নির্বাচন যত এগোচ্ছে, নারীর প্রতি সাইবার সহিংসতা তত বাড়ছে: নারী প্রার্থীদের অভিযোগ

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৪ জানুয়ারি ২০২৬, ০২:৪৯ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের দিনক্ষণ যত ঘনিয়ে আসছে; সাইবার স্পেসে নারীপ্রার্থীদের প্রতি সহিংসতার মাত্রা তত বাড়ছে। রাজধানীর বাইরে বিভিন্ন এলাকায় প্রভাবশালী প্রার্থীর সমর্থক-কর্মীরা নারীপ্রার্থীদের ভোটের মাঠ থেকে হটিয়ে দিতে চাইছেন। ছোট দল থেকে মনোনয়ন নিয়ে কিংবা স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে যে নারীরা নির্বাচনে লড়তে চাইছেন, তারা আর্থিক অসংগতির কারণে প্রচারে পিছিয়ে পড়ার শঙ্কায় রয়েছেন।

গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর শিশু একাডেমিতে মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে আলোচনা সভায় নারীপ্রার্থীরা এসব অভিযোগ করেন।

মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদের সভাপতিত্বে সভায় যোগ দেন ঢাকা-৯ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী তাসনিম জারা, ঢাকা-১৭ আসনের এবি পার্টির প্রার্থী ফারাহ নাজ সাত্তার, ঢাকা-৭ আসনে বাসদের (মার্কসবাদী) প্রার্থী সীমা দত্ত, ঢাকা-৫ আসনে বাসদের (মার্কসবাদী) শাহিনুর আক্তার সুমি, ঢাকা-৮ আসনে গণঅধিকার পরিষদের মেঘনা আলম, ঢাকা-১২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের তসলিমা আক্তার, ঝালকাঠি-১ আসনে এনসিপির প্রার্থী ডা. মাহমুদা আলম মিতু, নাটোর-২ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের তাহমিনা ইসলাম তানিয়া, সিরাজগঞ্জ-১ আসনে গণঅধিকার পরিষদের সোনিয়া আক্তার মল্লিক, ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৫ আসনে গণসংহতি আন্দোলনের নাদিরা জাহান, ঢাকা-১৮ আসনের গণসংহতি আন্দোলনের প্রার্থী নাসিমা রহমান।

তাসনিম জারা বলেন, ‘সব নারীপ্রার্থীর চ্যালেঞ্জ এক নয়। শহর-গ্রাম, দলীয়-স্বতন্ত্র প্রার্থীর বাস্তবতা ভিন্ন, তাই সহায়তাও হতে হবে ভিন্নধর্মী ও বাস্তবভিত্তিক। সব প্রার্থীর জন্য নির্বাচনী আচরণবিধির সমান প্রয়োগ হতে হবে। অর্থ ও পেশিশক্তির রাজনীতি বন্ধ না হলে যোগ্য নারী-পুরুষ কেউই এগোতে পারবেন না। নির্বাচন কমিশন ব্যর্থ হলে জনগণই চাপ তৈরি করবে।’ নির্বাচন যত ঘনিয়ে আসবে নারীপ্রার্থীদের বিরুদ্ধে সাইবার হয়রানিও তত বাড়বে বলে আশঙ্কা করেন জারা।

আর্থিক সক্ষমতায় নারীপ্রার্থীরা পিছিয়ে থাকায় ভোটের প্রাথমিক গণসংযোগে নানা প্রতিবন্ধকতার মুখে পড়েছেন সীমা দত্ত, নাদিরা জাহানরা। আগামী ২১ জানুয়ারি প্রতীক বরাদ্দের পরে প্রার্থীরা যখন নির্বাচনী প্রচারণায় নামবেন, তখন নারীপ্রার্থীদের জন্য বিশেষ নিরাপত্তা ব্যবস্থা বন্দোবস্তের দাবি জানান মেঘনা আলম।

সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা রাশেদা কে চৌধুরী বলেন, ‘নারীরা যখন সাহসের সঙ্গে রাজনীতিতে দাঁড়াচ্ছে, তখন তাদের ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে নোংরামি বন্ধ করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব।’ নারী নিপীড়ন বন্ধে জরুরি সেবা-৯৯৯-এর মতো নির্বাচনের সময়ে ‘র‍্যাপিড মেকানিজম’ তৈরির পরামর্শ দেন তিনি।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্যায়ে মহিলা ও শিশুবিষয়ক উপদেষ্টা শারমীন এস মুরশিদ জানান, এবারের নির্বাচনে নারী প্রার্থীদের উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। তাদের নিরাপত্তায় মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয় কুইক রেসপন্স স্ট্র্যাটেজি নিয়েছে, যা আগামী ১৭ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করা হবে। একটি বিশেষ সেল ২৪ ঘণ্টা সাইবার স্পেসে নারীর বিরুদ্ধে হওয়া সহিংসতা ও বুলিং পর্যবেক্ষণ করবে। এবার নির্বাচনে ১০৯ জন নারীপ্রার্থী রয়েছেন। তাদের সঙ্গে তৃণমূল পর্যায়ে থাকা ভলান্টিয়ারদের যুক্ত করে দেওয়া হবে, যাতে কোনো অপ্রীতিকর ঘটনার তথ্য দ্রুত মন্ত্রণালয়ের কাছে পৌঁছায়।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর