জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমানের এক্স (সাবেক টুইটার) একাউন্ট বঙ্গভবন থেকে হ্যাক হয়েছে বলে দলটির অভিযোগের পর তদন্ত শুরু করেছে বঙ্গভবন কর্তৃপক্ষ।
একজন সহকারী প্রোগ্রামারের দাপ্তরিক ইমেইল ব্যবহার করে জামায়াতের আমিরের ডিভাইস হ্যাক করার অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে বঙ্গভবনের একটি সূত্র দেশ রূপান্তর জানায়, রাষ্ট্রপতির দপ্তর থেকে অভিযোগটি তদন্তের জন্য ইতিমধ্যে তথ্য প্রযুক্তি বিভাগকে বলা হয়েছে। তদন্তে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হতে পারে।
বঙ্গভবন সূত্রের দাবি, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী পাশ্ববর্তী একটি দেশ থেকে সহকারী প্রোগ্রামারের দাপ্তরিক ইমেইল ‘ব্যবহার করে’ জামায়াত আমিরের ডিভাইস হ্যাক করা হয়ে থাকতে পারে।
রাষ্ট্রপতির দপ্তর বঙ্গভবনের একটি সরকারি ই-মেইল ব্যবহার করে জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের ‘ডিভাইস’ হ্যাক করেছে হ্যাকাররা। এরপর সেই ডিভাইসে খোলা থাকা তার ছবিযুক্ত দাপ্তরিক এক্স-অ্যাকাউন্টে (সাবেক টুইটার) কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে একটি ‘আপত্তিকর’ পোস্ট দেওয়া হয়। জামায়াতে ইসলামী রবিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি করেছে।
ওই পোস্টে প্রকাশিত বক্তব্যের বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ ও ক্ষমা প্রার্থনা করেছেন জামায়াত আমির ডা. শফিকুর রহমান। রবিবার শেরপুরে নির্বাচনী জনসভায় দেওয়া বক্তব্যে ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘হ্যাক হওয়া পোস্টের কারণে যদি কোনও মা-বোন কষ্ট পেয়ে থাকেন, তবে তার জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।’
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, হ্যাকিংয়ের পর একটি পক্ষ উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিষয়টি নিয়ে হৈচৈ শুরু করেছে। মিছিল করেছে। যারা প্রকৃত অর্থে মায়েদের সম্মান করে না, তারাই এই পরিস্থিতিকে ভিন্নখাতে নেওয়ার চেষ্টা করেছে।
জামায়াতের দাবি, রাষ্ট্রপতির দপ্তরের একজন সহকারী প্রোগ্রামারের দাপ্তরিক ইমেইল ব্যবহার করে আমিরের ‘ডিভাইস’ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া হয়। এরপর তার এক্স-হ্যান্ডেলে কর্মজীবী নারীদের নিয়ে আপত্তিকর পোস্টটি দেওয়া হয়।
রবিবার সকালে রাজধানীর মগবাজারে কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এহসানুল মাহবুব জুবায়ের দাবি করেন, ‘ডিভাইস হ্যাক করে’ দলের আমিরের এক্স (সাবেক টুইটার) অ্যাকাউন্ট থেকে কর্মজীবী নারীদের সম্পর্কে ‘জঘন্য আপত্তিকর’ পোস্ট দেওয়া হয়। জামায়াত ও দলের আমিরকে হেয়প্রতিপন্ন করতে এটা করা হয়েছে। এ বিষয়ে হাতিরঝিল থানায় শনিবার রাতে জিডি করা হয়েছে। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
জামায়াতের নির্বাচন পরিচালনা কমিটির সদস্য প্রকৌশলী সিরাজুল ইসলাম একটি তথ্যচিত্র তুলে ধরে বলেন, শনিবার বিকাল ৪টা ৩৭ মিনিটে জামায়াত আমিরের এক্স-অ্যাকাউন্ট থেকে নারীদের সম্পর্কে আপত্তিকর পোস্ট দেয় হ্যাকাররা। ওই সময় আমির কেরানীগঞ্জের কোনাখোলা মাঠে নির্বাচনী জনসভায় বক্তৃতা করছিলেন। এর লাইভ ভিডিও রয়েছে। ফলে জামায়াত আমিরের পক্ষে তখন পোস্ট করা সম্ভব ছিল না।
