১০ হাজার টাকা পুঁজি থেকে সফল উদ্যোক্তা ফজিদুল

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:৩১ এএম

মাত্র ১০ হাজার টাকা পুঁজি, পুরোনো দুটি সেলাই মেশিন এবং দুজন অপারেটর নিয়ে শুরু করেছিলেন নীলফামারীর ডিমলা উপজেলার ফজিদুল ইসলাম। তিন বছরের ব্যবধানে সেই ছোট উদ্যোগে এখন ৩১টি সেলাই মেশিন, ২৫ জন অপারেটর ও সাতজন কর্মচারী। বর্তমানে মাসে প্রায় ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার ডেকোরেশন সামগ্রী উৎপাদন করছেন তরুণ উদ্যোক্তা ফজিদুল।

ফজিদুল ইসলাম বলেন, উৎপাদিত পণ্যের প্রায় পুরোটাই একই সময়ে বিক্রি হয়ে যায়। কাঁচামাল, শ্রমিকদের মজুরি, বিদ্যুৎ, পরিবহন, ঋণের কিস্তিসহ অন্যান্য খরচ মিটিয়ে মাস শেষে নিট লাভ থাকে প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার টাকা।

নিজের ব্যবসা গড়ে তোলার পাশাপাশি ৩২ জনের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করেছেন ফজিদুল। তার প্রতিষ্ঠানের নাম ‘ফারিহা ডিজাইন সেন্টার (FARIHA DESIGN CENTER)’। শুধু ডিমলা নয়, সারা দেশের ব্যবসায়ীরা তার কাছ থেকে পণ্য নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন ফজিদুল। অনলাইনে অর্ডার নিয়ে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে ডেকোরেশন সামগ্রী।

সরেজমিন দেখা যায়, ডিমলা সদর ইউনিয়নের ডিমলা আরবিআর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের দক্ষিণে হাইস্কুলপাড়া এলাকায় পৈতৃক জায়গায় গড়ে উঠেছে ফারিহা ডিজাইন সেন্টার। পুরোনো টিনের শেডে ছোট পরিসরে শুরু হওয়া প্রতিষ্ঠানটিতে এখন সারি সারি সেলাই মেশিনে চলছে কর্মযজ্ঞ। কেউ কাপড় কাটছেন, কেউ নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী সেলাই করছেন। আবার কেউ তৈরি পণ্য গুছিয়ে কুরিয়ারযোগে পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

ফজিদুল ইসলামের এ উদ্যোগের পেছনে রয়েছে তার প্রয়াত বাবা মাইক জহুরুল ইসলামের স্বপ্ন। জীবদ্দশায় জহুরুল ইসলামের স্বপ্ন ছিল উত্তরাঞ্চলের একটি মাল্টিমিডিয়া ডিজাইন সেন্টার গড়ে তোলা। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের আগেই তিনি মারা যান। বাবার মুখে বারবার শোনা সেই স্বপ্ন ছেলের মনে গভীরভাবে গেঁথে যায়। বাবার মৃত্যুর এক বছর পর ২০২৩ সালের ২৫ জুলাই সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেন ফজিদুল।

স্থানীয় বাসিন্দা মো. শহিদুল ইসলামের পরামর্শে ১০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি পুরোনো ও অকেজো সেলাই মেশিন কিনে মেরামত করেন ফজিদুল। এরপর দুজন অপারেটর নিয়ে ডেকোরেশন সামগ্রী তৈরির কাজ শুরু করেন। পৈতৃক জায়গায় ছোট পরিসরে শুরু হওয়া সেই উদ্যোগ ধীরে ধীরে ক্রেতাদের কাছে পরিচিতি পেতে থাকে।

ব্যবসা সম্প্রসারণের জন্য পরবর্তী সময় দুটি বেসরকারি এনজিও থেকে মোট ১৪ লাখ টাকা ঋণ নেন ফজিদুল। মাসিক কিস্তিতে সেই ঋণ পরিশোধ করছেন তিনি। উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি ক্রেতাদের চাহিদা ও নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী বিভিন্ন ধরনের ডেকোরেশন সামগ্রী তৈরি করছেন।

ফজিদুল ইসলামের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে তার প্রতিষ্ঠানে মাসে ১৫ থেকে ২০ লাখ টাকার পণ্য উৎপাদন হয়। দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলা থেকে অনলাইনে ব্যবসায়ীরা অর্ডার দেন। ক্রেতার পছন্দ ও নির্ধারিত নকশা অনুযায়ী নিজস্ব মেশিন ও দক্ষ অপারেটরদের মাধ্যমে পণ্য তৈরি করা হয়। পরে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে সেগুলো দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হয়।

ফজিদুল ইসলাম বলেন, বাবার স্বপ্ন ছিল ডিমলায় একটি ডিজাইন সেন্টার গড়ে তোলা। তিনি সেটি করে যেতে পারেননি। বাবার সেই স্বপ্নই আমি নিজের স্বপ্ন হিসেবে নিয়েছি। অল্প পুঁজি দিয়ে শুরু করেছিলাম। এখন অনেক মানুষের কর্মসংস্থান হয়েছে। আরও বড় পরিসরে কাজ করতে চাই।

তিনি বলেন, ব্যবসা আরও সম্প্রসারণ করতে বড় মূলধনের প্রয়োজন। সরকারি-বেসরকারি সংস্থা থেকে সহজ শর্তে আর্থিক সহযোগিতা পাওয়া গেলে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি আরও মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করা সম্ভব হবে।

ডিমলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইমরানুজ্জামান বলেন, স্থানীয় তরুণদের উদ্যোক্তা হয়ে ওঠা এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টি নিঃসন্দেহে ইতিবাচক উদ্যোগ। ফজিদুল ইসলামের মতো উদ্যোক্তারা নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের কাজের সুযোগ তৈরি করছেন। এ ধরনের উদ্যোগকে উৎসাহিত করা প্রয়োজন। সরকারি সুযোগ-সুবিধার আওতায় উদ্যোক্তাদের সহায়তার সুযোগ থাকলে নিয়ম অনুযায়ী তা পাওয়ার ক্ষেত্রে প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হবে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর