বিএনপি সমর্থকদের সন্ত্রাসী হামলায় স্বতন্ত্র প্রার্থীর নারী, পুরুষসহ ৮ জন আহত

বাংলাদেশ চিত্র
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ০২:৩৯ এএম

জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরদিন বিএনপি’র ধানের শীষের সমর্থকদের সন্ত্রাসী হামলা ও বেধড়ক পিটুনিতে স্বতন্ত্র প্রার্থীর অন্তত ৮ জন নারী-পুরুষ কর্মী সমর্থককে রক্তাক্ত জখম করা হয়েছে। শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার দিকে সাতক্ষীরার কালীগঞ্জ উপজেলার ফতেপুর বাঁশতলা এলাকায় এঘটনা ঘটে। ঘটনার পর কালিগঞ্জ থানার অফিসার ইনচার্জ ওসিসহ সঙ্গীয় ফোর্স একাধিকবার ঘটনাস্থলে যান।

সন্ত্রাসী হামলায় গুরুতর আহতরা হলেন দক্ষিণ শ্রীপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি আনোয়ারুল ইসলাম আকুল মেম্বর (৫০), একই এলাকার আব্দুস সাত্তার (৬২), মীর শাহিনুর রহমান (৪০), শফিউল আজম (৪৮), হাসানুজ্জামান লিটনের স্ত্রী অজিফা বেগম (২৪) ,মীর মনিরুল ইসলামের স্ত্রী নাজমা বেগম (৩৪), আকুল মেম্বারের পুত্র সাদিকুল ইসলাম (২০), এবং মীর শাহিনুর রহমানের স্ত্রী ইউনিয়ন যুবদলের আহবায়ক মরিয়ম খাতুন (২৬)।

প্রত্যক্ষদর্শীদের আবদুল ওহাব, রফিকুল ইসলাম ও আহত আব্দুস সাত্তার জানান, সদ্য সমাপ্ত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আহতরা গরিবের ডাক্তার খ্যাত অধ্যাপক ডাঃ শহিদুল আলম স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ফুটবল প্রতীকে নির্বাচন করায় তার কর্মী সমার্থক ছিলেন। এ নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের দায়ে ডাঃ শহিদুল আলমসহ তার পক্ষে থাকা প্রায় ৩ শতাধিক বিএনপির নেতাকর্মীকে দল থেকে পর্যায়ক্রমে বহিষ্কার করা হয়। বহিষ্কারাদেশ মাথায় নিয়ে বহু নেতাকর্মী, সমর্থক স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে ফতেপুর মোজাম মোড় অফিসে কাজ করেন।

যে কারণে গত বৃহস্পতিবার অর্থাৎ (১২ ফেব্রুয়ারি ) জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির দলীয় প্রার্থী আলহাজ্ব কাজী আলাউদ্দিন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে বিপুল ভোটে পরাজয় বরণ করেন। তবে সম্মান জনক ভোট নিয়ে পরাজয় হয় ডা: শহিদুল আলম এর।

এনির্বাচনে পরাজয়কে ঘিরে ২ প্রার্থীর কর্মী সমার্থকদের মধ্যে একে অপরকে দোষারোপের ও উত্তেজনা চলছিল। এরই মধ্যে পূর্ব পরিকল্পিত ভাবে বিএনপি’র কাজি আলাউদ্দিনের পক্ষের কর্মী নুরুজ্জামান পাড়ের নেতৃত্বে, আমিরুল ইসলাম , জিল্লুর রহমান, হাফিজুর রহমান, সিরাজুল ইসলামসহ ১৫/১৬ জনের একটি সন্ত্রাসী গ্রুপ অবৈধ অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে কাউকে কোন কিছু বুঝে উঠার আগেই অতর্কিত ভাবে বেধড়ক পিটিয়ে ও কুপিয়ে রক্তত্ব জখম করে স্বতন্ত্র প্রার্থী ডাঃ শহিদুল আলমের সমর্থকদের।

এসময় স্থানীয়রা এগিয়ে এসে রক্তাক্ত ৬ জনকে উদ্ধার করে রাত ৯ টার দিকে কালিগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। বাকি দু,জনকে প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়া হয় বলে জানান স্থানীয়রা। এরিপোর্ট লেখা পর্যন্ত উভয় গ্রুপের সমর্থকদের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছিল। যেকোনো মুহূর্তে ফের দুই পক্ষের রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান স্থানীয়রা। এবিষয়ে রোববার রাতে কালিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি জুয়েল হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে আহতরা অভিযোগ দায়ের করেছেন। আমরা ক্ষতিয়ে দেখছি। ঘটনার সাথে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

বাংলাদেশ চিত্র অনলাইন এর সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন