নাগরিকদের সংগঠন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর সম্পাদক ড. বদিউল আলম মজুমদার বলেছেন, দেশের আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল মোড়ে দাঁড়িয়ে আছে। তার ভাষায়, ‘নির্বাচনি ট্রেন ট্র্যাকে উঠেছে, কিন্তু এখনো শঙ্কা কাটেনি।’
তিনি বলেন, সরকার ও নির্বাচন কমিশন নিরপেক্ষ থাকার প্রতিশ্রুতি দিলেও শেষ পর্যন্ত নির্বাচন সুষ্ঠু হবে কি না, তা অনেকাংশেই নির্ভর করবে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের আচরণের ওপর। তাদের অসদাচরণই পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ট্র্যাক-চ্যুত করতে পারে।
সোমবার (১২ জানুয়ারি) সকালে বরিশালে সুজন আয়োজিত বিভাগীয় সংলাপ শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে এসব কথা বলেন তিনি।
ড. বদিউল আলম বলেন, অতীতে নির্বাচন ঘিরে যে ভয়াবহ পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল, তা যেন আর ফিরে না আসে; এটাই এখন সবচেয়ে বড় প্রত্যাশা। তখন দেশ দলীয় সরকারের অধীনে ছিল এবং নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট হওয়ায় জনগণের ভোটাধিকার মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল। কিন্তু এবার একটি নির্দলীয় সরকার দায়িত্বে রয়েছে এবং নির্বাচন কমিশনও ভোটাধিকার নিশ্চিত করার অঙ্গীকার করেছে। সরকার কাউকে জেতাতে কোনো দুরভিসন্ধিতে লিপ্ত নয় বলেই তিনি যতটুকু জানেন।
তিনি বলেন, ‘আমি আশা করি একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে এবং প্রত্যেক নাগরিক তার ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাবে। তবে এর বড় অংশ নির্ভর করবে রাজনৈতিক দল ও তাদের প্রার্থীদের আচরণের ওপর। তারা যদি ছলে-বলে-কৌশলে এমপি হওয়ার মানসিকতা থেকে সরে আসে, পরস্পরের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকে এবং কোনো ধরনের দ্বন্দ্ব, হানাহানি বা সহিংসতায় জড়িত না হয়, তাহলেই একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন সম্ভব।’
তিনি আরও বলেন, রাজনীতিবিদরা যদি উত্তেজনা কমান, সহিংসতায় না জড়ান এবং এমপি হওয়ার জন্য অপকৌশল পরিহার করেন, তাহলে নির্বাচন ঝুঁকি মুক্ত হবে এবং জনগণের আস্থা ফিরে আসবে।
‘গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা, সংস্কার ও নির্বাচনি ইশতেহার’ শীর্ষক এই বিভাগীয় সংলাপে বরিশাল বিভাগের ছয় জেলার প্রতিনিধিরা অংশ নেন। এতে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের প্রার্থী ও নেতারা তাঁদের মতামত তুলে ধরেন।
