সংসদ অধিবেশনের শুরুতেই আলোচনায় রাষ্ট্রপতি!

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১০ মার্চ ২০২৬, ০৯:৫৪ পিএম

গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পর থেকেই রাজনৈতিক অঙ্গনে সবচেয়ে আলোচিত বিষয়-রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন কি বিদায় নিচ্ছেন? তিনি বিদায় নিলে কে হচ্ছেন নতুন রাষ্ট্রপতি? সম্প্রতি বিবিসি বাংলা বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে নিয়ে প্রকাশ করেছে বিশেষ এক প্রতিবেদন।

একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, বিএনপির নতুন সরকার এই মুহূর্তে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে সরিয়ে দেওয়া বা ওই পদে পরিবর্তনের চিন্তা করছে না। রাষ্ট্রপ্রধানের পদে পরিবর্তনের প্রশ্নে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি।

বিএনপির নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের একাধিক নেতার বরাতে বিবিসি বাংলা জানায়, বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ এখনো শেষ হয়নি। ফলে সংবিধান অনুযায়ী এখনই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের বিষয়টি আলোচনায় নেই।

২০২৩ সালের ২৪ এপ্রিল আওয়ামী লীগ সরকারের সময় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন মো. সাহাবুদ্দিন। সংবিধান অনুযায়ী ২০২৮ সালের ২৪ এপ্রিল পর্যন্ত তাঁর পদে থাকার মেয়াদ আছে। সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মো. সাহাবুদ্দিন যদি পদত্যাগ না করেন অথবা তাঁকে অভিশংসন বা অপসারণ না করা পর্যন্ত নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের আইনগত কোনো সুযোগ নেই।

রাষ্ট্রপতি পরিবর্তনের প্রশ্নে বিএনপির সর্বোচ্চ পর্যায়ে এখনো কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানিয়েছেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

২০২৪ সালের আগস্টে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের দাবি ওঠে। সে সময় সংবিধান সমুন্নত রাখার কথা জানিয়ে এর বিপক্ষে অবস্থান নেয় বিএনপি। বিএনপির যুক্তি ছিল, রাষ্ট্রপতিকে সরিয়ে দেওয়া হলে দেশে সংবিধান ও আইনবহির্ভূত একটি অরাজকতা বা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে।

আগামী ১২ মার্চ থেকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হচ্ছে। অধিবেশনের প্রথম দিনই নির্বাচিত হবেন স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার। নিয়ম অনুযায়ী, প্রথম দিন সংসদে ভাষণ দেবেন রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন।

জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) অবশ্য সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের বিরোধিতা করছে। তারা রাষ্ট্রপতিকে অভিশংসন করে গ্রেপ্তারের দাবিও জানিয়েছে। এনসিপির এই অবস্থানে জামায়াতে ইসলামীর সমর্থন থাকলেও বিএনপি এই দাবিকে খুব একটা গুরুত্ব দিচ্ছে না। এরই মধ্যে সরকারের পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির ভাষণ তৈরি করা হয়েছে এবং প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে মন্ত্রিসভায় তা অনুমোদিত হয়েছে।

সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী শাহদীন মালিকের মতে, অভিশংসন বা অপসারণের পথ অনুসরণ করলে রাষ্ট্রপতিকে সরানোর দায় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের ওপর বর্তায়। বিএনপি আপাতত এই পথে হাঁটতে আগ্রহী নয়। তবে মো. সাহাবুদ্দিন যদি নিজে থেকে স্পিকারের কাছে পদত্যাগপত্র জমা দেন, তবেই দ্রুত পরিবর্তনের সুযোগ রয়েছে।

বিএনপি ও সরকারের নীতিনির্ধারকদের একটি অংশ মনে করছে, জুলাই সনদ অনুযায়ী সংবিধান সংশোধন করে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা ফিরিয়ে আনতে হবে। সে ক্ষেত্রে বর্তমান রাষ্ট্রপতির মেয়াদ বহাল থাকলে ভবিষ্যতে কোনো সাংবিধানিক শূন্যতা বা সংকট তৈরির ঝুঁকি কম থাকবে।

বর্তমান রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন অল্প সময়ের ব্যবধানে তিনটি সরকারের শপথ পড়িয়ে উদাহরণ সৃষ্টি করেছেন। ২০২৪ সালের ৭ জানুয়ারি আওয়ামী লীগ সরকারের প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের শপথ পড়ানোর পর আগস্টে তিনি ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের শপথ পড়ান। সর্বশেষ ১২ ফেব্রুয়ারি তিনি তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বিএনপি সরকারেরও শপথ পড়িয়েছেন।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন