বৈশাখী টেলিভিশনের সিনিয়র রিপোর্টার কাজী ফরিদ আহমদকে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি কর্তৃক মোবাইল ফোনে হুমকি দেওয়ার ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)। পাশাপাশি ঘটনায় দায়ীদের চিহ্নিত করে শাস্তির আওতায় আনার দাবী জানিয়েছে সংগঠনটি।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে এ দাবি জানায় আরএফইডি।
আরএফইডি’র দপ্তর সম্পাদক নাজনীন লাকি গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে উল্লেখ করেন, কাজী ফরিদ আহমদ পেশাগত কাজে বা কর্মস্থলে গেলে বড় ধরনের ক্ষতি করা হবে বলে ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হয়। এই হুমকির পর থেকে তিনি ও তার পরিবারের সদস্যরা চরম নিরাপত্তাহীনতা ও আতঙ্কের মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজের ও পরিবারের ভবিষ্যতের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে রাজধানীর বনানী থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন তিনি।
জিডিতে উল্লেখ করা হয়, গত ৮ সেপ্টেম্বর আনুমানিক রাত ১১টা ১৯ মিনিটে কাজী ফরিদ আহমদ যখন নরসিংদীর পলাশ এলাকায় অবস্থান করছিলেন, তখন তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোনে একটি অজ্ঞাত নম্বর থেকে কল আসে।
ফোন করে নিজের কোনো পরিচয় প্রকাশ না করে ফরিদ উদ্দিনকে সরাসরি তার কর্মস্থলে যেতে নিষেধ করেন। নির্দেশ অমান্য করে কর্মস্থলে গেলে তার মারাত্মক ক্ষতি করা হবে বলে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনার পর থেকে কাজী ফরিদ ও তার পরিবার গভীর উদ্বেগের মধ্যে রয়েছেন বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।
আরএফইডি’র সহ-সভাপতি ও মেধাবী এই গণমাধ্যমকর্মীকে দেওয়া হুমকির ঘটনায় গভীর উদ্বেগ ও তীব্র নিন্দা প্রকাশ করেছে রিপোর্টার্স ফোরাম ফর ইলেকশন অ্যান্ড ডেমোক্রেসি (আরএফইডি)। এক যৌথ বিবৃতিতে সংগঠনের সভাপতি কাজী এমাদ উদ্দীন জেবেল ও সাধারণ সম্পাদক ইকরাম-উদ দৌলা বলেন, ‘সাংবাদিকদের নির্বাচনী দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি গণতন্ত্র ও নির্বাচন বিষয়ে সক্রিয় একটি সংগঠনের শীর্ষ নেতাকে এভাবে হুমকি দেওয়া অত্যন্ত উদ্বেগের বিষয়।’
তারা আরও বলেন, ‘এ ধরনের হুমকি কেবল একজন ব্যক্তির নিরাপত্তার সংকট তৈরি করে না, বরং দেশের সর্বস্তরের গণমাধ্যমকর্মী ও নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের স্বাধীনভাবে পেশাগত দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে বড় ধরনের প্রতিবন্ধকতা ও ভীতি সৃষ্টি করে।’
নেতৃবৃন্দ আরও বলেন, কোনো ব্যক্তি বা স্বার্থান্বেষী গোষ্ঠী হুমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে সাংবাদিক কিংবা নির্বাচন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের কণ্ঠরোধ করতে পারে না। এ ধরনের অপকর্ম দেশের গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও আইনের শাসনের জন্য সরাসরি হুমকি স্বরূপ।
বিবৃতিতে আরএফইডির শীর্ষ নেতারা প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, কাজী ফরিদ আহমদকে দেওয়া হুমকির বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করতে হবে। অবিলম্বে প্রযুক্তির সাহায্যে হুমকিদাতাদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। পাশাপাশি তারা কাজী ফরিদ ও তার পরিবারের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি সাংবাদিকদের নিরাপদ কর্মপরিবেশ তৈরির জন্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
