জ খালেদুর রহমান জানান, মামলার তদন্তদভার উপ-পরিদর্শক মোরছালিনের উপর দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর