যৌন হয়রানি ও পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে সরকার

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ৩০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৩:২৩ পিএম

কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নিচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের সাপ্তাহিক বৈঠকে এ সংক্রান্ত দুটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশসহ মোট ছয়টি অধ্যাদেশের খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।

শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক বার্তায় এই সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। বৈঠকে ছয়টি অধ্যাদেশ ছাড়াও তিনটি প্রস্তাব এবং একটি নীতি আদেশের খসড়া অনুমোদন করা হয়।

অনুমোদিত অধ্যাদেশগুলোর মধ্যে রয়েছে- কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬, পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬, জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন) অধ্যাদেশ ২০২৬, বাংলাদেশ প্রাণী ও প্রাণিজাত পণ্য সঙ্গনিরোধ অধ্যাদেশ ২০২৬, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ২০২৬ এবং কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ অধ্যাদেশ ২০২৬। এর মধ্যে কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌন হয়রানি এবং পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ সংক্রান্ত অধ্যাদেশ দুটি নীতিগত অনুমোদন পেয়েছে।

যৌন হয়রানি প্রতিরোধে নতুন দিক অনুমোদিত খসড়ায় যৌন হয়রানির সংজ্ঞাকে আরও বিস্তৃত করা হয়েছে। এতে শারীরিক, মৌখিক, অমৌখিক (ইঙ্গিতপূর্ণ), ডিজিটাল ও অনলাইনে করা আচরণসহ জেন্ডারভিত্তিক সব অনাকাঙ্ক্ষিত ও অপমানজনক কার্যকলাপকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ই-মেইল বা মেসেজিং প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে হয়রানিও এই আইনের আওতায় আসবে।

অধ্যাদেশ অনুযায়ী, প্রতিটি কর্মক্ষেত্র ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘অভ্যন্তরীণ অভিযোগ কমিটি’ গঠন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এই কমিটি অভিযোগ গ্রহণ, তদন্ত ও শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে।

অভিযোগকারীর নিরাপত্তা ও মর্যাদা রক্ষায় ‘সার্ভাইভারকেন্দ্রিক পদ্ধতি’ গ্রহণ করা হয়েছে এবং কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক আচরণ কঠোরভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছে। যেখানে কমিটি গঠন সম্ভব নয়, সেখানে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে স্থানীয় কমিটি গঠিত হবে। এ ছাড়া ভুক্তভোগীদের সহায়তার জন্য বিশেষ তহবিল গঠনের সিদ্ধান্ত হয়েছে।

পারিবারিক সহিংসতা প্রতিরোধ অধ্যাদেশের খসড়ায় শারীরিক, মানসিক, যৌন ও আর্থিক নির্যাতনকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ৭টি অধ্যায় ও ৩৩টি ধারার এই খসড়ায় ভুক্তভোগীদের জন্য আশ্রয়কেন্দ্র, চিকিৎসা, মানসিক ও আইনি সহায়তা নিশ্চিত করার কথা বলা হয়েছে। আদালত অভিযোগের ভিত্তিতে নির্যাতনকারীর বিরুদ্ধে অস্থায়ী বা স্থায়ী সুরক্ষা আদেশ জারি করতে পারবে। এ ক্ষেত্রে অভিযোগ গ্রহণের ৭ দিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত শুরু এবং ৩০ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
সর্বশেষ সব খবর