প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস শহীদ শরীফ ওসমান হাদির পরিবারকে একটি ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করেছেন। প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় হাদির স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে এই দলিল ও চাবি হস্তান্তর করা হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, যমুনায় হাদির স্ত্রী ও পরিবারের সদস্যদের উপস্থিতিতে জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষ কর্তৃক রাজধানীর লালমাটিয়া এলাকায় এই রেডি ফ্ল্যাটের দলিল ও চাবি হস্তান্তর করেছেন প্রধান উপদেষ্টা।
এ সময় গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, তথ্য উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. নজরুল ইসলাম এবং জাতীয় গৃহায়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান ফেরদৌসী বেগম উপস্থিত ছিলেন।
হাদির পরিবারকে মোট ২ কোটি টাকা আর্থিক সহায়তা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। এর মধ্যে ঢাকায় একটি ফ্ল্যাট কেনার জন্য ১ কোটি টাকা এবং জীবিকা নির্বাহের সহায়তা হিসেবে আরও ১ কোটি টাকা প্রদানের আশ্বাস দেওয়া হয়।
প্রসঙ্গত, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তফশিল ঘোষণার পরদিন গত ১২ ডিসেম্বর হাদিকে গুলি করে দুর্বৃত্তরা। পরে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এভারকেয়ার হাসপাতাল নেওয়া হয়। সবশেষ সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। গত ১৮ ডিসেম্বর রাতে প্রাণ হারান হাদি।
ফ্ল্যাট হস্তান্তরের প্রতিক্রিয়ায় ওসমান হাদির স্ত্রী রাবেয়া ইসলাম শম্পা ফেসবুক পোস্টে লিখেছেন, ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার আজকে তার বাসভবনে ফিরনাসকে এবং আমাকে তার সাথে সাক্ষাৎ করার জন্য ডেকেছিলেন ১২টায়। সেই আসা হলো মাঝখানে আমার ইনকিলাবের ভাইবোনগুলোকে নির্যাতনের স্বীকার হতে হলো। এতে স্পষ্ট বোঝা যায় এক পক্ষ এখনো সরকারের মধ্যে, যারা হাসিনার দোসর। যা-ই হোক আসার উদ্দেশ্য জানা ছিল না, পরে বুঝতে পেরেছি, ফিরনাসের দেখাশোনার জন্য ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূস স্যার যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, সেগুলোর কাগজপত্র হস্তান্তরের জন্য আমাদের আসতে বলা। আমি তাঁকে স্পষ্ট করে বলেছি, আপনি কি আমার স্বামীর বিচারের ব্যাপারে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবেন, না হলে আমার ফিরনাস কোনো কিছুই গ্রহণ করবে না। তিনি আমাকে আশ্বস্ত করেছেন যে তাঁর হাতে যত কিছু আছে, ইনফ্যাক্ট জাতিসংঘের তত্ত্বাবধানে যেভাবেই হোক এর সর্বশেষ পর্যন্ত তিনি যাবেন হাদিকে সঠিক বিচার পাইয়ে দিতে।’
রাবেয়া ইসলাম আরও লেখেন, ‘আমার ভাইবোনগুলোর ওপরে যে হামলা করা হয়েছে, তাতেও তিনি দুঃখ প্রকাশ করেছেন। আমার জীবন, চাকরি এগুলোর ব্যাপারে জিজ্ঞেস করাতে আমি বলে দিয়েছি যে আমি আমার নিজের যোগ্যতা দিয়ে জব নেব। আপনি ফিরনাসের জন্য করেছেন, অনেক শুকরিয়া। তিনি পুরোপুরি আশ্বাস দিয়েছেন, তিনি আন্তর্জাতিকভাবে এই হত্যার তদন্তের ব্যাপারে সর্বোচ্চ সহায়তা করবেন। সে আশ্বাস পেয়ে, এরপরেই আমি ওখান থেকে এসেছি।’
