১৪ লাখ বাংলাদেশির ভিসা ইস্যু করেছে সৌদি আরব

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০৭:৩৫ পিএম

ঢাকায় নিযুক্ত সৌদি আরবের রাষ্ট্রদূত ড. আবদুল্লাহ জাফর এইচ বিন আবিয়া জানিয়েছেন, ২০২৫ সালে বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য সৌদি সরকার ৭ লাখ ৫০ হাজার কাজের ভিসাসহ মোট ১৪ লাখ ভিসা ইস্যু করেছে।

রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমানের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে এই তথ্য জানান সৌদি রাষ্ট্রদূত। এ সময় তিনি সৌদি-বাংলাদেশ দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান সৌদি রাষ্ট্রদূতকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশের বিশ্বস্ত ও দীর্ঘদিনের অংশীদার হিসেবে সৌদি আরবকে বর্ণনা করেন। তিনি স্মরণ করেন যে, ১৯৭৬ সালে সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমানের নেতৃত্বে দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক সম্পর্ক শুরু হয়। রাষ্ট্রপতি জিয়া ১৯৭৭ সালে সৌদি আরবে একটি ঐতিহাসিক সফরও করেন। এ সময় উভয়পক্ষ মুসলিম ঐক্য প্রচারে তার ঐতিহাসিক অবদানের কথা স্বীকার করে।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী মধ্যপ্রাচ্য এবং মুসলিম উম্মাহজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা প্রতিষ্ঠায় সৌদি নেতৃত্বের ভূমিকার প্রশংসা করেন। তিনি সৌদি আরবে বিপুল সংখ্যক বাংলাদেশি কর্মীর জন্য কাজের সুযোগ সৃষ্টি করায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। পাশাপাশি উভয় দেশের ভূ-কৌশলগত অবস্থানকে কাজে লাগিয়ে বাণিজ্য, বিনিয়োগ, জ্বালানি ও অন্যান্য অগ্রাধিকার খাতে সহযোগিতা সম্প্রসারণের সম্ভাবনার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

পররাষ্ট্রমন্ত্রী আরও স্মরণ করেন, রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অনুরোধে ১৯৭৯ সালে প্রায় ২ লাখ রোহিঙ্গার প্রত্যাবাসনের সুবিধার্থে সৌদি আরব সহায়তা করেছিল। তিনি বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার জন্য সৌদি আরবের অব্যাহত মানবিক সহায়তার প্রশংসা করেন এবং মিয়ানমারে তাদের টেকসই প্রত্যাবাসনের জন্য সৌদি সমর্থন কামনা করেন।

সৌদি রাষ্ট্রদূত বর্তমান সরকারের প্রতি তার সমর্থন প্রকাশ করেন এবং দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে একটি বিস্তৃত পরিসরে এগিয়ে নিতে সরকারের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, সৌদি আরবে এখন অনেক উন্নয়ন কাজ চলছে, ফলে দক্ষ ও আধা-দক্ষ কর্মীদের জন্য ব্যাপক কাজের সুযোগ রয়েছে।

এ ছাড়া সৌদি রাষ্ট্রদূত পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ সঙ্গেও সাক্ষাৎ করে তাকে শুভেচ্ছা জানান। প্রতিমন্ত্রী সৌদি ভিশন ২০৩০-এর অধীনে ক্রাউন প্রিন্সের নেতৃত্বাধীন সংস্কার উদ্যোগের প্রশংসা করেন। উভয়পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক অগ্রসর করতে নিজেদের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে।

 

 

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন