মানুষের উত্তম পাঁচ গুণ
হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) একবার ঘোষণা করলেন, এমন কে আছো যে, আমার থেকে কিছু শুনে রাখবে, অতঃপর তার ওপর আমল করবে এবং ওই সব লোকের শিক্ষা দেবে যারা তার ওপর আমল করবে? তখন আমি বললাম, ইয়া রাসুলাল্লাহ! আমি প্রস্তুত আছি। তখন নবীজি মহব্বতের সঙ্গে আমার হাত তার হাতের ভেতর টেনে নিয়ে গুনে গুনে পাঁচটি কথা বললেন—১. তুমি হারাম থেকে বেঁচে থাকবে, তাহলে সবচেয়ে বড় ‘আবেদ’ (ইবাদতকারী) হবে। ২. আল্লাহ তোমাকে যাই দিয়েছেন, তাতেই সন্তুষ্ট হয়ে যাও, তাহলে সবচেয়ে বড় ধনী হবে। ৩. তোমার প্রতিবেশীর সঙ্গে সবসময় ভালো ব্যবহার করবে, তাহলে ‘মুমিন’ হবে। ৪. তুমি নিজের জন্য যা পছন্দ করো, অন্যের জন্যও তাই পছন্দ করবে, তাহলে ‘মুসলিম’ হবে। ৫. বেশি হাসবে না, কেননা বেশি হাসা অন্তরকে মৃত করে দেয়। (তিরমিজি: ২৩০৫)
শিক্ষা
১.কাউকে উপদেশ-নসিহত করতে হলে মহব্বতের সঙ্গে করা। এতে শ্রোতার অন্তরে উপদেশ বাণী খুব সহজেই রেখাপাত করে।
২. অনেকেই অনেক ইবাদত-বন্দেগি করেন, কিন্তু হারাম থেকে বেঁচে থাকার ব্যাপারে সচেতন নন। ফলে গুনাহের কারণে সওয়াব হ্রাস পেতে থাকে।
৩.অনেকে নামাজ-রোজা ইত্যাদি ইবাদত ঠিকমতো আদায় করেন, কিন্তু পাড়া-প্রতিবেশীর খোঁজ রাখেন না। প্রিয় নবীজি যেমন নামাজ-রোজা করতেন, তেমনি পরিবার-প্রতিবেশীর খবরও রাখতেন।
৪. এসব গুণ নবীজি খুব যত্নের সঙ্গে আবু হুরায়রাকে (রা.) শিখিয়েছেন এবং অন্যকে শেখানোর জন্যও বলেছেন।
