ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন এবং গণভোটে ভোটাধিকার প্রয়োগের লক্ষ্যে ‘পোস্টাল ভোট বিডি’ অ্যাপের মাধ্যমে নিবন্ধনকারী প্রবাসী ভোটারদের কাছে পোস্টাল ব্যালট প্রেরণ শুরু করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এখন পর্যন্ত প্রায় ৭২ হাজার প্রবাসীর ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন।
সোমবার বেলা ৪ টা পর্যন্ত ৫ লাখ ৭৫ হাজার ৬২৭ জন নিবন্ধন করেছেন। এর মধ্যে বাংলাদেশে ৯৪ হাজার ২৪৭ জন ডাকযোগে ভোট দিতে নিবন্ধিত হয়েছেন।
সিইসি এএমএম নাসির উদ্দিনসহ চার নির্বাচন কমিশনার, ইসি সচিব, ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব, ডাক অধিদপ্তরের মহাপরিচালক সোমবার তেজগাঁওয়ে পোস্টাল ভোটিংয়ের মেইল প্রসেসিং সেন্টার পরিদর্শন করেন।
এ সময় পোস্টাল প্যাকেজিংয়ের পুরো কার্যক্রমে সন্তোষ প্রকাশ করে সিইসি বলেন, প্রবাসীদের জন্য আমরা প্রথমবারের মত পোস্টাল ব্যালটের ব্যবস্থা নিয়েছি। দেশের ভেতরেও এ ব্যবস্থা রয়েছে। এ কর্মযজ্ঞ ও ভোটের গোপনীয়তা, নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই এটা করা হয়েছে।
পোস্টাল ভোটিংয়ের প্রচার বাড়ানোর পাশাপাশি নিবন্ধনে উৎসাহিত করার আহ্বান জানান তিনি।
এখন পর্যন্ত ১৫ দেশে প্রায় ৭২ হাজার প্রবাসীর ঠিকানায় পোস্টাল ব্যালট পাঠিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এর মধ্যে অস্ট্রেলিয়ায় ৮৯২টি, কানাডায় ৯৪৪৩, চীনে ৬৮১, ফ্রান্সে ৩৩২১, জার্মানিতে ২১২৬, ইতালিতে ৫৬৮৬, জাপানে ৫৬০০, কুয়েতে ১৩১০, মালয়েশিয়ায় ৬২৪৬, কাতারে ২৭৩৭, সৌদি আরবে ৭৩৪৩, দক্ষিণ কোরিয়ায় ৭৬৮১, সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১১১৬, যুক্তরাজ্যে ৫৭৩, যুক্তরাষ্ট্রে ১৭১৯৮ সহ মোট ৭১৯৫৩ টি পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে।
নির্বাচন কমিশনের ‘আউট অব কান্ট্রি ভোটিং সিস্টেম অ্যান্ড ইমপ্লিমেন্টেশন (ওসিভি–এসডিআই)’ প্রকল্পের টিম লিডার সালীম আহমাদ খান বলেন, ধাপে ধাপে নিবন্ধিত সবার কাছে সংসদ ও গণভোটের ব্যালট পেপার পৌঁছে যাবে।
ডাক অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক এস এম হারুনুর রশীদ বলেন, নিবন্ধিতদের ডেটা পাওয়ার পর প্রবাসে পাঠানোর ঠিকানা, আসনভিত্তিক ফেরত খামের ঠিকানাসহ প্রতিদিন (দিন ও রাতে) গড়ে ৪০-৫০ হাজার প্রিন্ট হচ্ছে। প্রসেসিং সেন্টারে আনার পর নিরাপত্তার সাথে যথাযথ প্রক্রিয়ায় প্যাকেজ করছে একদল দক্ষ লোক।
গত ১৮ ডিসেম্বর থেকে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো শুরু হয়েছে। আর্মি প্রিন্টিং প্রেসে ব্যালট ছাপানো হচ্ছে আর মেইল প্রসেসিং সেন্টারে তা নির্ধারিত পদ্ধতিতে খামে নিবন্ধিতদের ঠিকানায় পাঠানোর প্যাকেজিং চলছে। এরপর বিমানবন্দর থেকে তা ধাপে ধাপে প্রবাসীদের ঠিকানায় যাচ্ছে।
নিবন্ধন অ্যাপ উদ্বোধনের পরদিন গত ১৯ নভেম্বর প্রবাসীদের নিবন্ধন শুরু হয়, যা ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত চলবে।



