যুক্তরাজ্য সরকার হংকংবাসীদের জন্য নিরাপদ ও বৈধ অভিবাসন পথ আরও সম্প্রসারণের ঘোষণা দিয়েছে। এর ফলে আগামী পাঁচ বছরে আনুমানিক ২৬ হাজার নতুন হংকং নাগরিক যুক্তরাজ্যে এসে নতুন জীবন গড়ার সুযোগ পাবেন।
হোম অফিস ইউকের পক্ষ থেকে জানানো হয়, ব্রিটিশ ন্যাশনাল (ওভারসিজ) – BN(O) মর্যাদাধারী ব্যক্তিদের প্রাপ্তবয়স্ক সন্তানরা—যারা ১৯৯৭ সালে হংকং চীনের কাছে হস্তান্তরের সময় ১৮ বছরের নিচে ছিলেন—এখন থেকে স্বতন্ত্রভাবে যুক্তরাজ্যে বসবাসের আবেদন করতে পারবেন। পাশাপাশি তাদের জীবনসঙ্গী ও সন্তানরাও এই সম্প্রসারিত কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাজ্যে আসার সুযোগ পাবেন।
সরকার বলছে, এই সিদ্ধান্ত হংকংয়ের মানুষের প্রতি যুক্তরাজ্যের ঐতিহাসিক অঙ্গীকারের বাস্তব প্রতিফলন। বর্তমানে হংকংয়ে নাগরিক অধিকার ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ক্রমাগত সংকুচিত হওয়ায় বহু মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে দেশ ছাড়তে বাধ্য হচ্ছেন।
সম্প্রতি ব্রিটিশ নাগরিক ও গণতন্ত্রপন্থী মিডিয়া উদ্যোক্তা জিমি লাই-কে ২০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়ার ঘটনা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। চীনের চাপিয়ে দেওয়া জাতীয় নিরাপত্তা আইনের অধীনে এই সাজা দেওয়া হয়, যা হংকংয়ে ভিন্নমত দমনের একটি বড় উদাহরণ বলে মনে করা হচ্ছে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী সাম্প্রতিক চীন সফরে প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং-এর সঙ্গে সরাসরি জিমি লাইয়ের বিষয়টি উত্থাপন করেন এবং চীনা সরকারের কাছে যুক্তরাজ্যের উদ্বেগের কথা জানান। সাজা ঘোষণার পর সরকার দ্রুত কূটনৈতিক উদ্যোগ আরও জোরদার করবে বলে জানানো হয়েছে।
স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ বলেন, “এই দেশ সবসময় হংকংয়ের জনগণের প্রতি আমাদের ঐতিহাসিক দায়িত্ব পালন করবে। ২০২১ সাল থেকে আমরা প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার হংকংবাসীকে নিরাপদ আশ্রয় দিয়েছি। অধিকার ও স্বাধীনতার অবনতির প্রেক্ষাপটে আরও বেশি পরিবারকে যুক্তরাজ্যে নতুন জীবন গড়ার সুযোগ দিতে আমরা এই পথ সম্প্রসারণ করছি।”
তিনি আরও বলেন, “সীমান্তে শৃঙ্খলা ফেরানো যেমন জরুরি, তেমনি প্রকৃত বিপদে থাকা মানুষের পাশে দাঁড়ানো ব্রিটিশ মূল্যবোধের অংশ।”
পররাষ্ট্র মন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, “হংকংয়ে গণতান্ত্রিক অধিকার ও স্বাধীনতা ক্ষয়ে গেলেও সেখানকার মানুষের প্রতি আমাদের সমর্থন অটুট থাকবে। বয়সজনিত কারণে যারা আগে সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়েছিল, এই সম্প্রসারণ তাদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করবে।”
সরকার জানায়, আশ্রয় ব্যবস্থার সবচেয়ে বড় সংস্কারের অংশ হিসেবে যুদ্ধ ও নিপীড়নের শিকার প্রকৃত শরণার্থীদের জন্য নতুন মানবিক অভিবাসন পথ চালু করা হবে। এতে বিপজ্জনক নৌযাত্রার বিকল্প হিসেবে নিরাপদ ও বৈধ প্রবেশাধিকার তৈরি হবে।
বর্তমানে BN(O) রুট চালুর পর থেকে ২ লাখ ৩০ হাজারের বেশি মানুষ ভিসা পেয়েছেন এবং প্রায় ১ লাখ ৭০ হাজার হংকংবাসী ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে বসবাস শুরু করেছেন।
এছাড়া, ইউক্রেন যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে যুক্তরাজ্য ইতোমধ্যে ৩ লাখ ১০ হাজার ইউক্রেনীয় নাগরিককে আশ্রয় দিয়েছে। ২০২১ সাল থেকে ৩৭ হাজারের বেশি আফগান নাগরিক ও তাদের পরিবারকেও স্বাগত জানানো হয়েছে, যাদের মধ্যে ১২ হাজারের বেশি ব্যক্তি ব্রিটিশ বাহিনীর সঙ্গে কাজ করেছিলেন।
