নাটোর-৩ আসনে ১০ দলীয় জোটের জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে প্রফেসর জার্জিস কাদির বাবুর নাম প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও জুলাই যোদ্ধারা। তিনি ‘ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারার’ বলে মন্তব্যও করেছেন বিক্ষুব্ধরা।
শনিবার (১৭ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় নাটোর শহরের একটি রেস্তোরাঁয় সংবাদ সম্মেলন করে তারা এ দাবি জানান।
সংবাদ সম্মেলনে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, নাটোর-৩ আসনে ১০ দলীয় জোট থেকে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) প্রার্থী হিসেবে জার্জিস কাদির বাবুর নাম ঘোষণার পর তারা হতবাক হয়েছেন। কারণ, গণঅভ্যুত্থানের পর থেকে তিনি জুলাই শহীদ পরিবারের কোনো খোঁজখবর নেননি। কোনো ধরনের সাহায্য ও সহযোগিতাও করেননি। বরং তিনি ‘ফ্যাসিবাদী চিন্তাধারা’ ধারণ করেন বলে অভিযোগ তোলেন তারা। এছাড়া সংবাদ সম্মেলনে তারা আরও অভিযোগ করেন, এনসিপির মনোনীত প্রার্থী একজন ‘লোভী’, ‘পল্টিবাজ’ ও ‘দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তি’।
তিনি কখনোই জুলাই বিপ্লবের চেতনা ধারণ করেননি। গত দেড় বছরে তার সঙ্গে তাদের কোনো সাক্ষাৎ হয়নি বলেও দাবি করেন তারা।
বক্তারা তাকে ‘সাবেক প্রতিমন্ত্রী জুনায়েদ আহমেদ পলকের দোসর’ আখ্যা দিয়ে বলেন, বিগত সময়ে রাজশাহীতে চাকরি করার সময় বিএনপি ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র মিজানুর রহমান মিনু এবং আওয়ামী লীগ নেতা ও রাজশাহী সিটি করপোরেশনের সাবেক মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনের কাছ থেকে অনিয়মতান্ত্রিকভাবে নানা সুযোগ-সুবিধা গ্রহণ করেছেন তিনি।
তারা বলেন, তাকে এনসিপির নেতা বানানোই ঠিক হয়নি। এমনকি সংসদ সদস্য প্রার্থী হিসেবে এনসিপি থেকে মনোনয়ন দেওয়াও একটি ভুল সিদ্ধান্ত। কারণ, সিংড়া এলাকার মানুষ তাকে চেনে না, জানেও না বলে অভিযোগ করেন তারা।
সংবাদ সম্মেলনে তারা দাবি করেন, এই আসনে তাকে প্রার্থী রাখা হলে নিশ্চিতভাবে জামানত হারাতে হবে। তার মাধ্যমে জুলাইয়ের আকাঙ্ক্ষা পূরণ হবে না। তাই নাটোর-৩ আসনে জার্জিস কাদির বাবুর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে বিকল্প কাউকে প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেওয়ার দাবি জানান তারা।
সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন জুলাই আন্দোলনে শহীদ হৃদয়ের বাবা রাজু আহমেদ, শহীদ সোহেল রানার বাবা আব্দুল মোতালেব, জুলাই যোদ্ধা মেহেদী হাসান, জুলাই যোদ্ধা বায়েজিদ বোস্তামী, সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ইলিয়াস বিন আনিস আল-আমিনসহ আরও অনেকে।



