হাসপাতাল এলাকা নয়, যেন ময়লার ভাগাড়!

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৩৮ পিএম

হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনেই ময়লার স্তূপ। আবর্জনার দুর্গন্ধে নাক-মুখ চেপে চলাচল করতে হচ্ছে রোগী, স্বজন, পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দাদের। মশা-মাছির উপদ্রবেও ঝুঁকিতে জনস্বাস্থ্য।

হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের অদূরের এমন দৃশ্যে স্থানীয়দের প্রশ্ন—এটি হাসপাতাল এলাকা নয় নাকি ময়লার ভাগাড়?

সরেজমিনে দেখা যায়, হবিগঞ্জ-নবীগঞ্জ সড়কের পাশেই অবস্থিত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনেই খালে ময়লার স্তূপ পড়ে রয়েছে। বর্জ্যের একটি অংশ পচে যাওয়ায় আশপাশে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ছে। ফলে ওই এলাকা দিয়ে চলাচলের সময় অনেক পথচারীকে নাক-মুখ চেপে রাখতে দেখা যায়।

গুরুত্বপূর্ণ এ স্থানটি প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষ ব্যবহার করেন। হাসপাতালের পাশাপাশি আশপাশে রয়েছে বাস ও সিএনজি স্ট্যান্ড, ফার্মেসি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও আবাসিক এলাকা। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সড়কের পাশে বর্জ্য ফেলার কারণে পরিবেশের পাশাপাশি জনস্বাস্থ্যও ঝুঁকিতে পড়ছে।

স্থানীয়দের মতে, হাসপাতালের সামনে এমন পরিবেশ রোগী ও স্বজনদের জন্য বাড়তি ভোগান্তি তৈরি করছে। বিশেষ করে শিশু, বয়স্ক ও শ্বাসতন্ত্রের সমস্যায় থাকা ব্যক্তিরা দুর্গন্ধে বেশি অস্বস্তিতে পড়ছেন বলে তারা জানান।

শচীন্দ্র কলেজের শিক্ষার্থী তারিন আক্তার বলেন, ‘সিএনজিতে করে নিয়মিত যাতায়াত করি। হাসপাতালের সামনে এলেই তীব্র দুর্গন্ধে অস্বস্তি হয়। প্রতিদিন শিক্ষার্থীসহ অসংখ্য মানুষকে এ দুর্ভোগের মধ্য দিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে।’

ব্যবসায়িক কাজে নিয়মিত নবীগঞ্জ থেকে হবিগঞ্জে যাতায়াতকারী ইমন মিয়া জানান, তিনি শ্বাসকষ্টের সমস্যায় ভুগছেন। এ ব্যবসায়ীর অভিযোগ, হাসপাতালের সামনের ময়লার দুর্গন্ধে ওই স্থান অতিক্রমের সময় তার শ্বাস নিতে অস্বস্তি হয়।

স্থানীয় সিএনজি শ্রমিকদের অভিযোগ, স্ট্যান্ডে দীর্ঘ সময় অবস্থান করতে হয় তাদের। ময়লার দুর্গন্ধে চালক ও যাত্রী উভয়েই বিড়ম্বনায় পড়ছেন। একই ধরনের সমস্যার কথা জানিয়েছেন বাস শ্রমিকরাও।

স্থানীয় বাসিন্দা চৌধুরী ফয়সাল সোয়েব বলেন, ময়লা-আবর্জনা ও দুর্গন্ধের কারণে এলাকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরে দুর্ভোগ পোহাচ্ছেন। বিষয়টি নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার কথা বলা হলেও দৃশ্যমান পরিবর্তন হয়নি। ময়লা জমে থাকায় মশা-মাছির উপদ্রবসহ নানা রোগের আশঙ্কাও রয়েছে।

নবীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. আব্দুস সামাদ বলেন, হাসপাতালের সামনে ময়লা ফেলার কারণে রোগী, স্বজন ও হাসপাতালের কর্মীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। প্রশাসনিক বিভিন্ন সভায় বিষয়টি পৌর কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং হাসপাতালের সামনে ময়লা না ফেলতে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।

তবে নবীগঞ্জ পৌরসভার নির্বাহী কর্মকর্তা আয়েশা বেগম বলেন, বিষয়টি তাদের নজরে এসেছে। পৌর পশুর হাটের পাশে সরকারি খাসজমিতে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। সেখানে রাস্তার কাজ শেষ হলে ওই স্থানে বর্জ্য ফেলা হবে।

বর্তমানে হাসপাতালের সামনে ময়লা ফেলা হচ্ছে না বলেও তিনি দাবি করেন। তবে দু’দিন আগেও ওই স্থানে ময়লা ফেলতে দেখা গেছে—এমন তথ্য জানানো হলে নির্বাহী কর্মকর্তা বলেন, বিষয়টি তার জানা নেই।

স্থানীয়দের দাবি, শুধু আশ্বাস নয়, হাসপাতালের সামনে জমে থাকা বর্জ্য দ্রুত অপসারণ, নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার ব্যবস্থা এবং নিয়মিত তদারকি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। হাসপাতালের মতো জনসেবামূলক প্রতিষ্ঠানের সামনে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর