সিলেটে পার্কভিউ হাসপাতালে বেতন বৃদ্ধির আন্দোলন নিয়ে দিনভর উত্তেজনা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৪ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১১ এএম

সিলেটের পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মচারীদের আন্দোলনকে কেন্দ্র করে দিনভর উত্তেজনা, ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে নগরের তালতলা এলাকার পার্কভিউ হাসপাতাল ভবনে এসব ঘটনা ঘটেছে। বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মচারীদের আন্দোলনের বিষয়টি কালবেলাকে নিশ্চিত করেছেন কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মো. মঈনুল জাকির।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শনিবার সকাল থেকে বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মবিরতি শুরু করেন হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারীরা। তারা হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করেন। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ আন্দোলনকারীদের কাজে ফেরার অনুরোধ করলেও তারা কর্মসূচি চালিয়ে যান।

দুপুরের দিকে হাসপাতালে যান সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। এ সময় আন্দোলনকারী কয়েকজন তাকে দেখে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে হাসপাতালের ভেতরে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে কয়েকজন কর্মচারীকে সেমিনার হলে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের কয়েকজনকে ইমদাদ চৌধুরীর কর্মী সমর্থকরা বেধড়ক মারধর করে। একজনকে পুলিশ আটক করে এবং তাকে হাতকড়া পরানো হয়। পরে কর্মচারী কয়েকজন ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর পা ধরে ক্ষমা চান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান।

কর্মচারীদের অভিযোগ, ওই ব্যক্তি ক্ষমা চাওয়ার সময় বহিরাগত কয়েকজন তাকে মারধর করেন। পরে তিনি কক্ষ থেকে বের হয়ে লিফটের সামনে গেলে সেখানেও তাকে মারধর করা হয়। হামলাকারীরা বিএনপির নেতাকর্মী বলে অভিযোগ করেন কর্মচারীরা।

এরপর হাসপাতালের ভেতরে কর্মচারী ও বহিরাগতদের মধ্যে ধাক্কাধাক্কি, হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। আন্দোলনকারীদের দাবি, এতে তাদের প্রায় ৩০ জন কর্মী আহত হয়েছেন।

পার্কভিউ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা শাখার কর্মচারী আহমদ আল জুবের বলেন, ‘স্লোগান দেওয়ার কারণে আমরা ইমদাদ হোসেন চৌধুরীর কাছে ক্ষমা চেয়েছি। এরপর আমাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এতে আমাদের প্রায় ৩০ জন কর্মী আহত হয়েছেন।’

আরেক কর্মচারী বলেন, ‘আমি ১৭ বছর বিএনপি করেছি। আজ বিএনপির লোকজনই আমার ওপর হামলা করেছে। আমাদের মারধর করা হয়েছে। স্লোগান দেওয়ার জন্য ক্ষমা চেয়েছি। এরপরও আমাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

উত্তেজনাকর পরিস্থিতির মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টা হাসপাতালে অবস্থান করেন ইমদাদ হোসেন চৌধুরীসহ বিএনপির নেতারা। বিকেলে তিনি হাসপাতাল থেকে বের হওয়ার সময় আবারও আপত্তিকর স্লোগান দেওয়া হয় বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে আবারও ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে।

তবে কর্মচারীদের ওপর হামলা ও বিএনপির নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে উসকানির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ইমদাদ হোসেন চৌধুরী। তিনি কালবেলাকে বলেন, পার্কভিউ হাসপাতালের আন্দোলনরত কর্মচারীদের মূল দাবিগুলো কর্তৃপক্ষ মেনে নিয়েছে এবং আগামী নভেম্বর থেকে তা বাস্তবায়ন হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান হওয়ায় কর্মচারীরা ভুল বুঝতে পেরে ক্ষমা চেয়েছেন।

তিনি বলেন, কর্মচারীদের ওপর বিএনপি নেতাদের উসকানি, হামলা বা আটকের অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা বা হাতাহাতি ঘটে থাকলে তা তার অগোচরে হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বেতন-সংক্রান্ত সমস্যা সমাধান করতেই তিনি সেখানে ছিলেন। বর্তমান সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী কোনো ধরনের মব সৃষ্টির সুযোগ দেওয়া যাবে না। কর্তৃপক্ষের অনুরোধে তিনি শুধু সমস্যাটির সমাধান নিশ্চিত করেছেন।

কোতোয়ালি মডেল থানার ওসি খান মো. মঈনুল জাকির বলেন, বেতন-ভাতা বৃদ্ধির দাবিতে কর্মচারীরা কাজ বন্ধ রেখে আন্দোলন করছিলেন। এ সময় তাদের মধ্যে কিছুটা উত্তেজনা ও হাতাহাতি হয়। তবে বহিরাগতদের হামলা, মারধর বা কর্মচারী আহত হওয়ার অভিযোগ সঠিক নয়। পরে কর্তৃপক্ষ ও কর্মচারীদের নেতাদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে বিকেল আড়াইটা থেকে ৩টার মধ্যে বিষয়টির সমাধান হয়। পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ শুধু নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করেছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর