‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সমর্থনের কারণ জানাল সরকার

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৮ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:৫৯ পিএম

জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের জন্য আগামী গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে সরকারি প্রচার কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসও স্পষ্টভাবে সংস্কার প্রস্তাবনার পক্ষে অবস্থান নিয়েছেন। 

এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও গণমাধ্যমে সরকারের নিরপেক্ষতা প্রশ্নে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হলে, রবিবার (১৮ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং একটি বিশদ ব্যাখ্যা প্রকাশ করে।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর থেকে পাঠানো বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট, অন্তর্বর্তী সরকারের ম্যান্ডেট ও আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক রীতিনীতি বিবেচনায় এই সমালোচনা অমূলক। দপ্তরটির মতে, বাংলাদেশের এই সংকটময় সময়ে নীরবতা নিরপেক্ষতার প্রতীক নয়; বরং তা দায়িত্বশীল নেতৃত্বের অভাবই ফুটিয়ে তোলে।

বিবৃতিতে বলা হয়, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার শুধু দৈনন্দিন প্রশাসন বা নির্বাচন তত্ত্বাবধানের জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী অপশাসনজনিত সাংবিধানিক সংকট, প্রাতিষ্ঠানিক দুর্বলতা ও গণঅনাস্থার প্রেক্ষাপটে গঠিত হয়েছে। এর মূল দায়িত্ব রাষ্ট্রীয় স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা, গণতান্ত্রিক বিশ্বাসযোগ্যতা পুনরুদ্ধার এবং নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের আগে প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাঠামো তৈরি করা।

ড. ইউনূস গত ১৮ মাসে রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও পেশাজীবীদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে যে সংস্কার প্রস্তাবনা তৈরি করেছেন, বর্তমান সংস্কার প্যাকেজ তারই ফলশ্রুতি। তাই এই সংস্কারের পক্ষে অবস্থান না নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া অন্তর্বর্তী সরকারের মূল উদ্দেশ্যকে ভুল বোঝার সামিল বলে দপ্তরটি মনে করে।

আন্তর্জাতিক গণতান্ত্রিক প্রেক্ষাপটের উদাহরণ টেনে বিবৃতিতে বলা হয়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে সরকারপ্রধানরা গুরুত্বপূর্ণ সাংবিধানিক পরিবর্তন বিষয়ক গণভোটে প্রকাশ্যে পক্ষে-বিপক্ষে অবস্থান নিয়ে থাকেন। এটি গণতান্ত্রিক রীতির লঙ্ঘন নয়, বরং দায়িত্বশীল রাজনৈতিক নেতৃত্বের স্বাভাবিক প্রকাশ। যুক্তরাজ্য, স্কটল্যান্ড ও তুরস্কের গণভোটের উদাহরণও তুলে ধরা হয়।

প্রধান উপদেষ্টার দপ্তর জোর দিয়ে বলে, গণভোটের বৈধতা নির্ভর করে নেতাদের নীরবতার ওপর নয়, বরং ভোটারদের স্বাধীনভাবে মতপ্রকাশের সুযোগ, বিরোধীপক্ষের প্রকাশ্য প্রচার এবং প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার ওপর। বর্তমান প্রেক্ষাপটে এই শর্তগুলো অক্ষুণ্ন রয়েছে বলে দপ্তরটির প্রত্যয়।

এক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকারের কোন নির্বাচনী স্বার্থ নেই বলেও উল্লেখ করা হয়। ড. ইউনূস ও তার উপদেষ্টা পরিষদ ক্ষমতা দীর্ঘায়িত করা বা ব্যক্তিগত রাজনৈতিক লাভ চান না; তাদের দায়িত্ব স্পষ্টভাবে সময়সীমাবদ্ধ। সংস্কার গৃহীত বা প্রত্যাখ্যানের পর তার বাস্তবায়ন ও দায়িত্ব বর্তাবে পরবর্তী নির্বাচিত সরকারের উপর।

জেলা পর্যায়ে সরকারি প্রচার নিয়ে কিছু উদ্বেগের কথাও স্বীকার করে বিবৃতিতে বলা হয়, প্রশাসনের এই কার্যক্রমের মূল লক্ষ্য সংস্কারের বিষয়বস্তু ও গুরুত্ব স্পষ্ট করা, বিশেষ করে ভুল তথ্য ও বিভ্রান্তি দূর করে জনগণের সচেতন অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। এটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে অতিরিক্ত প্রচার হিসেবে দেখা যাবে না।

শেষে দপ্তরটি স্পষ্ট করে, ‘হ্যাঁ’ ভোটের পক্ষে প্রধান উপদেষ্টার অবস্থান নীতিগত লঙ্ঘন নয়, বরং তার গণতান্ত্রিক দায়িত্ব। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত বাংলাদেশের জনগণের হাতেই রয়েছে। নেতৃত্বের ভূমিকা হলো সেই সিদ্ধান্তকে স্পষ্ট ও অর্থবহ করতে সহায়তা করা।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর