সনজীদা খাতুনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ 

বাঙালি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অন্যতম পুরোধা, ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ও সভাপতি সনজীদা খাতুনের প্রথম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। গত বছর এই দিনে ৯১ বছর বয়সে রাজধানীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তিনি। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী থাকা অবস্থায় বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছিলেন সনজীদা খাতুন। সে সময় থেকেই শুদ্ধ সংগীতের চর্চার পাশাপাশি সাংস্কৃতিক অঙ্গণে বিচরণ শুরু করেন তিনি। সনজীদা খাতুনের লেখার একটি বড় অংশ জুড়ে আছেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর। জনমানসে কবিগুরুকে পৌঁছে দেওয়ার কাজে জীবদ্দশায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন তিনি।

একাধারে লেখক, শিল্পী, গবেষক, সংগঠক, সংগীতজ্ঞ ও শিক্ষক সনজীদা খাতুন একুশে পদক, বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার, রবীন্দ্র স্মৃতি পুরস্কারে (পশ্চিমবঙ্গ, ভারত) ভূষিত হন তিনি। তিনি মুক্তিযুদ্ধ, বাঙালির সংস্কৃতি সংগ্রামের ওপর ১৬টি বই লিখেছেন। এ ছাড়া বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ও রবীন্দ্র সংগীতের ওপর বেশকিছু বই লিখেছেন তিনি।

সনজীদা খাতুন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিসংখ্যান বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা ও জাতীয় অধ্যাপক কাজী মোতাহার হোসেনের কন্যা। ১৯৩৩ সালের ৪ এপ্রিল তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পড়াশোনা করেছেন কামরুন্নেসা স্কুল, ইডেন কলেজ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এবং শান্তি নিকেতনের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বাংলা ভাষা ও সাহিত্যে স্নাতক ও রবীন্দ্রভারতী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে স্নাতকোত্তর করে ১৯৭৮ সালে সেখান থেকেই পিএইচডি করেন। দীর্ঘদিন অধ্যাপনার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা ভাষা ও সাহিত্য বিভাগ থেকে তিনি অবসর নেন।

গত শতকের ষাটের দশকের শুরুর দিকে বাঙালি সংস্কৃতির প্রতি নিবেদিত প্রতিষ্ঠান ছায়ানটের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা ছিলেন সনজীদা খাতুন। ছায়ানটের পাশাপাশি জাতীয় রবীন্দ্র সংগীত সম্মিলন পরিষদেরও প্রতিষ্ঠাতা সদস্য তিনি। এ ছাড়া প্রচলিত ধারার বাইরে ভিন্নধর্মী শিশুশিক্ষা প্রতিষ্ঠান নালন্দার সভাপতির দায়িত্বও পালন করেছেন। ছিলেন এশিয়াটিক সোসাইটির সাম্মানিক ফেলো।