দায়মুক্তি পাচ্ছেন জুলাই যোদ্ধারা

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৬ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৭ পিএম

জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দিতে অধ্যাদেশ করার উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। অধ্যাদেশের খসড়া তৈরি করতে আইন মন্ত্রণালয়কে অনুরোধ করা হয়েছে।

আইনশৃঙ্খলা-সংক্রান্ত উপদেষ্টা পরিষদ কমিটির বৈঠকে সোমবার (৫ জানুয়ারি) এ সিদ্ধান্ত হয়। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সভাপতিত্ব করেন।

বৈঠক সূত্রে জানা যায়, সাম্প্রতিক দুটি ঘটনাকে কেন্দ্র করে জুলাই যোদ্ধাদের দায়মুক্তি ও আইনি সুরক্ষা দেওয়ার বিষয়টি বৈঠকে উঠে আসে। জুলাই যোদ্ধা খ্যাত তাহরিমা জান্নাত সুরভীকে গত ২৫ ডিসেম্বর এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের হবিগঞ্জের সাধারণ সম্পাদক মাহদী হাসানকে ৩ জানুয়ারি গ্রেপ্তার করে পুলিশ। গ্রেপ্তারের এক দিন পর মাহদী ও ১১ দিন পর সুরভী জামিন পান।

দায়মুক্তি কীভাবে হতে পারে, তা নিয়ে বৈঠকে আলোচনা হয়। সূত্র জানিয়েছে, এ সময় বাংলাদেশের স্বাধীনতার পর যে কয়বার দায়মুক্তি দিয়ে আইন ও অধ্যাদেশ জারি হয়েছে, তা পর্যালোচনা করা হয়। সভায় সিদ্ধান্ত হয়, ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের সময়পর্বের ঘটনার জন্য মুক্তিযোদ্ধাদের যেভাবে দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হয়েছিল, জুলাই যোদ্ধাদের সেভাবেই দায়মুক্তি দিয়ে অধ্যাদেশ জারি করা হতে পারে।

এর আগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ৪ জানুয়ারি তিন দফা দাবি তুলে ধরে। এর মধ্যে ছিল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-শ্রমিক-জনতাকে ২০২৪ সালের ১ জুলাই থেকে ৮ আগস্ট পর্যন্ত পরিচালিত সব কর্মকাণ্ডের জন্য দায়মুক্তি দিয়ে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে অধ্যাদেশ জারি করতে হবে। একটি সূত্র জানিয়েছে, এ দাবি গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা হয় উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে।

বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সৈনিকেরা জীবনবাজি রেখে দেশকে ফ্যাসিস্ট শাসন থেকে মুক্ত করেছে। তারা অবশ্যই দায়মুক্তির অধিকার রাখে। আমরা আগে থেকেই এ বিষয়ে কাজ করছি। তিনি বলেন, আরব বসন্ত বা সমসাময়িককালে বিপ্লব বা গণ-অভ্যুত্থানে জনধিক্কৃত সরকারগুলোর পতনের পর যেসব দেশে এ ধরনের দায়মুক্তির আইন হয়েছে, সেসব অভিজ্ঞতা বিবেচনায় নেওয়া হবে। এ ছাড়া দেশের সংবিধানের ৪৬ অনুচ্ছেদের আলোকে এবং অতীতে বাংলাদেশে করা এ ধরনের একটি আইন পর্যালোচনা করে আইন মন্ত্রণালয় খসড়া অধ্যাদেশ তৈরি করবে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে উপদেষ্টামণ্ডলীর বৈঠকে।

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মামলা ও গ্রেপ্তার না করতে ২০২৪ সালের ১৪ অক্টোবর একটি বিবৃতি দিয়েছিল স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তখন বলা হয়েছিল, গণ-অভ্যুত্থানকে সাফল্যমণ্ডিত করতে ছাত্র-জনতা সক্রিয়ভাবে আন্দোলনের মাঠে থেকে কাজ করেছে।

এ ছাড়া গত বছরের ৫ আগস্ট জারি করা জুলাই ঘোষণাপত্রে বলা হয়, ‘বাংলাদেশের জনগণ জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের সকল শহীদদের জাতীয় বীর হিসেবে ঘোষণা করে শহীদদের পরিবার, আহত যোদ্ধা এবং আন্দোলনকারী ছাত্র–জনতাকে প্রয়োজনীয় সকল আইনি সুরক্ষা দেওয়ার অভিপ্রায় ব্যক্ত করছে।’

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর