ঢাকা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য সচিব তানভীর আহমেদ রবিন বলছেন, ‘আমরা এক স্বৈরাচারকে দেশ থেকে উৎখাত করেছি। এখন আমরা যদি অন্যায়ের প্রতিবাদ না করি তাহলে পুনরায় স্বৈরাচার আমাদের ঘাড়ে চেপে বসবে। আমাদের কথা বলতে হবে, অন্যায় দেখলে তা প্রতিহত করতে হবে।’
শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাতে ঢাকা মহানগর দক্ষিণের শ্যামপুর থানার ৫৮ নং ওয়ার্ড ডিআইটি প্লট শ্যামপুর সরকারী মডেল স্কুল এ্যান্ড কলেজ এলাকায় এক মতবিনিময় সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রবিন বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে যে শাসন ব্যবস্থা ছিলো আমি তার বিপরীতে হাটতে চাই। প্রতিহিংসার রাজনীতি ঢাকা-৪ থেকে শুরু করে সমগ্র দেশ থেকে উৎখাত করতে চাই। দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার শিখিয়ে যাওয়া রাজনীতিতে ফ্যাসিবাদীর সুযোগ নেই। যেখানে সর্বোচ্চ ক্ষমতার অধিকারী সাধারণ জনগণ। তিনি শিখিয়েছেন কিভাবে মানুষকে ভালোবাসতে হয়।
তিনি আরও বলেন, আপনাদের ভালোবাসা নিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চাই। আপনারাই আমার সব। আমি আপনাদের সন্তান। এখানে জন্মগ্রহণ করা প্রতিটি সন্তান আপনাদের। তাদেরকে আলাদা করার সুযোগ নেই। আমরা সবাই মিলে আমাদের এলাকাকে গড়ে তুলবো। গুলশান বনানীতে কখনো থাকিনি। এই শ্যামপুর আমার পূর্বপুরুষে বাড়ি। আমি এখানেই থাকি। আমাদের এলাকায় কোন একক সিদ্ধান্ত অথবা একক আধিপত্য থাকবে না, এখানে প্রতিটি মানুষের কথা বলার এবং সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার থাকবে।
এছাড়াও নিজের দায়বদ্ধতা ও সীমাবদ্ধতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, আমিও মানুষ, মাটি দিয়ে তৈরি, ভুল আমারও হতে পারে। আপনারা আমাকে পরামর্শ না দিলে আমি সবকিছু জানতে পারবো না। আপনারা আমাকে সবসময় পরামর্শ প্রদান করবেন কোন কাজটি সর্বোত্তম এবং সাধারণের জন্য প্রয়োজনীয়।
বিএনপির এই প্রার্থী বলেন, আমাদের এলাকায় অনেক সমস্যা, মানুষের জন্য নেই কোনো সরকারি হাসপাতাল সুবিধা, পারিবারিক-সামাজিক উৎসব করার জন্য নেই কোনো সরকারি কমিউনিটি সেন্টার, একটি খেলার মাঠও নাই, আমাদের ছেলেরা স্কুল থেকে এসে হয় রাস্তায় ঘুরছে, মাদকাসক্ত হচ্ছে ৷ নামে শহর আসলে শহরের কোন সুবিধা পাই না। আমাদের ৯০ ভাগ এলাকা এখনো ল্যাম্পপোস্টের আওতায় আসেনি। সবধরনের নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত এই এলাকায় বিগত ১৮ বছরে কোনো উন্নয়নই হয়নি।
আগামীতে এলাকার সকল মানুষের সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে হবে উল্লেখ করে বলেন, বিগত ১৯৯১-২০০৬ সালে যেমন এই এলাকাটি প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে জনাব সালাউদ্দিন আহমেদ এর পৃষ্ঠপোষকতায় শহরে রূপান্তর হয় তেমন আমরা সবাই মিলে আমাদের এলাকাকে গড়ে তুলবো। সামনে এগিয়ে নিয়ে যাব। আমরা আমাদের সকল সমস্যা একসাথে খুঁজে বের করে সমাধান করবো।
