স্বাক্ষর জালিয়াতিসহ মিথ্যা তথ্য দেওয়ার অভিযোগে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র দাখিল করা সাবেক স্থানীয় সরকার উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়ার আলোচিত এপিএস মোয়াজ্জেম হোসেনসহ মাগুরার দুটি আসনের ৪ প্রার্থীর মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে।
মনোনয়নপত্র বাছাইয়ের সর্বশেষ দিনে আজ শনিবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মাগুরার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ এ ঘোষণা দেন।
বাতিল হিসেবে ঘোষিত হওয়া অন্যান্য প্রার্থীরা হচ্ছেন মাগুরা-১ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন জমা দেয়া ও মনোনয়নপত্র কেনার দিনেই গ্রেপ্তার সাবেক যুবলীগ নেতা ও ইউপি চেয়ারম্যান কুতুবুল্লাহ হোসেন মিয়া এবং গণফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক মো. মিজানুর রহমান।
এছাড়া মাগুরা-২ আসন থেকে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. মশিউর রহমানকে অসম্পূর্ণ হলফনামা জমা দেয়ার জন্য প্রার্থিতা বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল্লাহ আল মাহমুদ জানান, মাগুরা-২ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মনোনয়নপত্র জমা দেয়ার সময় এক শতাংশ ভোটারের সমর্থনযুক্ত যে তালিকা দেয়া হয়েছে সেখান থেকে দৈব চয়নের ভিত্তিতে ১০ জন ভোটারের তথ্য যাচাই করতে গেলে দেখা যায় একজন মৃত ব্যক্তিসহ ৯ জনের স্বাক্ষরই জাল।
যাচাই-বাছাই শেষে সব মিলিয়ে মাগুরা-১ ও ২ আসন থেকে ৪ জনের মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করা হয়েছে। বর্তমানে মাগুরা-১ আসন থেকে ৮জন ও মাগুরা -২ আসন থেকে ৩জন প্রার্থী বৈধ হিসেবে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করাতে পারবেন। বাতিল ঘোষিত হওয়া প্রার্থীরা নির্বাচন কমিশনে আপিল করাতে পারবেন বলে জানান রিটার্নিং কর্মকর্তা।
এ ব্যাপারে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও জেলা প্রশাসকের রোষানলের শিকার হয়ে সম্পূর্ণ অযৌক্তিকভাবে মনোনয়নপত্র বাতিল করা হয়েছে বলে দাবি করেছেন গণফোরামের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক ও মাগুরা-১ আসনের প্রার্থী মিজানুর রহমান।
তিনি বলেন, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার দিনেই জেলা প্রশাসক তার সঙ্গে অ সৌজন্যমূলক আচরণ করেছেন। সেদিন তিনি প্রতিবাদ করায় ও বিভিন্ন পত্রিকায় সে বিষয়ে সংবাদ প্রকাশিত হওয়ায় আজ ইচ্ছাকৃত ও বেআইনিভাবে তার মনোনয়নপত্র বাতিলের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন রিটার্নিং কর্মকর্তা। তিনি এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ জানাবেন বলে জানান।
মাগুরা-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, এক শতাংশ ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহের কাজটি আমার কর্মীরা করেছেন। সে ক্ষেত্রে কোন ভুল-ত্রুটি আছে কিনা বিষয়টি আমি খতিয়ে দেখে পরবর্তীতে আপিল করার বিষয়ে পদক্ষেপ নেব।
