গণমাধ্যম সহ সকল খাত সংস্কারে তাত্ত্বিক নয়, প্রয়োগিক দৃষ্টিভঙ্গিতে বর্তমান সরকার বেশি জোর দিচ্ছে বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন। তিনি বলেন, নির্বাচনী ইশতেহার অনুযায়ী বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও টেলিকম নীতিমালায় প্রয়োজনীয় সংস্কার নিয়ে আসবে বিএনপি সরকার। এছাড়া রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত মিডিয়াগুলোর জন্য একটি কমিটি গবেষণা প্রতিবেদনের কাজ শুরু করেছে। যেখান থেকে পাওয়া মূল্যায়ন বিবেচনায় নিয়েই এগুলোর সংস্কার করা হবে।
বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরামে (ইআরএফ) আয়োজিত এক সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তথ্যমন্ত্রী। অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ইআরএফ সভাপতি দৌলত আক্তার মালা।
এ সময় এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরম ও ইআরএফের মধ্যে একটি সমঝোতা স্বারক স্বাক্ষরিত হয়েছে। যার মধ্য দিয়ে এই প্ল্যাটফরম সাংবাদিকদের সঙ্গে নিয়ে সরকারের সব ধরনের সংস্কার কার্যক্রম নজরদারি করবে। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন এসডিজি বাস্তবায়নে নাগরিক প্ল্যাটফরমের আহ্বায়ক এবং সিপিডির বিশিষ্ট ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভাট্টাচার্য।
তথ্যমন্ত্রী বলেন, টেলিকম নীতিমালার ও গণমাধ্যম নীতিমালার বিষয়গুলো পুনঃমূল্যায়ন করা হচ্ছে। এগুলো শেষ হলে আমরা তার আলোকে বাস্তবায়নে যাবো। এছাড়া ব্রিটিশ ব্রডকাষ্টিং সিস্টেমের আদলে বাংলাদেশের গণমাধ্যম ও সম্প্রচার ব্যবস্থাকে পুনর্গঠন করা হবে। এছাড়া সাংবাদিকদের ওয়েজ বোর্ড কারা দিচ্ছে কারা দিচ্ছে না এ বিষয়গুলো নিয়েও কাজ চলছে।
এছাড়া, মিডিয়ার সকল পক্ষকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত একটি বিজ্ঞাপন নীতিমালা তৈরির বিষয়টিও বিবেচনাধীন বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, সার্কুলেশন নিয়ে মিথ্যা তথ্য ও সামষ্টিক প্রতারণা বন্ধ করতে হবে। সাইবার জগতে নৈরাজ্যের ঠেকাতে সবাইকে নিয়ে একসঙ্গে কাজ করার কথা জানান তিনি।
এসময় দুই ধরনের সাংবাদিকতার উল্লেখ করে নিউ এইজ পত্রিকার সম্পাদক নূরুল কবীর বলেন, আমাদেরকে লিপ্ততার সাংবাদিকতা বেছে নিতে হবে- যেখানে সকল অনিয়ম অন্যায় ও দুর্নীতির বিরুদ্ধে লিখবেন সংবাদিকরা।
এক প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, জাতীর সংকটকালে সাংবাদিকদের এক্টিভিজম করার দরকার আছে। তবে সেটা যাতে দলীয়করণ না হয় সেদিকে নজর রাখার পরামর্শ প্রদান করেন।
অন্তবর্তী সরকারের সময়ে গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন বাস্তবায়ন না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করে দি ফিন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেসের সম্পাদক শামসুল হক জাহিদ বলেন, আমি হতাশ, কারণ আমি এর অংশ ছিলাম। কমিশনের প্রতিবেদন ২০২৫ সালের মার্চে প্রদান করেছি। সে সময়ের সরকার প্রধান ড. ইউনুস আমাদের কাছে দ্রুত বাস্তবায়নযোগ্য বিষয়গুলো আলাদাভাবে দেওয়ার কথা বলেন। কিন্তু সেগুলো দেওয়ার পরও এতটুকু সংস্কারও হয়নি।
তিনি বলেন, বর্তমানে পত্রিকার অবস্থা সবচেয়ে বেশি খারাপ। বিজ্ঞাপনের হার কমে গেছে। বাস্তবতার প্রেক্ষিতেই ইংরেজি পত্রিকার সার্কুলেশন কম হলেও সেটাকে তুলনা করা হয় বাংলা পত্রিকার সঙ্গে। যা কোনভাবেই কাম্য নয়। এই প্রেক্ষিতে সরকার যদি কমিশনের প্রতিবেদন অনুযায়ী সংস্কারগুলো করে তাহলে আমাদের মিডিয়ার আধুনিকায়ন হবে।
অনুষ্ঠানে ইআরএফ সাধারন সম্পাদক আবুল কাশেম সাংবাদিকের ওয়েজ বোর্ড নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, সাংবাদিকদের পেনশন বাস্তবায়নের বিষয়ে আলোচনা হলেও ন্যূনতম বেতন কাঠামো নিয়ে কোন আলোচনা নেই। অথচ ২০১৩ সালে ৮ম বেতন কাঠামো নির্ধারণের পর এতে আর কোন পরিবর্তন আসেনি। অথচ সরকারি চাকরিজীবিদের বেতন ভাতা এর মধ্যে দ্বিগুণ হয়ে গেছে। ২০১৮ সালে সরকার নবম বেতন কাঠামো ঘোষনা করেছিল, যা শুধুমাত্র বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা ছাড়া কোথাও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
তিনি প্রশ্ন তোলেন, বেতন ভাতার কাঠামোই যদি ঠিক না থাকে তাহলে পেনশন সুবিধা পাওয়া পর্যন্ত সাংবাদিকরা টিকবে কি করে?
