শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে শিক্ষক কারাগারে

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:২৪ এএম

চাঁদপুরের শাহরাস্তিতে ধর্মীয় শিক্ষা দিতে গিয়ে এক শিশুকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগে আমিনুল ইসলাম (৬৪) নামে এক মাদ্রাসাশিক্ষককে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) গ্রেপ্তারের পর তাকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। পরে আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, শাহরাস্তির রায়শ্রী উত্তর ইউপির ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উল্লাশ্বর (হাবিবউল্লাহ চেয়ারম্যান বাড়ি) এলাকায় শিশুটিকে ধর্মীয় শিক্ষার প্রাইভেট পড়ানোর সময় বিভিন্নভাবে ভয়ভীতি প্রদর্শন, মারধরের হুমকি ও শারীরিকভাবে নির্যাতনের অভিযোগ ওঠে আমিনুল ইসলামের বিরুদ্ধে। 

শিশুটির পরিবার থেকে থানায় অভিযোগ করা হলে নারী ও শিশুনির্যাতন দমন আইন, ২০০০’র ১০ ধারায় নিয়মিত মামলা করা হয়। পরে ওসি মীর মাহবুবুর রহমানের দিকনির্দেশনায় এসআই (নিঃ) মো. আইয়ুব খান সঙ্গীয় ফোর্সসহ অভিযান চালিয়ে আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করেন।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, শিশুটি প্রায় দুবছর ধরে ওই শিক্ষকের কাছে ধর্মীয় শিক্ষার প্রাইভেট পড়ছিল। গত তিন-চার মাস ধরে পড়ানোর সময় বিভিন্ন সময় তাকে ভয়ভীতি দেখানো ও শারীরিকভাবে যৌন নির্যাতন করা হয়েছে বলে শিশুটি তার মাকে জানিয়েছে। ভয়ে প্রথমে সে বিষয়টি কাউকে জানায়নি।

ঘটনার দিন বাড়িতে ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি করলে স্কুলের শিক্ষিকা সামছুন্নাহার বিষয়টি জানতে চান। পরে শিশুটি তার সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো জানান। শিক্ষিকা ফোন করে শিশুটির মাকে বিষয়টি অবহিত করেন এবং মেয়েকে ওই শিক্ষকের কাছে আর না পাঠানোর পরামর্শ দেন।

শিশুটির মা জানান, মেয়ের কাছ থেকে জানতে পেরেছেন, ঐসব কুকীর্তি কাউকে জানালে তাকে বস্তায় ভরে মারধর ও বালিশ দিয়ে চাপা দিয়ে মারার হুমকি দেওয়া হতো। হাত-পা টেনে ধরা ও শরীরের বিভিন্ন স্থানে ব্যথা দেওয়ার অভিযোগও করেছে শিশুটি। একটি ঘটনায় জামাকাপড় খুলে ফেলার অভিযোগ করেছে সে। ওই সময় ঐ মাদ্রাসা শিক্ষকের পরিবারের এক নারী সদস্য উপস্থিত ছিলেন বলেও শিশুটি জানিয়েছে।

শিশুর মা বলেন, আমার মেয়ে ভয়ে অনেক দিন বিষয়গুলো জানাতে পারেনি। ঘটনার দিন স্কুলের ম্যাডাম আমাকে ফোন করে জানান। পরে বিষয়টি প্রথমে আত্মীয়স্বজন এবং স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোশাররফ হোসেনসহ কয়েকজনকে অবগত করি। আমি ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে বিচার চাই।

শাহরাস্তি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক। সংবাদ পেয়েই গুরুত্বের সঙ্গে তৎক্ষণাৎ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় মামলা হয়েছে। 

তিনি আরও বলেন, আসামি আমিনুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করে যথাযথ পুলিশ স্কর্টের মাধ্যমে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। আদালত তাকে কারাগারে পাঠিয়েছেন। অভিযোগের বিষয়ে আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন