এলডিসি গ্রাজুয়েশনের (স্বল্পোন্নত দেশের কাতার থেকে উত্তরণ) জন্য দেশে বিজ্ঞান শিক্ষার মানোন্নয়নের পাশাপাশি বিভিন্ন ক্ষেত্রে গবেষণায় ব্যাপক গুরুত্ব দেওয়া দরকার বলে মনে করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।
তিনি বলেন, প্রযুক্তির এই যুগে বিভিন্ন দেশের যে অগ্রগতি হয়েছে তার মূলে রয়েছে গবেষণার মাধ্যমে নতুন নতুন উদ্ভাবন। বাংলাদেশের উন্নয়নেও গবেষণা কাজের বিকল্প নেই।
দেশের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি খাতে কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় আজ সোমবার এসব কথা বলেন আনোয়ার হোসেন। রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরে এই সভার আয়োজন করা হয়।
বিজ্ঞান সচিব বলেন, আমাদের দেশে নানান গবেষণা হয়। কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই সেগুলো সাধারণ মানুষ জানেন না। আবার বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক গবেষণা শেষ পর্যন্ত বাস্তবে প্রয়োগ করা হয় না। সেজন্য ‘রিসার্চ টু মার্কেট’ নামে একটা কর্মসূচির আওতায় কিভাবে একটি সফল গবেষণা শেষে তা দেশের কল্যাণে বাস্তবে প্রয়োগ করা হয় সেই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি গবেষণা কাজকে আরও ব্যাপক পরিসরে নিতে নেওয়া হচ্ছে বিভিন্ন পদক্ষেপ।
অন্যান্যদের মধ্যে সভায় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশনের চেয়ারম্যান ড. মো. মুজিবুর রহমান, জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি যাদুঘরের মহাপরিচালক মুনীরা সুলতানা প্রমুখ।
সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয়ের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে গবেষণা তহবিল বৃদ্ধি, দেশ-বিদেশের গবেষক ও স্টেকহোল্ডারদের মধ্যে যোগসূত্র স্থাপন, বিজ্ঞান শিক্ষার ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর সিলেবাস আধুনিকায়ন করা, তৃণমূল পর্যায়ে বিজ্ঞান ক্লাবের কার্যক্রম ছড়িয়ে দেওয়া এবং উদ্ভাবন প্রতিয়োগিতার আয়োজনে আরও বেশি গুরুত্ব দেওয়ার পরামর্শ দেন সাংবাদিকরা।
পাশাপাশি বাংলাদেশ পরমানু শক্তি কমিশন এবং অন্যান্য প্রতিষ্ঠানকে আরও বেশি গতিশীল এবং সহজে সাধারণ মানুষের কাছে তথ্য পৌঁছানোর বিষয়টি উঠে আসে আলোচনায়। বিদ্যুৎ উৎপাদন ছাড়াও কৃষি, স্বাস্থ্য সেবা, রাসায়নিকমুক্ত উপায়ে খাবার প্রক্রিয়াকরণ এবং অন্যান্য খাতে পরমাণু শক্তির বহুমুখি ব্যবহার বৃদ্ধির বিষয় নিয়েও আলোচনা হয় সেখানে।
এ বিষয়ে বিজ্ঞান সচিব আনোয়ার হোসেন বলেন, দেশের উন্নয়নে সায়েন্স (বিজ্ঞান), টেকনোলজি (প্রযুক্তি), ইঞ্জিনিয়ারিং (প্রকৌশল) ও ম্যাথমেটিক্স (গণিত) বিষয়ে দক্ষ হওয়া খুবই জরুরি। এই বিষয়গুলো বিবেচনা করেই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রনালয় নানান উদ্যোগ নিয়েছে। সেজন্য এ খাতের বিশেষজ্ঞ, শিক্ষক, সাংবাদিক এবং সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে পর্যায়ক্রমে মতবিনিময় করছি। সবার কাছ থেকে পরামর্শ ও মতামত নেওয়া হচ্ছে বিজ্ঞান মনোস্ক জাতি গঠনে।
নানান উদ্যোগের কথা জানিয়ে বিজ্ঞান সচিব বলেন, অন্যতম একটি উদ্যোগ হলো-আন্তর্জাতিক পরমানু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) সহায়তায় দেশে একটা রিজিওনাল হেলথ হাব (আঞ্চলিক স্বাস্থ্য) স্থাপনের চেষ্টা চলছে। যাতে চিকিৎসা ক্ষেত্রে পরমানু শক্তির ব্যবহারকে আরও ব্যাপক পরিসরে কাজে লাগানো যায়।
সভায় জানানো হয়, দেশের উদ্ভাবনী শক্তিকে জাতীয় ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তুলে ধরতে ‘বাংলাদেশ ইনোভেশন ফেয়ার ২০২৬’ আয়োজন করা হবে। যেখানে বিভিন্ন উদ্ভাবন প্রদর্শনীর পাশাপাশি বিনিয়োগকারী-উদ্ভাবক সংযোগ স্থাপন, বাণিজ্যিকীকরণের সুযোগ তৈরি, জাতীয় উদ্ভাবনী ইকোসিস্টেমকে শক্তিশালী এবং আত্মনির্ভরশীল উদ্যোক্তা তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। থাকবে নানান কর্মশালা ও প্রশিক্ষণ। এক কথায় এটি হবে শিক্ষক, গবেষক, উদ্ভাবক ও উদ্যোক্তাদের মিলনমেলা।
ঢাকার জাতীয় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কমপ্লেক্সে আয়োজিত এই মেলায় অংশ নিতে আবেদন করতে হবে ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে। আগামী ১৯ থেকে ২১ জানুয়ারির মধ্যে অনুষ্ঠানটি হওয়ার কথা রয়েছে।
