বরগুনার পাথরঘাটায় নারী কর্মীদের ধাওয়া দেওয়ার ঘটনা কেন্দ্র করে জামায়াতের এক কর্মীর ওপর হামলা চালিয়ে পা ভেঙে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। হামলার শিকার ওই কর্মীর নাম নাসির উদ্দিন। তিনি পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড জামায়াতের বায়তুল মাল (অর্থ) সম্পাদক।
জামায়াত নেতাকর্মীদের দাবি, হামলাকারী নুর আলম স্থানীয় বিএনপির সমর্থক, তবে অভিযুক্ত ওই ব্যক্তি বিএনপির কোনো পদে নেই বলে জানিয়েছেন পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির একাধিক নেতৃবৃন্দ।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সন্ধ্যার পরে পাথরঘাটা সদর ইউনিয়নের হাড়িটানা এলাকায় এ হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনার প্রতিবাদে রাতে পাথরঘাটা শহরে লাঠি ও পাইপে জাতীয় পতাকা লাগিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন জামায়াত সমর্থকরা। পাথরঘাটা থানার ওসি মংচেনলা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
জানা গেছে, জামায়াতে ইসলামীর কয়েকজন নারী কর্মী দলীয় কাজে পাথারঘাটা সদর ইউনিয়নের হাড়িটানা এলাকায় যান। এ সময় নুর আলমের বাড়ির সামনে পৌঁছালে তিনি তাদের ধাওয়া করেন। পরে বিষয়টি জানতে নাসির উদ্দিন এগিয়ে এলে তার ওপর হামলা চালান নুর আলম। এতে নাসিরের পা ভেঙে যায়। পরে আহত অবস্থায় স্থানীয়রা নাসির উদ্দিনকে উদ্ধার করে পাথরঘাটা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে বরিশাল শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পাঠান।
এদিকে রাতে দলীয় কার্যালয়ে এ ঘটনার প্রতিবাদ জানিয়ে সংবাদ সম্মেলন করে উপজেলা জামায়াত। তার আগে রাতে পাথারঘাটা শহরে জামায়াত কর্মী নাসির উদ্দিনের ওপর হামলার প্রতিবাদে লাঠি মিছিল করেন। মিছিলে অংশগ্রহণকারীদের হাতে থাকা বিভিন্ন ধরনের লাঠিতে জাতীয় পতাকা বেঁধে মিছিল করেন তারা।
হামলার বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা মাসুদুল আলম বলেন, নাসিরের ওপর হামলার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি নুর আলম বিএনপির কর্মী। ক্ষমতার মোহে জামায়াতকে নির্মূল করতে এ হামলা চালানো হয়েছে। বর্তমানে আহত নাসিরকে চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়েছে।
লাঠি হাতে প্রতিবাদ মিছিলের বিষয়ে তিনি বলেন, ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিনের স্বজন ও এলাকার বিক্ষুব্ধ জনতা এ মিছিল করে। মিছিলে দলের কোনো ব্যানার ছিল না।
হামলার বিষয়ে পাথরঘাটা উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক চৌধুরী মো. ফারুক বলেন, এটি সম্পূর্ণ সন্ত্রাসী কার্যকলাপ। এ ঘটনার সঙ্গে আমাদের দলীয় কোনো বিষয় নেই। হয়ত ব্যক্তিগত কোনো আক্রোশ থেকে এ ঘটনা ঘটেছে। অভিযুক্ত নুর আলম আমাদের দলীয় কেউ না। সে বিএনপির সমর্থক হতে পারে, তবে কোনো কমিটিতে তার নাম নেই। এটা তাদের ব্যক্তিগত পারিবারিক অভ্যন্তরীণ কোন্দলের বহিঃপ্রকাশ। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে শহর জুড়ে আতঙ্ক সৃষ্টি করে লাঠি ও পাইপের মাথায় জাতীয় পতাকা লাগিয়ে মিছিল করা এটা সম্পূর্ণ নির্বাচনি আচরণ বিধি লঙ্ঘন। আচরণ বিধি লঙ্ঘন করায় তাদেরকে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাই।
