সিন্ডিকেটের বাধায় দুই দফা অ্যাম্বুলেন্স আটকা, পথেই মারা গেল রোগী

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ১২:২৫ পিএম

শরীয়তপুরে থেকে ঢাকাগামী একটি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স দুই দফা আটকে রাখায় অসুস্থ অবস্থায় জমশেদ আলী ঢালী (৭০) নামের এক রোগীর মৃত্যুর অভিযোগ উঠেছে। মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারী) দুপুরে ঢাকায় হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই রোগীর মৃত্যু হয় জমশেদ আলীর। মারা জাওয়া জমশেদ আলী ঢালী ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার বাসিন্দা।

স্বজন ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার সকালে ডামুড্যা উপজেলার কুতুবপুর এলাকার জমশেদ আলী ঢালীকে অসুস্থ অবস্থায় সদর হাসপাতালে ভর্তি করে স্বজনরা। তবে সেখানে তার অবস্থার উন্নতি না হওয়ায় ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসক। এরপর স্বজনরা তাকে ঢাকা নিয়ে যাওয়ার জন্য স্থানীয় একটি অ্যাম্বুলেন্স সাড়ে ছয় হাজার টাকায় ভাড়া করলে রোগী উঠানোর পর আরো বেশি ভাড়া দাবী করে অ্যাম্বুলেন্স চালক। পরে রোগীর স্বজনরা অন্য আরেকটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে। ঢাকা যাওয়ার পথে গাগ্রীজোড়া এলাকায় গাড়িটির গতিরোধ করেন স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স মালিক সিন্ডিকেটের সুমন, মানিক ও চালক পারভেজ এবং সজীবসহ অন্তত ৭-৮জন ব্যক্তি। এসময় অন্তত ত্রিশ মিনিট বাকবিতণ্ডা হলে স্থানীয়রা এগিয়ে আসলে অ্যাম্বুলেন্সটি ছেড়ে দেয় তারা। এরপর চালক অ্যাম্বুলেন্সটি নিয়ে পুনরায় ঢাকা যাওয়ার জন্য রওনা হলে পথিমধ্যে জামতলা এলাকায় আবারও তাদের গতিরোধ করে রোগীকে ছিনিয়ে নেয়ার চেষ্টা চলে। দীর্ঘ ৪০ মিনিট পর স্থানীয়দের সহযোগিতায় গাড়িটি ছেড়ে দিলে ঢাকায় নেয়ার পথিমধ্যেই রোগীটি মারা যায়। পরে তিনটার দিকে ঢাকার নিউরো সাইন্স হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তার মৃত্যু নিশ্চিত করেন।

রোগীর নাতি জোবায়ের হোসেন বলেন, আমার নানাকে হাসপাতালে ভর্তি করালে ডাক্তার জানায় তাকে জরুরী ঢাকায় নিতে হবে। তারপর আমরা হাসপাতালের ভেতর থেকে একটা অ্যাম্বুলেন্স সাড়ে ছয় হাজার টাকায় ভাড়া করে নানাকে উঠাই। তবে তারা আরও বেশি ভাড়া দাবী করে। আমাদের কাছে বেশি টাকা না থাকায় তাদের অ্যাম্বুলেন্স থেকে নানাকে নামিয়ে এলাকার একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঁচ হাজার টাকায় ভাড়া করে রওনা করি। পরে ঢাকা রওনা করলে দুই বার স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালক ও তাদের লোকজন আমাদের অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখে। তাদের কারনে আমার নানাকে ঢাকায় নিতে দেরি হয়েছে পরে হাসপাতালে নেয়ার পর ডাক্তার জানায় আমার নানা বেঁচে নেই। আমরা ওদের বিচার চাই।

অ্যাম্বুলেন্স চালক সালমান বলেন, স্থানীয় অ্যাম্বুলেন্স চালকরা ভাড়া বাড়িয়ে ৭ হাজার টাকা চেয়েছিলো। আমি পাঁচ হাজার টাকায় রাজি হয়ে রোগী নিয়ে ঢাকায় যাচ্ছিলাম। পথে প্রথমে কোটাপাড়া ব্রিজ পার হলে কয়েকজন এসে আমার গাড়ির চাবি নিয়ে যায়। সেখানে ত্রিশ মিনিট আমাদের গাড়ি আটকে রেখে রোগীকে নামিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা চালায়। তখন স্থানীয় লোকজন আসলে তারা ছেড়ে দেয়। আবার যখন জামতলা এলাকায় পৌঁছাই তখন আবার তারা আমার গাড়ির গতিরোধ করে ৪০ মিনিট আটকে রাখে। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় কোনমতে সেখানে থেকে ঢাকায় পৌঁছালে চিকিৎসক জানায় রোগী মারা গেছে। এদিকে ঘটনার পর লাপাত্তা অভিযুক্ত ওই অ্যাম্বুলেন্স চালক সিন্ডিকেটের সদস্যরা।

তবে বিষয়টি নিয়ে শরীয়তপুর জেলা অ্যাম্বুলেন্স মালিক সমিতির সভাপতি আব্দুল হাই বলেন, যারা এ ধরণের কাজ করেছে তাদের কোনো ছাড় নেই। তাদের কঠিন বিচার করা হোক। আমি কখনোই কাউকে বলিনি তোমরা জোরকরে রোগী নিয়ে যাও বা গাড়ি আটকাও। আমাদের হাসপাতাল থেকে ছয় হাজার টাকায় গাড়ি ফিক্সড ভাড়া করে দেয়া হয়েছে। যারা এই ঘটনার সাথে জড়িত তাদের বিচার হওয়া দরকার।

এ ব্যাপারে পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, রুগীদের পক্ষ থেকে একজন লোক এসে আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমি তাদের লিখিত অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযোগ পেলে পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ নেয়া হবে।

এর আগে গত বছরের ১৪ আগস্ট একইভাবে অ্যাম্বুলেন্স সিন্ডিকেট একটি রোগী বহনকারী অ্যাম্বুলেন্স আটকে রাখায় অসুস্থ অবস্থায় এক নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছিলো। বিষয়টি নিয়ে জেলা জুড়ে ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর